লিওনেল মেসির সঙ্গে ছবি তোলার জন্য, নিদেনপক্ষে আর্জেন্টাইন মহাতারকাকে একবার ছুঁয়ে দেখার জন্য কোনো দর্শক হঠাৎ নিরাপত্তারক্ষীদের চোখকে ফাঁকি দিয়ে মাঠে ঢুকে পড়েছেন। কিন্তু মাঠের নিরাপত্তারক্ষীদের ফাঁকি দেওয়া গেলেও মেসির জন্য নিয়োজিত বডিগার্ড – সাবেক ইউএস নেভি সিল - ইয়াসিন চিউকোর চোখকে আর ফাঁকি দেওয়া যায়নি। আর্জেন্টিনা অধিনায়কের ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী দৌড়ে গিয়ে মাঠের অনুপ্রবেশকারীকে ধরে ফেলেছেন। কখনো ওই অনুপ্রবেশকারী মেসিকে ছোঁয়ার আগেই, কখনো-বা হয়তো অনুপ্রবেশকারীর ইচ্ছা পূরণের পর।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, ইউটিউবে কতশত ভিডিও-ই না আছে, বেশ ভিউও পেয়েছে ভিডিওগুলো। কিন্তু সে ভিডিও আর দেখার রাস্তা বুঝি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। মেসির দেহরক্ষীকে যে ইন্টার মায়ামির ম্যাচের সময়ে মাঠে ঢোকায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকার (এমএলএস)।
মেসির মতো মহাতারকা যে যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশের লিগের চেয়েও দামি, তা নিয়ে সম্ভবত সংশয় নেই। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, নেইমারদের সৌদি আরবে কিংবা মেসিকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া মূলত সেসব দেশের লিগকে বিশ্বে পরিচিত করানোর স্বার্থেই। তবে এমএলএসে মেসি এই বাড়তি সুবিধাটা পেয়ে আসছিলেন, শুধু তাঁর নিরাপত্তার জন্যই আলাদা দেহরক্ষী রাখা হয়েছে এবং সেই দেহরক্ষী এতদিন মাঠেও প্রয়োজনে ঢুকে পড়ার অনুমতি পেতেন।
তবে সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের প্রতিবেদন জানাচ্ছে, এখন থেকে ম্যাচের সময়ে সার্বিক নিরাপত্তার পুরো দায়িত্ব এমএলএস কর্তৃপক্ষ নিজেরাই নিতে চায়। ইয়াসিন চিউকো শুধু ইন্টার মায়ামির লকার রুমের আশপাশ আর ম্যাচের পর মিক্সড জোনে মেসির নিরাপত্তার জন্য যেতে পারবেন।
তবে এমএলএসের এ সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারছেন না মেসির দেহরক্ষী চিউকো। বরং এমএলএসের নিরাপত্তাব্যবস্থার হাল তুলে ধরে তাঁকে মেসির পাশে থাকতে দেওয়ার অনুরোধ করেছেন তিনি।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমে চিউকো বলেছেন জানিয়ে তাঁকে উদ্ধৃত করে রয়টার্স লিখেছে, ‘ওরা আমাকে আর মাঠে ঢোকার অনুমতি দিচ্ছে না। আমি ইউরোপে সাত বছর ছিলাম, (ফ্রান্সের) লিগ আঁ-তে কাজ করেছি, চ্যাম্পিয়নস লিগেও কাজ করেছি। এ সময়ে মাত্র ছয়বার মাঠে অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছে। আর আমি যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর মাত্র ২০ মাসে ১৬ জন লোক এরই মধ্যে এমন কাজ করেছে।’
সে কারণেই এমএলএসের প্রতি তাঁর অনুরোধ, ‘এখানে (নিরাপত্তা ব্যবস্থায়) অনেক বড় ঝামেলা আছে। আমাকে মেসির সাহায্যে আসতে দিন।’