ইউরোপের সেরা পাঁচ লিগে তিনি আর নেই, এখন কোচিং করাচ্ছেন তুরস্কের ক্লাব ফেনেরবাচেতে। তবে জোসে মরিনিওর কোচিংয়ের ধার কিছুটা কমেছে মনে হলেও শব্দের ধারে কোনো নড়চড় হয়নি। তুরস্কের ফুটবলে আজ রেফারিং, কাল সম্প্রচারের মান নিয়ে তো তোলপাড় লাগাচ্ছেনই, এর ফাঁকে গতকাল আবার মরিনিও খোঁচা মেরেছেন এক সময়ের তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বী ও বর্তমানে ম্যানচেস্টার সিটিতে ঝামেলার মধ্যে থাকা কোচ পেপ গার্দিওলাকে।
ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে স্পনসরশিপের চুক্তির বিনিময়ে পাওয়া অর্থের অঙ্ক ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে দেখানোসহ মোট ১১৫টি অনিয়মের মামলা চলছে আদালতে। সম্প্রতি গার্দিওলার এক মন্তব্যের জবাবে খোঁচা মারতে গিয়ে মরিনিও সেই মামলার সংখ্যাকে টেনে এনে বলেছেন, মাথার ওপর এত মামলার চিন্তা নিয়ে গার্দিওলার মতো শিরোপা জিততে চাইতেন না তিনি।
মরিনিওর হঠাৎ এ নিয়ে কথা বলতে হলো গার্দিওলারই এক মন্তব্যের প্রেক্ষিতে। প্রিমিয়ার লিগে গার্দিওলা ইদানিং শান্তিতে নেই। গত পরশু নটিংহ্যাম ফরেস্টের বিপক্ষে ৩-০ গোলে জিতেছে বটে গার্দিওলার সিটি, তবে সে জয়টা এসেছে লিগ ও চ্যাম্পিয়নস লিগ মিলিয়ে টানা ৭ ম্যাচে জয়খরার পর!
এভাবে ম্যাচের পর ম্যাচ জয়হীন তো এর আগে ক্যারিয়ারে কখনো থাকেননি গার্দিওলা, সেটি তাঁর আচরণেও প্রভাব ফেলছে। মাঝে দেখা গেল, তাঁর মুখজুড়ে নখের আঁচড়ের দাগ। যেগুলো নিজেই হতাশায় করে বসেছেন বলে স্বীকার করেছেন গার্দিওলা। এরপর গত রোববার লিভারপুলের বিপক্ষে ম্যাচে দর্শকের খোঁচার জবাবে হাতের ছয় আঙুল দেখিয়ে তিনি লিভারপুল সমর্থকদের বুঝিয়েছেন, তিনি ছয়টি প্রিমিয়ার লিগ জিতেছেন!
যা মনে করিয়ে দিয়েছিল মরিনিওর স্মৃতি। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কোচ থাকার সময়ে একের পর এক ম্যাচে হতাশাজনক ফলের পর সংবাদ সম্মেলনে তাঁকে নিয়ে প্রশ্নে মরিনিও একবার মনে করিয়ে দিয়েছিলেন, তিনি তিনটি প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জিতেছেন, তাই তাঁকে সম্মান করে কথা বলা উচিত। এর কিছুদিন পরই ছাঁটাই হয়ে যান মরিনিও।
নটিংহ্যাম ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে মরিনিওর সেই প্রসঙ্গ টেনেই এক সাংবাদিক গার্দিওলাকে মনে করিয়ে দেন, মরিনিও এর কয়েক মাস পরই ছাঁটাই হয়েছিলেন। সেটির জবাবে গার্দিওলা বলেন, ‘আশা করি আমার ক্ষেত্রে তা হবে না। তিনি তিনটি (লিগ শিরোপা) জিতেছিলেন, আমি জিতেছি ছয়টি। তবে এক দিক (শিরোপার সংখ্যা মনে করানোর ব্যাপারে) থেকে আমরা একইরকম। এটা আসলে আমাদের সমর্থকদের আরেকবার অনুভূতিটা দেওয়া যে আমরা কী অসাধারণ কিছু অর্জন করেছি।’
তাঁর ছাঁটাই হওয়ার সম্ভাবনার প্রসঙ্গে এরপর গার্দিওলা বলেন, ‘আমি প্রমাণ করতে চাই যে আমাদের ক্লাবটা একটা অসাধারণ ফুটবল ক্লাব। একদিন না একদিন তো (সিটিতে তাঁর অধ্যায়) শেষ হবেই, তবে ক্লাবের ভালোর জন্য আমি এটা যতটা সম্ভব টেনে নিয়ে যেতে চাইব।’
তা গার্দিওলা বলেছেন, মরিনিও তিনটি লিগ জিতেছেন, তিনি ছয়টি – এরপর সংবাদমাধ্যমে মুখরোচক খবর হতে আর কী লাগে! এদিকে ইংল্যান্ডে গার্দিওলা কথাটা বলেছেন, ওদিকে তুরস্কে মরিনিওকে প্রশ্ন হলো গার্দিওলার মন্তব্য নিয়ে। মরিনিও-ও তো সহজে ছেড়ে দেওয়ার পাত্র নন!
ইংলিশ দৈনিক ডেইলি মেইলে পর্তুগিজ কোচের ছাঁচাছোলা উত্তর, ‘গার্দিওলা গতকাল আমার ব্যাপারে কিছু কথা বলেছেন। তিনি ছয়টি ট্রফি জিতেছেন, আমি তিনটি। তবে আমি না ওগুলো ন্যায্যভাবে আর প্রশ্নাতীতভাবে জিতেছিলাম। আমি যখন (শিরোপার দৌড়ে) হেরে যাই, প্রতিপক্ষকে আমি অভিনন্দন জানাই, কারণ এর মানে হলো ওরা আমাদের চেয়ে ভালো ছিল। তবু আমি কখনোই মাথার ওপর ১৫০টা মামলার ঝক্কি মাথায় নিয়ে জিততে চাই না।’
১৫০ মানে, সিটির বিরুদ্ধে ১১৫টি মামলাকেই কথার কথায় বুঝিয়েছেন আর কী! খোঁচা মারার সময় কে এত সংখ্যা নির্দিষ্ট রাখার কথা মাথায় রেখে খোঁচা মারে!