লিওনেল মেসিকে নিজেদের লিগে টেনে নিতে এত মরিয়া হওয়ার পেছনে মেজর লিগ সকারের উদ্দেশ্যই তো এমন ছিল। সহজ হিসেব, মেসি যাবেন তাদের লিগে, আর আর্জেন্টাইন মহাতারকার টানে লাখো দর্শক হাজির হবেন মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) স্টেডিয়াম থেকে স্টেডিয়ামে।
সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান দেখলে মানতে হবে, উদ্দেশ্যটা সাফল্যের মুখই দেখছে। এমএলএসকে যেন ‘জাতে’ তুলছেন মেসি! গতকালই এমএলএস জানিয়েছে, এবারই প্রথমবার লিগে মোট দর্শকের সংখ্যা ১ কোটি ১০ লাখের রেকর্ড ছাড়িয়েছে!
গত মৌসুমের শেষদিকে মেসি যোগ দিয়েছিলেন এমএলএসের ক্লাব ইন্টার মায়ামিতে, তাতেই গত মৌসুমে লিগে দর্শক হয়েছিল ১ কোটি ৯ লাখ। তখন পর্যন্ত সেটিই ছিল রেকর্ড। এবার সেই রেকর্ড তো পেরিয়ে গেছেই, এবং রেকর্ডটা আরও সামনে গিয়ে ঠেকবে – এটাও সম্ভবত বলে দেওয়াই যায়। এখনো যে লিগে ১৬টি ম্যাচ বাকি! এর সঙ্গে এমএলএস কর্তৃপক্ষের একটা আফসোসও থাকতে পারে – ইশ, মেসি যদি চোটে এতটা সময় মাঠের বাইরে না থাকতেন!
তবে যা হয়েছে, তাতেও এমএলসের জাতে ওঠার প্রমাণ স্পষ্ট। গতকাল বিবৃতিতে রেকর্ডের ঘোষণা দিয়ে এমএলএস জানিয়েছে, এই মৌসুমে ম্যাচপ্রতি গড়ে ২৩২৪০ জন দর্শক মাঠে এসেছেন।
তা এত দর্শক উপস্থিতি বেড়ে যাওয়ার কারণ কী? শুধুই মেসির আগমণ? সেটা সবচেয়ে বড় কারণ – এ নিয়ে কোনো সংশয় নেই, তবে মেসির পাশাপাশি তো এমএলএসে মেসিরই দলে লুইস সুয়ারেস, সের্হিও বুসকেতস, ইয়োর্দি আলবা আর আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি ফের্নান্দো রেদোন্দোর ছেলে – বর্তমান উঠতি প্রতিভা – ফেদেরিকো রেদোন্দো আছেন। লস অ্যাঞ্জেলস এফসিতে অলিভিয়ে জিহু, এলএ গ্যালাক্সিতে মার্কো রয়েস ও বার্সার সাবেক মিডফিল্ডার রিকি পুচ আছেন। টরন্টো এফসিতে আছেন লরেনসো ইনসিনিয়ে ও ফেদেরিকো বের্নারদেসকি, নিউ ইয়র্ক রেড বুলসে এমিল ফর্সবার্গ, হিউস্টন ডায়নামোতে এক্তর এরেরা, ডিসি ইউনাইটেডে ক্রিস্তিয়ান বেনতেকে…।
এমএলএসের বিবৃতিতে লেখা, ‘আন্তর্জাতিক তারকাদের আগমন আর সমর্থকদের জন্য আকর্ষণীয় টিকিট প্যাকেজ তৈরি ও ম্যাচের দিনের আতিথেয়তায় উন্নতি আনতে ক্লাবগুলোর নিরন্তর পরিশ্রমই এমএলএসে নিয়মিত এমন রেকর্ডভাঙা দর্শক আগমণের কয়েকটি বড় কারণ।’
কথাটা উড়িয়ে দেওয়া যায় না, এ নিয়ে টানা তিন মৌসুমে যে ১ কোটির ওপর দর্শক দেখেছে এমএলএস! মেসি যাওয়ার পর সংখ্যাটা আরও দ্রুত বাড়ছে আর কী!
তা এমএলএস জাতে তো উঠছে, কিন্তু ইউরোপের সেরা পাঁচ লিগের তুলনায় কতটা পিছিয়ে এখনো? এ ব্যাপারে পরিসংখ্যানবিষয়ক বিশ্বস্ত ওয়েবসাইট স্ট্যাটিস্টার একটা প্রতিবেদন ধারণা দিতে পারে। ইউরোপের সেরা পাঁচ লিগে (প্রিমিয়ার লিগ, লা লিগা, সেরি আ, বুন্দেসলিগা, লিগ আঁ) সর্বশেষ মৌসুম, অর্থাৎ ২০২৩/২৪ মৌসুমের পরিসংখ্যান ঘেঁটে স্ট্যাটিস্টা জানাচ্ছে, গত মৌসুমে ইউরোপে সেরা লিগগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দর্শক হয়েছে জার্মান বুন্দেসলিগায় – ম্যাচপ্রতি গড়ে ৩৯ হাজার ৫০৬ জন।
এরপরই আছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ – ম্যাচপ্রতি গড়ে দর্শক হয়েছে ৩৮ হাজার ৫৫৭ জন। গড়ে প্রতি ম্যাচে ২৯ হাজার ৭৬ জন দর্শক নিয়ে তালিকার তিন নম্বরে থাকছে স্প্যানিশ লা লিগা। চারে ইতালির সেরি আ, সেখানে ম্যাচপ্রতি গড় দর্শক ৩০ হাজার ৯১৬ জন। ফরাসি লিগ আঁ-তে ম্যাচপ্রতি গড় দর্শক এমএলএসের এই মৌসুমের গড় দর্শকের চেয়ে কিছুটা বেশি – ২৭ হাজার ২৩ জন।
লিগে বাকি ১৬ ম্যাচ আর মেসির উপস্থিতিতে এমএলএসের গড়ও আরও বাড়ে কি না, সেটিই এখন দেখার। অবশ্য লিগের গড় দর্শক ২৩ হাজারের কিছু বেশি হলেও মেসির টানেই যে এমএলএসে দর্শকের ঢল নামছে, সেটা বোঝা যায় মেসির ক্লাব ইন্টার মায়ামির ম্যাচের দর্শকসংখ্যা দেখলে। মেসি খেলেছেন, এমন ম্যাচগুলোতে যে স্টেডিয়ামে ঢল নামে! স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতাও তো একটা ব্যাপার, মেসির ইন্টার মায়ামির স্টেডিয়ামে দর্শক ধারণক্ষমতাই যেমন মাত্র ২১ হাজার ৫৫০!
ইএসপিএন জানাচ্ছে, ১৩ এপ্রিল স্পোর্টিং কানসাস সিটির বিপক্ষে মেসি খেলেছিলেন ইন্টার মায়ামির হয়ে, সে ম্যাচে দর্শক হয়েছিল ৭২ হাজার ৬১০ জন! ২৭ এপ্রিল নিউ ইংল্যান্ড রেভোল্যুশান আর মেসির মায়ামির ম্যাচে দর্শক হয়য় ৬৫ হাজার ৬১২ জন! মেসির দলের বাইরেও যে দর্শক হয় না, তা নয়, তবে সেটা বিশেষ দিনক্ষণ দেখে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস অর্থাৎ ৪ জুলাইতে লস অ্যাঞ্জেলসের দুই দল এলএ এফসি আর এলএ গ্যালাক্সির ডার্বিতে দর্শক হয়েছিল ৭০ হাজার ৭৬ জন।