মেয়েদের সাফজয়ী কোচকে নিয়ে মাহফুজা আক্তার

‘বাংলাদেশে এ যাবৎ যত কোচ এসেছে, তার মধ্যে সে সেরা কোচ’  

মেয়েদের দল এবার টানা দ্বিতীয় সাফ জেতার আনন্দ যেমন আছে বাংলাদেশের ফুটবলে, এর অন্য পিঠে সাফ চলার সময়ে দলের কোচ পিটার বাটলারের সঙ্গে দলের সিনিয়র খেলোয়াড়দের দ্বন্দ্ব নিয়ে বিতর্কও আছে। মেয়েদের দল সাফ জেতার পরদিনই শোনা গিয়েছিল, ইংলিশ এই কোচ বাংলাদেশ মেয়েদের দলের সঙ্গে আর থাকছেন না। সংবাদমাধ্যমে বাটলার নিজেও তেমন ইঙ্গিতই দিয়েছেন।

তবে বাফুফের বর্তমান কমিটির সদস্য এবং আগের কমিটিতে নারী উইংয়ের প্রধান মাহফুজা আক্তার কিরণ আজ বলেছেন, বাটলারকে তাঁরা রেখে দিতে চান। যদিও সেটা মেয়েদের দলের কোচ হিসেবেই নাকি এলিট একাডেমির কোচ হিসেবে, সেটা অবশ্য স্পষ্ট নয়। তবে বাটলারকে এ যাবত বাংলাদেশে আসা কোচদের মধ্যে সেরার স্বীকৃতি দিয়েছেন মাহফুজা আক্তার কিরণ।

সংবাদমাধ্যমে আজ মাহফুজা আক্তার কিরণ বলেছেন, ‘কোচকে আমি বলেছি, আমার সাথে বসে তোমার যে সিদ্ধান্ত সেটা জানাবে। অবশ্যই আমরা তাকে রাখতে চাই। অনেক ভালো কোচ। বাংলাদেশে এ যাবৎ যত কোচ এসেছে, তার মধ্যে সে সেরা কোচ।’

এক সময়ে প্রিমিয়ার লিগে ওয়েস্ট হ্যামের হয়ে খেলা বাটলার কেন সেরা, সে ব্যাখ্যাও দিয়েছেন মাহফুজা আক্তার, ‘যত কোচ আসছে, অধিকাংশই বই পড়ে কোচ হয়েছে। উনি ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলা কোচ। পার্থক্য এখানেই। আমরা চেষ্টা করব তাকে রাখতে।’ তবে বাটলারকে রাখতে গেলে সরকারের কাছ থেকে সহযোগিতা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন মাহফুজা আক্তার।

বাটলারকে অবশ্য মেয়েদের দলের কোচ হিসেবে রাখা হবে নাকি এলিট একাডেমির কোচ হিসেবে, সে ব্যাপারে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়নি মাহফুজা আক্তারের কথায়। বাংলাদেশে বাটলার এসেছেন এলিট একাডেমির কোচ হিসেবে, গত জানুয়ারিতে শুরু হওয়া সেই চুক্তির মেয়াদ আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত। এলিট একাডেমির কাজের মধ্যেই সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য তাঁর হাতে মেয়েদের দলের দায়িত্ব তুলে দেন সাবেক বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন।

শেষ পর্যন্ত বাটলার থাকবেন কি না, থাকলে কোন দায়িত্বে সেটা ভবিষ্যত বলবে। অতীত বলছে, মেয়েদের দলে তাঁকে নিয়ে বিতর্ক আছে। তবে সাফের সময়ে সিনিয়র খেলোয়াড়দের সঙ্গে বাটলারের বিতর্ককেও খুব বেশি বড় করে দেখাতে রাজি নন মাহফুজা আক্তার, ‘বাটলার চেয়েছিলেন জুনিয়র কয়েকজন ভালো করছে, তাদের খেলাতে। সিনিয়ররা সেটা পছন্দ করেনি, তারা খেলতে চেয়েছিল। এটা নিয়ে নিজেদের মধ্যে ঝামেলা হয়েছিল। টুর্নামেন্ট চলাকালীন মেয়েরা যে অভিযোগ করেছে কোচের বিরুদ্ধে, সেটা আমি তখনি সামলে নিয়েছি। আসলে মেয়েদেরটাও কাউন্ট করা (কথাগুলো গুরুত্ব দেওয়া) ঠিক না, কোচেরটাও নয়।’