মানুষ হাতের ময়লাও এভাবে ঝাড়ে না, যেভাবে তিনি টাকা ওড়াচ্ছেন

টাকা-পয়সা? ও তো হাতের ময়লা! কথাটা অন্য কাউকে বলতে শোনেননি, এমন মানুষ কমই আছেন। ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই পেপ গার্দিওলা উক্তিটাকে সত্যি প্রমাণ করে চলেছেন, একের পর এক খেলোয়াড় কেনায় খরচ তো আর কম করেননি! স্প্যানিশ এই কোচের অবশ্য ঝামেলা কী! তাঁর টাকা লেগেছে, আর বারেবারে ‘গৌরী সেন’ হয়ে হাজির হয়েছে ম্যান সিটির পেট্রোডলারে ধন্য মালিকপক্ষ।

এই মৌসুমে কিছুটা ঝামেলায় পড়েছে ম্যান সিটি, এবং এবারও দলকে উদ্ধারে পুরোনো কৌশলেই হাঁটছেন গার্দিওলা। জানুয়ারির শীতকালীন দলবদলে দুই ডিফেন্ডার কিনেছেন গার্দিওলা, আজ এক দিনেই দুজনকে দলে টানার খবর আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে সিটি। তাতে অবস্থা এমনই দাঁড়িয়েছে যে, দেখে মনে হবে, গার্দিওলা যেভাবে টাকা ওড়াচ্ছেন, মানুষ সেভাবে হাতের ময়লাও ঝারে না!

ব্রাজিলের ক্লাব পালমেইরাসের ১৯ বছর বয়সী ডিফেন্ডার ভিতো রাইস আর ফ্রান্সের লাঁস থেকে উজবেকিস্তানের ২০ বছর বয়সী ডিফেন্ডার আবদুকোদির খুসানভকে আজ দলে টানার ঘোষণা দিয়েছে সিটি। ইএসপিএন জানাচ্ছে, রাইসকে কিনতে সিটির খরচ হয়েছে ৩ কোটি ৫০ লাখ ইউরো, খুসানভের জন্য খরচ ৪ কোটি। বাংলাদেশি মুদ্রায় দুজনের জন্য মিলিত খরচ ৯৪৫ কোটি টাকারও বেশি।

এখানেই শেষ সম্ভবত হচ্ছে না। জানুয়ারির দলবদলে রক্ষণে আরও একজনকে নেওয়ার ইচ্ছা গার্দিওলার। সংবাদমাধ্যমগুলো গত কদিনে জানিয়েছে, ইতালির ক্লাব ইউভেন্তুসের ২৪ বছর বয়সী লেফটব্যাক আন্দ্রেয়া কাম্বিয়াসোকে চায় সিটি। তাঁর জন্য অবশ্য ইউভেন্তুস প্রায় ৮ কোটি ইউরো দর হাঁকিয়েছে, তবে ট্রান্সফারমার্কেট জানাচ্ছে, তাঁর ‘মার্কেট ভ্যালু’ ৪ কোটি ইউরো।

মার্কেট ভ্যালুর হিসাবের সঙ্গে তো অবশ্য বাজারের আসল দাম মিলবে না! ট্রান্সফারমার্কেটের মার্কেট ভ্যালু তাদের নিজস্ব বিশ্লেষণ, খেলোয়াড়ের বয়স, ফর্ম, জাতীয় দল, কোন ক্লাবে খেলছেন, চুক্তির মেয়াদ কতটা বাকি – অনেক কিছু হিসাব করেই তাঁর দাম প্রকৃতপক্ষে কত হওয়া উচিত, সেটাকেই মার্কেট ভ্যালু বলে ধরে নেয় ট্রান্সফারমার্কেট। কিন্তু বাজারের দামের সঙ্গে সেটার পার্থক্য কেমন হতে পারে, সেটার ধারণা তো কাম্বিয়াসোর মার্কেট ভ্যালু আর তাঁর জন্য সিটির কাছে ইউভেন্তুস যে দাম চেয়েছে সেটির পার্থক্য দেখেই বোঝা যায়।

রক্ষণের পেছনে গার্দিওলার এত খরচকে কেন হাতের ময়লা ঝারার সঙ্গে তুলনা করা যাচ্ছে, সেটা বুঝতেও অবশ্য শুধু মার্কেট ভ্যালুর শরণাপন্ন হলেই চলবে। রুবেন দিয়াস, মানুয়েল আকাঞ্জি, নাথান আকে, জন স্টোনস, ইয়োশকো গাভারদিওল, রিকো লুইস, কাইল ওয়াকার…সিটির রক্ষণ সাজাতে যে আগেই টাকার নদী বইয়ে দিয়েছিলেন গার্দিওলা! খেলোয়াড়ের দলবলের অঙ্ক তো আর আনুষ্ঠানিকাবে প্রকাশ্যে আসে না, ট্রান্সফারমার্কেটের ‘মার্কেট ভ্যালু’র হিসাবেই রক্ষণে ওই খেলোয়াড়দের সম্মিলিত দাম ৩১ কোটি ৯০ লাখ ইউরো – বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা। প্রকৃত খরচ যে এর চেয়ে ঢের বেশি, তা অনুমান করে নিতে কষ্ট হওয়ার কথা নয়। একটা সহজ উদাহরণেই বোঝা যাবে, গাভারদিওলের মার্কেট ভ্যালু ট্রান্সফারমার্কেটের চোখে ৭ কোটি ৫০ লাখ ইউরো, তাঁকে কিনতে সিটির খরচ হয়েছে ৯ কোটি।

এত খরচে সাজানো রক্ষণে এবার দুই ডিফেন্ডার যোগ হলো আরও ৯৪৫ কোটির বেশি খরচে। গুঞ্জন সত্যি হলে কাম্বিয়াসোকে কিনতে আরও বড় একটা অঙ্ক খরচ করবেন গার্দিওলা। এবং এটা শুধুই রক্ষণের হিসাব, মাঝমাঠে ইউভেন্তুস থেকেই দগলাস লুইজকেও কিনতে চান গার্দিওলা – এমন গুঞ্জনও আওয়াজ তুলছে বাজারে। লুইজের মার্কেট ভ্যালু ৪ কোটি ৫০ লাখ ইউরো। আক্রমণে জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট থেকে ওমর মারমুশকে কিনতে যাচ্ছেন ৭ কোটি ৫০ লাখ ইউরো খরচ করে।

প্রসঙ্গ যখন গার্দিওলা আর তাঁর দল গোছানো, টাকা সম্ভবত হাতের ময়লার চেয়েও সহজে ঝেরে ফেলার মতো বস্তু।