বড় দিন যে সবার ভাগ্যে সৌভাগ্য বয়ে আনে না, সেটার সর্বশেষ উদাহরণ বোধহয় প্রিমিয়ার লিগের বড় দলগুলো। ‘বক্সিং’ ডে-তে গতকাল তুলনামূলক দুর্বল এভারটনকে পেয়েও ভাগ্য বদলাতে পারেনি ম্যানচেস্টার সিটি। প্রথমে এগিয়ে গিয়েও শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলে ড্র করেছে পেপ গার্দিওলার দল। এ নিয়ে সর্বশেষ ১৩ ম্যাচের ১২টিতেই পয়েন্ট খোয়ালো (৯ হার, ৩ ড্র) তারা।
সিটি তবুও ১ পয়েন্ট পেয়েছে। নগর প্রতিদ্বন্দ্বী ম্যান ইউনাইটেড তো হেরেই বসেছে উলভারহ্যাম্পটনের কাছে (২-০), দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই অধিনায়ক ব্রুনো ফের্নান্দেস লাল কার্ড দেখার পর গোল দুটি খেয়েছে ইউনাইটেড। আরেক জায়ান্ট চেলসিও ঘরের মাঠে একই ভাগ্য বরণ করেছে। ঘরের মাঠ স্টামফোর্ড ব্রিজে পালমারের গোলে এগিয়ে গেলেও শেষ ১৩ মিনিটে দুই গোল খেয়ে ফুলহ্যামের কাছে হেরেছে ২-১ ব্যবধানে। দ্বিতীয় গোলটা তো খেয়েছে যোগ করা ছয় মিনিট সময়ের পঞ্চম মিনিটে গিয়ে!
লিগ শিরোপা প্রত্যাশীদের এমন নাজেহাল অবস্থার দিনে ‘বক্সিং’ডে-র বক্স খুলে নিজেদের উপহার ঠিকই আদায় করেছে লিভারপুল। অ্যানফিল্ডে শুরুতে পিছিয়ে পড়েও দাপট দেখিয়ে ৩-১ ব্যবধানের জয় তুলে নিয়েছে আর্নে স্লটের শিষ্যরা।
বাকি দলগুলোর গায়ে যখন আঁচড় লেগেই চলেছে, লিভারপুলকে যেন কেউ আটকাতেই পারছে না! আগে থেকে প্রিমিয়ার লিগের পয়েন্ট তালিকায় সবার ওপরে ছিল লিভারপুল। গতকাল প্রতিদ্বন্দ্বীদের পয়েন্ট খোয়ানোর দিনে নিজেদের কাজটা ঠিকঠাকভাবে সেরে নিজেদের ধরাছোঁয়ার বাইরে নিয়ে যাচ্ছেন মোহাম্মদ সালাহ-কোদি খাকপোরা। গতকালের জয়ে ১৭ ম্যাচে ৪২ পয়েন্ট অলরেডদের। দুইয়ে থাকা চেলসির পয়েন্ট ১৮ ম্যাচে ৩৫। যদিও আর্সেনাল আজ ইপসউইচকে হারালে তারা ১৮ ম্যাচে ৩৬ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে উঠে যাবে, সে ক্ষেত্রে তাদের সঙ্গে লিভারপুলের ব্যবধান হবে ৬ পয়েন্ট।
তবে দুই নম্বরে চেলসিই থাকুক বা আর্সেনাল উঠুক, তাদের চেয়ে ৭ বা ৬ পয়েন্টে এগিয়ে থাকার পাশাপাশি লিভারপুলের বড় সুবিধা - তারা একটা ম্যাচ কম খেলেছে! অনেকেই তাই এখনই লিভারপুলকে লিগ শিরোপা দিয়ে দিচ্ছেন। কিন্তু মৌসুম শেষের আগে এখনই সে আনন্দে ভাসতে নারাজ স্লট।
গতকাল ম্যাচ শেষে গত দুই মাসে ম্যানচেস্টার সিটিরই উদাহরণ টেনে লিভারপুল কোচ স্লট বলেছেন, ‘সামনে এখনো অনেক চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। কয়েক মাস আগেও আমরা ম্যানচেস্টার সিটির চেয়ে ১ পয়েন্ট পিছিয়ে ছিলাম। এরপর দেখুন কী হয়ে গেল। চোট, নিষেধাজ্ঞা, ভাগ্যকে পাশে না পাওয়া- এসব যে কারও সঙ্গেই হতে পারে। (২০তম লিগ শিরোপা) উদযাপনের সময় এখনো আসেনি। আপনারা আগের ম্যাচগুলো দেখেছেন, একটা জয়ও সহজে আসেনি।’
অবশ্য একদিক থেকে স্লট ঠিকই বলেছেন। গতকাল অ্যানফিল্ডে ম্যাচের ৬ষ্ঠ মিনিটেই গোল হজম করে লিভারপুল। বাঁ প্রান্ত থেকে স্টেফি মাভিদিদির ক্রস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে, শরীরকে একবার ঘুরিয়ে ঠান্ডা মাথায় লিভারপুলের জালে বল জড়ান জর্দান আইয়ু।
ম্যাচে ফিরতে মরিয়া লিভারপুল এরপর টানা আক্রমণ চালালেও গোলের দেখা পাচ্ছিল না। সালাহ-খাকপোদের আক্রমণ কখনো ঠেকিয়ে দিচ্ছিল লেস্টারের রক্ষণ, কখনও-বা পোস্টে লেগে ফেরত আসছিল শট, আবার গোলপোস্টের নিচে চীনের প্রাচীর হয়ে বল ঠেকিয়ে দিচ্ছিলেন লেস্টার গোলকিপার। তবে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে সে প্রাচীর ভেদ করেন খাকপো। অ্যালেক্সিস ম্যাকঅ্যালিস্টারের পাস ধরে বক্সের বাঁ প্রান্ত থেকে দারুণ বাঁকানো শটে স্কোরলাইন ১-১ করেন ডাচ লেফট উইঙ্গার।
বিরতির পর চতুর্থ মিনিটেই আবারও গোলের দেখা পায় লিভারপুল। এবার ম্যাকঅ্যালিস্টারের কাট-ব্যাকে বক্সের ভেতর থেকে গোল করেন কার্টিস জোন্স। ৬৫তম মিনিটে খাকপোর আরেকটি গোল বাতিল হয় অফসাইডে। তবে ম্যাচের শেষ গোলেও অবদান রাখেন ডাচ তারকা। খাকপোর মধ্যমাঠ থেকে বাড়ানো পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডান প্রান্ত ধরে বক্সে ঢুকে কোনাকুনি শটে স্কোরলাইন ৩-১ করেন সালাহ।
এটি প্রিমিয়ার লিগে ১৭ ম্যাচে সালাহার ১৬তম গোল। লিগে সর্বোচ্চ গোলদাতা তো বটেই, অ্যাসিস্টেও সবার ওপরে মিশরীয় তারকা। বড় দিনের আগে একটি রেকর্ডে নিজের নাম তুলে ছুটিতে গিয়েছিলেন সালাহ। প্রিমিয়ার লিগ ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে গোল ও অ্যাসিস্ট, দুটোতেই দুই অঙ্ক (১৫ গোল, ১১ অ্যাসিস্ট) ছুঁয়েছিলেন।
বক্সিং ডে-তে গোল করে আরও একটা রেকর্ড গড়েছেন সালাহ। বর্তমানে খেলছেন, এমন খেলোয়াড়দের মধ্যে বক্সিং ডেতে সবচেয়ে বেশি গোলে প্রত্যক্ষ অবদান (৭ গোল, ৪ অ্যাসিস্ট) রাখা খেলোয়াড় এখন মিশরীয় ফরোয়ার্ড।