ম্যান সিটিতে মারমুশ

দুদিন আগে ৯৬০ কোটির পর আজ এল আরও ৮৮৫ কোটি খরচের খবর

অক্টোবর পর্যন্ত সব ঠিকঠাকই চলছিল ম্যানচেস্টার সিটির। প্রিমিয়ার লিগে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে ছিল, চ্যাম্পিয়নস লিগেও ছিল পয়েন্ট তালিকার তিন নম্বরে। কিন্তু এরপর এক মিডফিল্ডার রদ্রির চোটে পড়ার পরই এমন জগাখিচুড়ি অবস্থা হয়ে গেল পেপ গার্দিওলার দলের যে, দুই টুর্নামেন্টেই শুধু পিছিয়েছে তারা।  

রদ্রি না থাকায় একাদশ আর ফর্মেশন গোছাতেই ঘাম ছুটে গেল গার্দিওলার, তার প্রভাব সামনে স্ট্রাইকার আর্লিং হলান্ডের ফর্মে পড়েছে, আর রক্ষণও হয়ে পড়েছে নড়বড়ে। গত দু-তিন সপ্তাহে লিগে কিছুটা ফর্ম ফিরে পাওয়ায় অবশ্য এখন সেখানে সিটি তালিকার পাঁচ নম্বরে এসেছে, তবে চ্যাম্পিয়নস লিগে গতকালও পিএসজির বিপক্ষে দুই গোলে এগিয়ে গিয়েও শেষ পর্যন্ত ৪-২ গোলে হেরেছে। চ্যাম্পিয়নস লিগে তারা এখন তালিকার ২৫ নম্বরে। দ্বিতীয় রাউন্ডে সরাসরি ওঠা তো অসম্ভব, প্লে-অফ খেলার যোগ্যতাও হয় কি না সেটা নিয়েই এখন সংশয়। প্লে-অফে উঠতে সেরা ২৪ দলের মধ্যে থাকতে হবে।

তা দলের এই যখন অবস্থা, গার্দিওলা জানুয়ারির শীতকালীন দলবদলে দেদারসে টাকা উড়িয়ে খেলোয়াড় কিনে চলেছেন। দুদিন আগে ৬ কোটি ৪০ লাখ পাউন্ড খরচ করে দুই ডিফেন্ডার কিনেছে সিটি – বাংলাদেশি মুদ্রায় অঙ্কটা ৯৬০ কোটি টাকারও বেশি, এরপর আজ সিটির দিক থেকে এল ৫ কোটি ৯০ লাখ পাউন্ডে স্ট্রাইকার ওমার মারমুশকে কেনার খবর। ইউরোর হিসেবে অঙ্কটা ৭ কোটি ৫০ লাখ, বাংলাদেশি মুদ্রায় ৮৮৫ কোটি টাকা।

দুদিন আগে পালমেইরাস থেকে ১৯ বছর বয়সী ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার ভিতো রাইস আর ফরাসি ক্লাব লাঁসের ২০ বছর বয়সী উজবেক ডিফেন্ডার আবদুকোদির খুসানভকে দলে টেনেছে সিটি। আজ হলান্ডের আক্রমণসঙ্গী করে এনেছে মারমুশকে। ২৫ বছর বয়সী মিশরীয় ফরোয়ার্ড জার্মান ক্লাব আইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্টের হয়ে এই মৌসুমে বুন্দেসলিগায় ১৭ ম্যাচে ১৫ গোল করেছেন, করিয়েছেন আরও ১০ গোল। ইউরোপা লিগে ৬ ম্যাচে ৪ গোল ২ অ্যাসিস্ট।

২০২৩ সালে ফ্রাঙ্কফুর্টে যোগ দেওয়ার পর থেকে সব মিলিয়ে ৬৭ ম্যাচে ৩৭ গোল ও ২০ অ্যাসিস্ট করা মারমুশকে যে হলান্ডের বিকল্প হিসেবে কিনছে সিটি, এমন নয়। বরং বলা যায়, এই মৌসুমেই সিটি ছেড়ে আতলেতিকো মাদ্রিদে চলে যাওয়া আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার হুলিয়ান আলভারেসের বিকল্প খুঁজে নিয়েছেন গার্দিওলা। মূলত স্ট্রাইকার হলেও মারমুশ যে লেফট উইং ও রাইট উইং কিংবা সেকেন্ড স্ট্রাইকার – আক্রমণে সব ভূমিকায়ই খেলতে পারেন।

তাঁর কাছ থেকে কী আশা করতে পারে সিটি, সেটা নতুন ক্লাবে যোগ দেওয়ার পর মারমুশের বর্ণনা থেকেই বুঝে নিতে পারেন, ‘পিচে আমি বেশ গতিসম্পন্ন, বল পায়ে দক্ষ, চেষ্টা করি খালি জায়গা কোথায় আছে সেটা খুঁজে বের করার এবং সেটার ফায়দা নেওয়ার। আর আমি (গোলমুখে) বেশ ভয়ংকর!’