আনচেলত্তিকে ব্রাজিল

চুক্তিতে সই করতে সময় বেঁধে দেওয়া হলো ২৬ মে পর্যন্ত

প্রথমে শোনা গিয়েছিল, চলতি মৌসুম শেষে রেয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে ব্রাজিল জাতীয় দলের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন কার্লো আনচেলত্তি। স্প্যানিশ সংবাদ মাধ্যম দ্য অ্যাথলেটিক এ চুক্তিটাকে অনেকটা ‘নিশ্চিত’ হিসেবে উল্লেখ করেছিল। কিন্তু দিন দুয়েক আগে ‘নিশ্চিত’ হওয়া গল্পে বড় বাঁক বদলের খবর দেয় আরেক স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কা। এক প্রতিবেদনে মার্কা জানায়, মাদ্রিদের সঙ্গে চুক্তির বাকি সময়ের টাকা নিয়ে ঝামেলায় ব্রাজিলকে ‘না’ বলে দিয়েছেন আনচেলত্তি

ব্রাজিল-আনচেলত্তি চুক্তির সম্ভাবনা তাতে শেষ বলেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু দলবদলের বাজারে যে শেষ বলে কিছু নেই- তেমনই এক খবর দিয়েছে ইএসপিএন। ক্রীড়া বিষয়ক সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, আনচেলত্তিকে পাওয়ার ব্যাপারে এখনই হাল ছাড়ছে না ব্রাজিল। ইতালিয়ান কোচের জন্য মে মাসের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত অপেক্ষা করবে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ)। নির্দিষ্ট করে বললে, ব্রাজিলিয়ান ফেডারেশনের বাড়িয়ে রাখা চুক্তিতে সই করবেন কি না, সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আনচেলত্তিকে ২৬ মে পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে সিবিএফ।

ডেডলাইন ২৬ মে পর্যন্তই বা কেন? এখানে চলে আসে জুনে ব্রাজিলের সামনে থাকা বিশ্বকাপ বাছাইয়ের দুটি ম্যাচ। গত মার্চে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার কাছে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়ে দরিফাউ জুনিয়রকে ছাঁটাই করে সিবিএফ। সেই থেকে কোচের পদটা ফাঁকাই আছে ব্রাজিলের। দেশটির ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা চাওয়ার, নতুন কোচের অধীনে জুনে ইকুয়েডর ও প্যারাগুয়ের বিপক্ষে বাছাইপর্বের ম্যাচ দুটি খেলবে ব্রাজিল।

এদিকে শুরুতে ইএসপিএন জানিয়েছিল, চলতি মৌসুমে লা লিগায় রেয়াল মাদ্রিদের শেষ ম্যাচের পরই স্প্যানিশ ক্লাবটির সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করবেন আনচেলত্তি। কিন্তু দুদিন আগে ইএসপিএনের আরেক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, আগামী জুন-জুলাইয়ে হতে যাওয়া ক্লাব বিশ্বকাপেও আনচেলত্তিকে কোচ হিসেবে চায় মাদ্রিদ। আনচেলত্তি যদি আগেভাগে ক্লাব ছাড়েন, চুক্তির বাকি অর্থ তাঁকে দেবে না মাদ্রিদ।

এমন জটিলতায় ব্রাজিলকে আগস্ট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেন আনচেলত্তি। কিন্তু সিবিএফ ততদিন অপেক্ষা করতে রাজি না হওয়ায় ব্রাজিলকে ‘না’ বলে দিতে বাধ্য হন আনচেলত্তি। তবে দাবার চাল বদলে আবারও আনচেলত্তির জন্য অপেক্ষার দরজা খুলে দিয়েছে লাতিন অঞ্চলের দেশটি। সে দরজা বন্ধ করার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে ২৬ মে।

মূলত ব্রাজিলের বিশ্বকাপ বাছাইয়ের পরের দুই ম্যাচের স্কোয়াড ঘোষণার শেষ দিন সেদিন। অন্যদিকে রেয়াল মাদ্রিদ লা লিগায় তাদের শেষ ম্যাচ খেলবে ২৪ বা ২৫ মে। মাদ্রিদে আনচেলত্তির ভাগ্য অনেকটা নির্ধারিত হলেও লা লিগায় লস ব্লাঙ্কোদের অবস্থান পরিস্থিতি পরিবর্তনও করতে পারে।

বর্তমানে লিগের ৩৩ ম্যাচ শেষে শীর্ষ দল বার্সার চেয়ে ৪ পয়েন্ট পিয়ে আছে মাদ্রিদ। আগামী ১১ মে লা লিগায় এল ক্লাসিকো আছে, ওই ম্যাচে যদি মাদ্রিদ জেতে, তবে ব্যবধান কমে ১- এ নেমে আসবে। আবার বার্সা যদি অন্য আরেকটা ম্যাচে হোঁচট খায়, তবে শিরোপা ধরে রাখার ক্ষীণ সম্ভাবনার দুয়ার আবারও খুলে যাবে মাদ্রিদের। শেষ পর্যন্ত এমন সমীকরণ বাস্তবে রূপ নেবে কি না, সেটা দেখতই ব্রাজিল লিগের শেষ দিন পর্যন্ত তাকিয়ে থাকতে চায়।

আর সে কারণেই আনচেলত্তির সিদ্ধান্ত নেওয়ার ডেডলাইন ২৬ মে পর্যন্ত করেছে সিবিএফ- ইএসপিএনের প্রতিবেদনে তেমনটাই জানানো হয়েছে। সংবাদমাধ্যমটি সম্প্রতি আরেক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আনচেলত্তি ও ক্লাব প্রেসিডেন্ট ফ্লোরেন্তিনো পেরেস আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই এ বিষয়ে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। সেখানে আর্থিক জটিলতার বিষয়টি উঠে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সে জটিলতার সমাধান কেমন হতে পারে, সেটা সম্পর্কেও ধারণা দিয়েছে ইএসপিএন। বিষয়টি নির্ভর করছে মাদ্রিদের সঙ্গে আনচেলত্তির সম্পর্ক কীভাবে শেষ হয়- সেটার ওপর।

ব্রাজিলের কোচ হতে আনচেলত্তি যদি নিজে পদত্যাগ করেন, তাহলে চুক্তি অনুযায়ী তাঁর পাওনার বড় অংশ কাটছাঁট হতে পারে। এমনকি চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করায় সিবিএফের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে মাদ্রিদ- এমনটাই জানিয়েছে ইএসপিএন।  

প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, ক্লাবের পক্ষ থেকে কোচ বরখাস্ত করা হলে বিষয়টির সমাধান  পুরোপুরি ভিন্ন হবে। সাধারণত একটা ক্লাব কোনো কোটকে ছাঁটাই করলে চুক্তির মেয়াদ যাই থাকুক না কেনো, ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৬ মাসের বেতন পরিশোধ করে।

আরও একটা সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে ইএসপিএন। মাদ্রিদ-আনচেলত্তি-ব্রাজিল, তিন পক্ষের একটা সমঝোতাও হতে পারে। সেক্ষেত্রে আনচেলত্তির পাওনার একটা নির্দিষ্ট অংশ দেবে মাদ্রিদ, বাকি পাওনা পরিশোধ করতে হবে ব্রাজিলকে।

এমন সব জটিলতা সত্ত্বেও আনচেলত্তিই ব্রাজিলের প্রথম পছন্দ- সেটা ইতালিয়ান কোচকে জানিয়ে দিয়েছে সিবিএফ। পাশাপাশি বিকল্প হিসেবে আল হিলালের জর্জ জেসুস ও পালমেইরাসের আবেল ফেরেইরাকেও বিবেচনায় রাখছে সিবিএফ।