একদিন আগে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ১-০ গোলে হারিয়ে দীর্ঘ ১৭ বছর পর ট্রফি জয়ের স্বাদ পেয়েছিল টটেনহ্যাম। কিন্তু ইউরোপা লিগের শিরোপা জয়ের দিনে উদযাপনে খানিকটা কি কমতি ছিল ইংলিশ ক্লাবটির? শিরোপা নিয়ে উদ্যাপনের মঞ্চে টটেনহ্যামের আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, দক্ষিণ কোরিয়ান ফরোয়ার্ড সন হিউং-মিন ও উরুগুইয়ান মিডফিল্ডার রদ্রিগো বেনতাঙ্কুরের ভাগ্যে যে পদকই জোটেনি!
এমন ঘটনায় অবশেষে উয়েফা ক্ষমা চেয়েছে। জানিয়েছে, যাঁরা শিরোপামঞ্চে পদক পাননি, তাঁদের ড্রেসিংরুমে পরবর্তীতে পদক দেওয়া হয়েছে।
ইউরোপা লিগের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর পদক নেওয়ার জন্য যখন সারি বেঁধে মঞ্চে উঠছিলেন টটেনহ্যামের ফুটবলাররা, সে লাইনের শেষের দিকে ছিলেন সন, রোমেরো ও বেনতাঙ্কুর। ক্লাবের অধিনায়ক হিসেবে সনের তো সবার শেষে থাকারই কথা, পদক নেওয়ার পর তাঁর হাতেই যে তুলে দেওয়া হয় শিরোপা। কিন্তু এই তিনজন পদক নিতে যাওয়ার পর ক্যামেরায় ধরা পড়ে, পদকের ট্রে খালি! সে সময় পদক ছাড়াই শিরোপা নিয়ে উল্লাস করেছিলেন সন-রোমেরো-বেনতাঙ্কুর।
উয়েফা এই ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছে। বিবৃতিতে উয়েফা বলেছে, ‘অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলছি, খেলোয়াড়ের সংখ্যা হিসেব করার ক্ষেত্রে অপ্রত্যাশিত ভুলের কারণে শিরোপা তুলে দেওয়ার মঞ্চে যথেষ্ট পরিমাণ মেডেল আমরা রাখতে পারিনি। কারণ, প্রাথমিকভাবে যত খেলোয়াড় থাকবেন বলে অনুমান করা হয়েছিল, মঞ্চে তার চেয়েও বেশি খেলোয়াড় ছিলেন, চোটে পড়া খেলোয়াড়েরাও ছিলেন।’
পদক না পাওয়া খেলোয়াড়দের পরে ড্রেসিংরুমে তাঁদের পদক বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে জানিয়ে বিবৃতিতে উয়েফা লিখেছে, ‘বাকি পড়ে যাওয়া মেডেলগুলো দ্রুতই জয়ী দলের ড্রেসিংরুমে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে, পাশাপাশি এমন ভুলের জন্য আমাদের তরফ থেকে আন্তরিকভাবে ক্ষমাও চাওয়া হয়েছে।’
মূলত টটেনহ্যামের ফাইনালের স্কোয়াডের ২৩ জনের বাইরে থাকা জেমস ম্যাডিসন, দেয়ান কুলুসেভস্কি ও লুকাস বের্গভাল পুরস্কার মঞ্চে উঠে পদক নেন। তিনজনই চোটের কারণে দলের বাইরে ছিলেন। সেই অতিরিক্ত তিন খেলোয়াড়ের কারণে মঞ্চে পদক নিতে পারেননি সন, রোমেরো ও বেনতাঙ্কুর।
সনের জন্য মুহূর্তটার আনন্দ তাতে কি কিছুটা কম হলো? দক্ষিণ কোরিয়ান ফরোয়ার্ড গত কয়েক বছরে প্রিমিয়ার লিগের সেরা ফরোয়ার্ডদের একজন, তবে এত বছরেও ক্লাব বা জাতীয় দলের হয়ে ক্যারিয়ারে সিনিয়র দলের কোনো ট্রফি না জেতার আক্ষেপ ছিল তাঁর। খেলার ধরন তো আছেই, পাশাপাশি সুন্দর আচরণ, প্রাঞ্জল হাসি আর বিনয়ের জন্য ইউরোপের ফুটবলে সবার প্রিয় হয়ে ওঠা সন ৩২ বছর বয়সে যখন শিরোপা জিতলেন, তার উদ্যাপন করলেন পদক ছাড়াই।