ম্যান সিটির খরচের ফিরিস্তি

তিন মাস ধরে পাত্তা পাচ্ছে না দলটা, জানুয়ারিতেই উড়িয়েছে ২৭০০ কোটি

অক্টোবর পর্যন্ত দারুণভাবেই এগোচ্ছিল তারা। কিন্তু ৩১ অক্টোবর টটেনহ্যামের কাছে হারের পর যে শনির দশা শুরু হলো ম্যানচেস্টার সিটির, আর যেন শেষই হচ্ছে না! ডিসেম্বরের শেষ থেকে জানুয়ারিতে মাঝে লিগে পাঁচ ম্যাচে চার জয় আর এক ড্রয়ে যখন পেপ গার্দিওলার দলটা ঘুরে দাঁড়াচ্ছিল বলে মনে হচ্ছিল, গত পরশু আর্সেনালের মাঠে ৫-১ গোলে উড়ে গেল তারা। আবার বোঝা গেল, গার্দিওলার দলের পালাবদলের প্রক্রিয়া আরও দীর্ঘস্থায়ীই হচ্ছে।

এই সমস্যা সমাধানে কী করছেন গার্দিওলা? ম্যান সিটি যে প্রক্রিয়ায় এগিয়েছে তাঁর অধীনে আগের আট বছরে, সেভাবেই এগিয়েছেন। দেদারসে টাকা উড়িয়ে একের পর এক খেলোয়াড় কিনছেন গার্দিওলা। জানুয়ারির শীতকালীন দলবদলের শেষ সময় ছিল গতকাল, শেষ দিনেও এক খেলোয়াড়কে দলে টেনেছে সিটি – পোর্তো থেকে নিয়ে গেছে স্প্যানিশ ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার নিকো গনসালেসকে।

বিবিসি জানাচ্ছে, বার্সেলোনার সাবেক মিডফিল্ডার গনসালেসের জন্য ৫ কোটি পাউন্ড খরচ করেছে ম্যান সিটি। গনসালেসকে নিয়ে জানুয়ারিতে ৫ জন খেলোয়াড় কিনেছে সিটি। এর আগে কিনেছে দুই ডিফেন্ডার ভিতো রাইস ও আবদুকোদির খুসানভ আর স্ট্রাইকার ওমার মারমুশকে। এর পাশাপাশি সিয়েরা লিওনের ডিফেন্ডার জুমা বা-কে কিনলেও তাঁকে আবার ফরাসি ক্লাব লাঁসের কাছে ধারে পাঠিয়ে দিয়েছে। বিবিসির প্রতিবেদন, গনসালেসকেও নিয়ে জানুয়ারির শীতকালীন দলবদলেই সিটির মোট খরচ দাঁড়াল ১৮ কোটি পাউন্ডে। বাংলাদেশি মুদ্রায় অঙ্কটা ২৭০০ কোটি টাকারও বেশি!

অঙ্কটা কতটা বড়, সেটার একটা ধারণা পাওয়া যাবে ট্রান্সফারমার্কেটের একটা বিশ্লেষণ থেকে। মৌসুমের মাঝে জানুয়ারির দলবদলে খুব বড় দলবদল সাধারণত হয় না, জানুয়ারিতে তাই খরচের অঙ্কই কম থাকে। জানুয়ারির দলবদল বাজারে কোনো ক্লাবের সবচেয়ে বেশি খরচের অঙ্কটা চেলসির, ২০২৩ সালে তারা খরচ করেছিল ২৭ কোটি ৪০ লাখ পাউন্ড। সেটিকে অবশ্য ওই দলবদল মৌসুমের কদিন আগেই ক্লাবের মালিকানা কিনে নেওয়া নতুন মালিকের খেয়াল ধরে নেওয়া গিয়েছিল। সিটির এবারের খরচ জানুয়ারির দলবদলে কোনো ক্লাবে খরচের হিসেবে শুধু চেলসির ওই ২০২৩-এর দলবদলের পেছনেই থাকছে।     

সর্বশেষ যাঁকে দলে টেনেছে সিটি, সেই ২৩ বছর বয়সী নিকো গনসালেসের বার্সেলোনায় অভিষেক হয় ২০১৯ সালে। সেখানে বছর চারেক কাটিয়ে ২০২৩-এর জুলাইয়ে যোগ দেন পোর্তোতে। পর্তুগিজ ক্লাবটিতে ৬৮ ম্যাচে ৯ গোল আর ৯ অ্যাসিস্ট তাঁর।  

তবে গনসালেস যেহেতু ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার, গোল আর অ্যাসিস্ট দিয়ে তাঁকে বিচার করতে যাওয়া ভুলই। বরং এভাবে দেখা যায়, গনসালেসকে দলে নিতে পারায় গার্দিওলার সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা বুঝি শেষ হলো! গত অক্টোবরে ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার রদ্রি হাঁটুর চোটে পড়ে প্রায় পুরো মৌসুমের জন্যই ছিটকে গেছেন। এরপর থেকেই মূলত সিটির অধোযাত্রা শুরু!

এ যুগের ফুটবলে কৌশলের অদলবদলের দিক থেকে ফুলব্যাক আর ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারদের ভূমিকাই যে সবচেয়ে বেশি, এটাও বোধ হয় বলেই দেওয়া যায়। তবু এক ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার না থাকাতেই গার্দিওলা দলের সমন্বয় ঠিক করতে এভাবে ঘেমে নেয়ে যাবেন, সেটা অনেকের কাছেই বিস্ময় হয়ে এসেছে। শেষ পর্যন্ত আরেক ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারকে নিয়ে যদি দলটাকে গোছাতে পারেন গার্দিওলা!

লিগে আর্সেনালের কাছে বিধ্বস্ত হওয়া সিটি গতকাল পয়েন্ট তালিকায় আরও নিচে নেমে গেছে চেলসি নিজেদের ম্যাচে ওয়েস্ট হ্যামকে ২-১ গোলে হারানোয়। চেলসি (২৪ ম্যাচে ৪৩ পয়েন্ট) উঠে গেছে পয়েন্ট তালিকার চার নম্বরে, গার্দিওলার সিটি নেমে গেছে পাঁচে (২৪ ম্যাচে ৪১ পয়েন্ট)। শীর্ষে থাকা লিভারপুলের (২৩ ম্যাচে ৫৬ পয়েন্ট) চেয়ে এক ম্যাচ বেশি খেলেই সিটি পিছিয়ে আছে ১৫ পয়েন্টে, শিরোপার আশা এবার আর তাদের না দেখাই যুক্তিসঙ্গত। সেরা চারে থেকে আগামী মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগে জায়গা করে নেওয়াই এখন তাদের মূল লক্ষ্য।

এদিকে এবারের মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগেও কোনোরকমে শেষ ষোলোর প্লে-অফে জায়গা করে নেওয়া সিটি প্লে-অফে পড়ছে রেয়াল মাদ্রিদের সামনে।