১৭ বছর পর জানা গেল টটেনহামও ট্রফি জেতে

একেই বোধহয় বলে কপালের লিখন। টটেনহাম হটস্পারে প্রায় পুরো ক্যারিয়ার কাটিয়ে দেওয়া হ্যারি কেইন অবশেষে হাল ছেড়ে দনে ২০২৩ সালে। দুই বছর আগে দলবদল করে বায়ার্ন মিউনিখে যাওয়া এই স্ট্রাইকারের ১৬ বছরের দুঃখ ঘুচেছে এবার। বুন্দেসলিগা জিতেছে বায়ার্ন, কেইনের প্রথম কোনো শিরোপা এটি।

এদিকে কেইন ক্যারিয়ারের প্রথম শিরোপা জয়ের এক সপ্তাহ পেরোতে না পেরোতেই ১৭ বছরের আক্ষেপ ঘুচল টটেনহামের। গতকাল বিলবাওর সান মামেসে ইউরোপা লিগের ফাইনালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ১-০ গোলে হারিয়ে দিয়েছে টটেনহাম। তাতে আগামী মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগ খেলাও নিশ্চিত হলো ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ১৭তে থাকা দলটির। 

লিগে ১৭তম দল মানে অবনমনের অঞ্চলের ঠিক উপরে অবস্থান টটেনহামের। মজা ব্যাপার, লিগের ১৬তম দলটি আবার ইউনাইটেড (১ পয়েন্টে এগিয়ে)। এত ভয়ংকর এক লিগ মৌসুম কাটানোয় চাকরি হারানোর শঙ্কায় ছিলেন স্পার্স কোচ আঙে পস্তেকগলু। কিন্তু গত সেপ্টেম্বরেই পস্তেকগলু বলে রেখেছিলেন, তিনি যে ক্লাবেই গিয়েছেন দ্বিতীয় মৌসুমে কোনো না কোনো শিরোপা জিতেছেন।

১৭ বছর ধরে ঘরোয়া বা ইউরোপ- কোনো পর্যায়েই কোনো শিরোপা না জেতা এক দলের কোচের জন্য এমন দম্ভ করা ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু পস্তেকগলু কথা রেখেছেন। ম্যাচের আগে সংবাদসম্মেলনে এক সাংবাদিককে ধুয়ে দিয়েছিলেন প্রতিবেদনে তাঁকে ‘ভাঁড়’ বলায় এবং ম্যাচে শেষে প্রমাণ করেছেন তিনি কখনোই ভাঁড় ছিলেন না।

টটেনহামকে শিরোপা জেতার জন্য নিজের অহমকে ত্যাগ করেছেন পস্তেকগলু। পেপ গার্দিওলার মতো অনেক কোচই নিজের কৌশলই সেরা, এটা প্রমাণ করতে গিয়ে বড় ম্যাচে বড় ভুল করেন। কিন্তু পস্তেকগলু নিজের পছন্দের কৌশল বদলে ফেলেছেন ফাইনালের জন্য। ওদিকে ইউনাইটেডের কোচ রুবেন আমোরিম আক্রমণে উইঙ্গার আলেহান্দ্রো গারনাচোর বদলে নামিয়েছেন মিডফিল্ডার ম্যাসন মাউন্টকে। 

postecglu

৪২ মিনিটে ব্রেননান জনসনের নেওয়া শটটিই টটেনহামের একমাত্র শট যা গোলে ছিল। এর বাইরে আর মাত্র দুটি শট নিয়েছে টটেনহাম। অন্যদিকে ১৬টি শট নিয়েছে ইউনাইটেড, যার ৬টি ছিল গোলমুখী। কিন্তু ইউনাইটেডের অধিকাংশ শটই যে শুধু মারার জন্য মারা সেটা দুই দলের xG (গোলের সম্ভাবনা) দেখলেই বোঝা যায়। ৬টি গোলমুখী শটের পরও ইউনাইটেডের xG ছিল ০.৮৫। আর ম্যাচে মাত্র ২৬% সময় বল দখলে রাখা ও ১৮৩ টি পাস দেওয়ার চেষ্টা করা টটেনহামের xG ১.০১।

ম্যাচে ইউনাইটেড সমতা ফেরানোর কাছাকাছি গিয়েছিল ভিকারিওর ভুলে। টটেনহাম গোলকিপারের সে ভুল অবশ্য দলের মাথাব্যথার কারণ হয়নি, গোল লাইন থেকে সে বল ফেরান ডিফেন্ডার মিকি ফন ডে ভেন। এতেই নিশ্চিত হয় এবারও খালি হাতে ঘরে ফিরছে ইউনাইটেড। আর লিগে ১৭তম হয়েও আগামী মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগ নিশ্চিত করায় অন্তত ১০ কোটি ইউরো পাওয়া নিশ্চিত করেছে টটেনহাম।

ট্রফিশূন্য মৌসুমের পরও রুবেন আমোরিমের চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তা নেই, কিন্তু দলকে চ্যাম্পিয়নস লিগে নিয়েও স্বস্তিতে নেই পস্তেকগলু। যদি চাকরি হারান, তবু টটেনহামের ইতিহাসে জায়গা করে নিলেন অস্ট্রেলিয়ান কোচ। তাঁর আগে টটেনহামকে ইউরোপিয়ান কোনো ট্রফির স্বাদ এনে দিতে পেরেছিলেন মাত্র দুজন-বিল নিকলসন ও কিথ বার্কিনশ।