কী একটা দুর্দান্ত কোপা আমেরিকাই না গত বছর কাটিয়েছে কলম্বিয়া। মাঝে অনেক বছরে পথ হারিয়ে ফেলা হামেস রদ্রিগেস হঠাৎ কলম্বিয়ার ‘পারফেক্ট নাম্বার টেন’ হয়ে উঠেছিলেন, কোচ নেস্তর লরেনসোর অধীনে হামেস যেন হয়ে উঠেছিলেন কলম্বিয়ার মেসি! গোল ১টি করেছিলেন, তবে টুর্নামেন্টের ইতিহাসে রেকর্ড ৬টা অ্যাসিস্ট করেছেন হামেস। টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও উঠেছে তাঁরই হাতে।
তবে ফাইনালে উঠেও শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার কাছে অতিরিক্ত সময়ে গোল খেয়ে হেরে যায় কলম্বিয়া। ২০০১ সালে প্রথমবার ও এখন পর্যন্ত সর্বশেষবার কোপা আমেরিকা জেতা ‘লস কাফেতেরোস’-এর দ্বিতীয় কোপা আমেরিকার স্বপ্ন আর পূরণ হলো না।
এতদিন পর স্প্যানিশ ক্রীড়াদৈনিক মার্কার সঙ্গে সাক্ষাৎকারে গত বছরের জুন-জুলাইয়ে হয়ে যাওয়া সেই কোপা আমেরিকা নিয়ে কথা বলেছেন হামেস। বর্তমানে মেক্সিকোর ক্লাব লেওনে খেলা ৩৩ বছর বয়সী অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সেই ফাইনালে হার নিয়ে বলেছেন, ফাইনালে রেফারি দুটি পেনাল্টি দেননি তাঁদের পক্ষে। পাশাপাশি টুর্নামেন্টজুড়েও আর্জেন্টিনা বেশি সুবিধা পেয়েছে বলেও জানিয়েছেন হামেস।
মার্কার সঙ্গে সাক্ষাৎকারে আর্জেন্টিনার কাছে ওই হার নিয়ে প্রশ্নে হামেসের উত্তর, ‘হ্যাঁ, দারুণ একটা কোপা আমেরিকা কেটেছে আমাদের। ব্যক্তিগতভাবেও দারুণ টুর্নামেন্ট কেটেছে। শিরোপাটা খুব করে জিততে চেয়েছিলাম, কাছাকাছিও চলে গিয়েছিলাম কিন্তু কিছু নিয়ন্ত্রণের বাইরের ফ্যাক্টরের জন্য আমরা আমেরিকার চ্যাম্পিয়ন হতে পারলাম না।’
কী কী কারণ ছিল? হামেস প্রথমে ওই ম্যাচের রেফারি নিয়ে বললেন, ‘রেফারি দুটি পেনাল্টি দেননি, এর মধ্যে একটি তো আমার চোখে একেবারে পরিষ্কার ছিল। ভিএআরের রেকর্ডিং অন্য সব ম্যাচেই দেখানো হয়েছে, কিন্তু ফাইনালে দেখানো হয়নি। কিছুটা অদ্ভুত তো ছিলই সেটা।’
পাশাপাশি টুর্নামেন্টেও আর্জেন্টিনার তুলনায় তাদের রাস্তাটা কঠিন ছিল মন্তব্য করেছেন হামেস, ‘আমরা যে পাশটাতে পড়েছি, সেদিকে ব্রাজিল, উরুগুয়ে ও আরও কঠিন দল ছিল। আর ওরা (আর্জেন্টিনা) পড়েছে দুর্বল দলগুলোর দিকটাতে। তাছাড়া আমাদের অনেক ভ্রমণও করতে হয়েছে। তবে এসব কোনো অজুহাত নয়।’
তবে এতকিছু বলার পরও হামেস শেষে আবার বলেছেন, আর্জেন্টিনা শিরোপা জিতেছে যোগ্য দল হিসেবেই!