ম্যানচেস্টার সিটি খেলতে নামবে এবং ম্যাচটা হেরে যাবে- এটা যেন নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ থেকে পরিসংখ্যান সেটাই বলছে। জয় তো দূরের কথা, কোনো মতে ড্র করতে পারলে সেটাকেই বরং সিটির বড় সাফল্য মনে হচ্ছিল!
গতকালের আগ পর্যন্ত সব ধরনের প্রতিযোগিতায় ১০ ম্যাচে সিটির ১ জয় আর ২ ড্রয়ের বিপরীতে ৭ হার সে কথাই বলে।
এই ধারাবাহিকতা গতকাল রোববারও বজায় রেখেছে সিটি। এবার হেরে গেছে নগর প্রতিদ্বন্দ্বী ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে। ঘরের মাঠ ইত্তিহাদে ৮৭ মিনিট পর্যন্ত এগিয়েই ছিল পেপ গার্দিওলার দল। মনে হচ্ছিল, ম্যানচেস্টার ডার্বিটা জিতে মোমেন্টাম বদলাতে যাচ্ছে সিটিজেনরা। কিন্তু ৩ মিনিটের ব্যবধানে ২ গোল দিয়ে ম্যাচটা ২-১ ব্যবধানে জিতে নেয় রুবেন আমোরিমের ইউনাইটেড।
দুঃসময়ের শেকলে আটকে পড়া সিটি গতকালের হারে ১৬ ম্যাচে ২৭ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের পঞ্চম স্থানে নেমে গেছে। শীর্ষে থাকা লিভারপুলের চেয়ে পিছিয়ে আছে ৯ পয়েন্টে। যদিও অলরেডরা একটা ম্যাচ কম খেলেছে। অন্যদিকে লিগে টানা দুই ম্যাচ হারের পর জয় পাওয়া ইউনাইটেড ১৬ ম্যাচে ২২ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার ১৩ নম্বরে।
একের পর এক ম্যাচে বিপর্যস্ত হওয়া সিটির এমন বেহাল দশার দায় শিষ্যদের ওপর না চাপিয়ে নিজের ওপর নিয়েছেন গার্দিওলা। ম্যাচ শেষে এই স্প্যানিয়ার্ড বলেছেন, তিনি যথেষ্ট ভালো কোচ নন বলেই এমন দশা সিটিজেনদের।
ঘরের মাঠে অবশ্য সিটির শুরুটা হয়েছিল দুর্দান্ত। প্রথমার্ধে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ফিল ফোডেন-বের্নাদো সিলভাদের হাতেই। ম্যাচের প্রথম গোলটাও প্রথমার্ধেই পায় গার্দিওলার দল। ম্যাচের ৩৬তম মিনিটে কর্নার থেকে ইলকায়ে গুন্দোয়ানের সঙ্গে ওয়ান-টু-ওয়ান করে বক্সের ভেতর ক্রস করেছিলেন কেভিন ডি ব্রুইনা। সে ক্রসে দারুল এক হেডে সিটিকে এগিয়ে (১-০) দেন গাভার্দিওল।
দ্বিতীয়ার্ধে ইউনাইটেড ম্যাচে ফেরার জোর চেষ্টা চালালে উত্তাপ আরও বেড়ে যায়। সিটিও ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল। ফিল ফোডেনের অন্তত দুটি প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয় লক্ষ্যভ্রষ্ট শটে। বিপরীতে ব্রুনো ফের্নান্দেস একবার সিটি গোলকিপার এদেরসনকে একা পেয়েও গোল করতে পারেননি। আক্রমণ-প্রতি আক্রমণ থাকলেও কোনোভাবে আর গোল না হওয়ায় এবারের ডার্বি সিটির বলেই মনে হয়েছিল।
কিন্তু ৮৮ মিনিটে শিশুতোষ ভুল করে বসেন সিটি মিডফিল্ডার ম্যাথুউস নুনেস। গতকাল লেফট ব্যাকে খেলা এ পর্তুগিজ মিডফিল্ডার ব্যাকপাস দিতে গিয়ে ভুল করে বসেন। সেটা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এগিয়ে আসা গোলকিপার এদেরসনকে ড্রিবল করতে যান আমাদ দিয়ালো। পিছন থেকে দৌড়ে এসে বক্সের ভেতর দিয়ালোকে ফাউল করে বসেন নুনেস। উপহার পাওয়া পেনাল্টি থেকে গোল করে স্কোরলাইন ১-১ করেন ফের্নান্দেস।
এর দুমিনিট পর আবারও গোল পায় ইউনাইটেড। নিজেদের অর্ধ থেকে লিসান্দ্রো মার্তিনেসের বাড়ানো লম্বা থ্রো দারুণ দক্ষতায় নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বক্সের ভেতর ঢুকে পড়েন দিয়ালো। এগিয়ে আসা এদেরসনকে কাটিয়ে আড়াআড়ি শটে সিটির জালে বল জড়ান আইভরি কোস্টের ফরোয়ার্ড। দিয়ালোর শটটি বহুচেষ্টাতেও গোললাইন থেকে ফেরাতে পারেননি নুনেস-গাভার্দিওল। বলা চলে, হারটাও ঠেকাতে পারলেন না তারা।
গার্দিওলার অধীনে যে ক্লাব মাস দেড়েক আগেও উড়ছিল, তাদের এমন আশ্চর্যপতনের দায় পুরোটাই নিয়েছেন ক্লাবটির স্প্যানিশ কোচ। নতুন করে চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর এক মাস না যেতেই গতকাল গার্দিওলা জানালেন, তিনি ভালো কোচ নন।
সিটি কোচের ভাষায়, ‘আমি বস, আমি ম্যানেজার, আমিই ভালো না। সহজ কথা হচ্ছে, আমাকে একটা সমাধান খুঁজে বের করতে হবে। আমি সেটা মোটেও ভালোভাবে করতে পারছি না, এটাই সত্য।’
হারের দায় শিষ্যদের ওপর চাপাতেও নারাজ গার্দিওলা। নির্বিকার ভঙ্গিতে বলেছেন, ‘এ নিয়ে আমার কী বলার আছে? খেলোয়াড়দের ওপর দায় চাপিয়ে লাভ নেই। এ মৌসুমটাই আমাদের খুব কঠিন যাচ্ছে। আমরা আমাদের সেরা খেলাটা খেলতে পাচ্ছি না। আমরা আমাদের সেরা ফর্মে নেই। সে কারণে আমাদের ভুগতে হচ্ছে।’
গার্দিওলা যোগ করেন, ‘১১ ম্যাচে ৮ হার, এটা মোটেও স্বাভাবিক নয়। কোনো একটা ঝামেলা তো আছেই। অবস্থা ক্রমে আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। আমাকে সমাধান খুঁজে পেতেই হবে। আমি এখন পর্যন্ত সেটা খুঁজে পাইনি।’