রেয়াল মাদ্রিদ থাকতে চায় ৮-এ, আপাতত ১৮-তেই খুঁজে নিচ্ছে স্বস্তি

৫ ম্যাচে ২ জয়ের বিপরীতে ৩ হার- ৬ পয়েন্ট নিয়ে তালিকায় ২৪ নম্বরে। গতকাল মঙ্গলবারের আগ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়নস লিগে এটাই ছিল রেয়াল মাদ্রিদের পরিসংখ্যান। ইউরোপ সেরার লড়াইয়ের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল দলটির সঙ্গে এমন পরিসংখ্যান মোটেও যাচ্ছিল না। খাদের কিনারে থাকা স্প্যানিশ ক্লাবটির গতকালের ম্যাচটি ছিল আবার আতালান্তার বিপক্ষে।

চলতি মৌসুমে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা আতালান্তা ইতালিয়ান সেরি আ-তে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষস্থানে। তারওপর ম্যাচটা আতালান্তার ঘরের মাঠে। সবমিলিয়ে মাদ্রিদের জন্য বড় হুমকিই অপেক্ষা করছিল। সব শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে জমে ওঠা ম্যাচে আতালান্তাকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়েছে স্প্যানিশ ক্লাবটি। মাদ্রিদের হয়ে গোল তিনটি করেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও জুড বেলিংহাম।

গত শনিবার রাতে লা লিগার ম্যাচে জিরোনাকে হারানোর পর কার্লো আনচেলত্তি বলেছিলেন, ‘রেয়াল মাদ্রিদ ফিরেছে।’ গতকাল এমবাপ্পে-ভিনিসিয়ুসের পারফরম্যান্সে অবশ্য পুরোপুরি সেটা বলার সুযোগ না থাকলেও জয়টা নিশ্চিত ভাবেই স্বস্তি দেবে আনচেলত্তিকে।

গত দুই সপ্তাহের বেশি সময় চোটের কারণে মাঠের বাইরে থাকা ভিনিসিয়ুস এ ম্যাচ দিয়েই মাঠে ফিরেছেন। তবে গতকালের ম্যাচে আবার চোট পেয়েছেন ফরাসি স্ট্রাইকার এমবাপ্পে। মাঠ ছাড়ার আগে দারুণ একটা গোল করে মাদ্রিদকে প্রথম এগিয়ে দিয়েছেন এমবাপ্পেই। ম্যাচের ১০ মিনিটে ব্রাহিম দিয়াসের পাস থেকে আতালান্তার জালে বল জড়ান ২৫ বছর বয়সী তারকা। চ্যাম্পিয়নস লিগে এটি এমবাপ্পের ৫০তম গোল।

ইউরোপ সেরার লড়াইয়ে নবম ফুটবলার হিসেবে এ মাইলফলক ছুঁলেন এমবাপ্পে। বয়সের হিসেবে ফরাসি স্ট্রাইকারের (২৫ বছর ৩৫৬ দিন) চেয়ে দ্রুত ৫০ গোল করতে পেরেছিলেন শুধু লিওনেল মেসি (২৪ বছর ২৮৪ দিন)। আর ম্যাচের হিসেবে গেলে এমবাপ্পে চতুর্থ দ্রুততম (৭৯ ম্যাচ)। এমবাপ্পের চেয়ে কম ম্যাচ খেলে চ্যাম্পিয়ন লিগে ৫০ গোলের কীর্তি ছোঁয়ার তালিকায় আছেন যথাক্রমে রুড ফন নিস্তেলরয় (৬২ ম্যাচ), লিওনেল মেসি (৬৬ ম্যাচ) ও রবের্ত লেভানদফস্কি (৭৭ ম্যাচ)।

মাইলফলক ছোঁয়ার পর ম্যাচের ৩৬ মিনিটে উরুর চোটে মাঠ ছাড়েন এমবাপ্পে। রেয়ালের জন্য আর বড় ধাক্কা আসে প্রথমার্ধের যোগ করা মুহূর্তে। নিজেদের বক্সে মারিও পরিসালিচকে ফাউল করেন চুয়োমেনি। পেনাল্টি পায় আতালান্তা। স্পটকিক থেকে আতালান্তাকে সমতায় (১-১) ফেরান চালর্স দে কেতেলায়ের।

বিরতির পর অবশ্য ম্যাচে ফিরতে সময় নেয়নি মাদ্রিদ। ম্যাচের ৫৬ মিনিটে স্কোরলাইন ২-১ করেন ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার। ৩ মিনিটের ব্যবধানে আবারও গোলের দেখা পায় মাদ্রিদ। ভিনিসিয়ুসের অ্যাসিস্টে এবার গোলের খাতায় নাম লেখান বেলিংহাম।

৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পরেও মাদ্রিদকে স্বস্তিতে থাকতে দেয়নি আতালান্তা। ৬৫ মিনিটে ব্যবধান কমিয়ে (৩-২) ম্যাচ জমিয়ে তোলেন দলটির নাইজেরিয়ান স্ট্রাইকার আদেমোলা লুকমান। ম্যাচের শেষ পর্যন্ত কয়েকদফা চেষ্টা চালালেও আর গোলের দেখা পায়নি ইতালিয়ান ক্লাবটি। এতে পূর্ণাঙ্গ ৩ পয়েন্ট নিয়েই মাঠ ছাড়ে মাদ্রিদ।

ম্যাচ শেষে স্বস্তি প্রকাশ করে মাদ্রিদ কোচ আনচেলত্তি বলেছেন, ‘ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ জয়। সঙ্গে তিন পয়েন্ট। ক্রিসমাসের আগে মনোবল বাড়াতে এটা দরকার ছিল। (চোটে থাকা) খেলোয়াড়দের ফিরে পাচ্ছি। ভিনিসিয়ুস, রদ্রিগো আজ খেলেছে, কামাভিঙ্গাকেও পাচ্ছি সামনে।’

এ জয়ে ৬ ম্যাচে ৯ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার ১৮ নম্বরে উঠে এসেছে মাদ্রিদ। সমান ম্যাচে ১১ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার নবম স্থানে আতালান্তা। তবে মাদ্রিদ কোচের ভাষ্য, তাঁদের লক্ষ্য শীর্ষ আট থেকে লিগ পর্ব শেষ করা, ‘আমাদের শীর্ষ আটে থাকা উচিত ছিল। লক্ষ্যটা পরিষ্কার। আমাদের হাতে দুটো ম্যাচ আছে, দুটোতেই জিততে হবে।’

এমবাপ্পের চোট নিয়ে মাদ্রিদ কোচের ভাষ্য, ‘ওর চোট নিয়ে আমার তেমন কোনো ধারণা নেই। তবে আশা করি, এটা তেমন ভোগাবে না।’