আগামী ১৫ জুন মিশরের ক্লাব আল আহলির বিপক্ষে ইন্টার মায়ামির ম্যাচ দিয়ে পর্দা উঠবে ৩২ দলের ক্লাব বিশ্বকাপের। পেশাদার ফুটবলের বৈশ্বিক এ টুর্নামেন্টের আগে আজ শেষবারের মতো মাঠে নেমেছিল মায়ামি। মেজর লিগ সকারের ম্যাচে ঘরের মাঠ চেস স্টেডিয়ামে কলম্বাস ক্রুকে নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা করে ৫-১ গোলের জয় তুলে নিয়েছে হ্যাভিয়ের মাশ্চেরানোর দল।
মায়ামির জয়ে লিওনেল মেসির বড় অবদান থাকবে, এটা জানা কথা। আর্জেন্টাইন মহাতারকা জোড়া গোল করেছেন, অ্যাসিস্ট করেছেন আরও দুই গোলে। এছাড়া মায়ামির অন্য গোলটাতেও পরোক্ষভাবে অবদান রেখেছেন ৮ বারের বালন দ’র জয়ী তারকা।
শুধু আজকের ম্যাচে নয়, আগের ম্যাচে মন্ত্রিয়ালের বিপক্ষেও জোড়া গোল আর এক অ্যাসিস্ট করেছিলেন মেসি। সব মিলিয়ে সর্বশেষ দুই ম্যাচে ৪ গোল আর ৩ অ্যাসিস্ট- ক্লাব বিশ্বকাপের প্রস্তুতিটা ভালোই হলো আর্জেন্টাইন অধিনায়কের।
আজকের ম্যাচে প্রথম গোলের জন্য মায়ামিকে অপেক্ষা করতে হয়েছে ১৩ মিনিট পর্যন্ত। মধ্যমাঠ থেকে মেসির লম্বা করে বাড়ানো বলে দারুণ ফিনিশিং দেন তাদেও অ্যালেনদে। এর দু মিনিট পর দ্বিতীয় গোলের দেখা পেয়ে যায় মায়ামি। এবার গোলের খাতায় নাম লেখান মেসি।
অবশ্য গোলটাতে কলম্বাস গোলকিপার নিকোলাস হেগেনের অবদানও কম নয়। বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে বক্সের ঠিক বাইরে দাঁড়ানো মেসি বরাবর শট নেন হেগেন। সেই বল বুক দিয়ে নামিয়ে শট নেন মেসি। তড়িঘড়ি করে লাফিয়ে হেগেন বলে হাত লাগালেও বল বেরিয়ে গোল লাইন অতিক্রম করে।
ম্যাচের ২৪ মিনিটে দ্বিতীয় গোলের দেখা পান মেসি। এবার মধ্যমাঠ থেকে সের্হিও বুসকেতসের বাড়ানো বলে এগিয়ে আসা গোলকিপারের মাথার ওপর দিয়ে তুলে দিয়ে জালে বল জড়ান আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
এটি ছিল এমএলএসে মেসির ৩১তম গোল। যুক্তরাষ্ট্রের এ লিগে মায়ামির হয়ে যা সর্বোচ্চ। আগের রেকর্ডটি ছিল আরেক আর্জেন্টাইন গনসালো হিগুয়েইনের (২৯)। গত ম্যাচে জোড়া গোল করে হিগুয়েইনকে ছুঁয়েছিলেন মেসি, আজকের জোড়া গোলে ছাড়িয়ে গেলেন জাতীয় দলের সাবেক সতীর্থকে।
৩-০ গোলে এগিয়ে বিরতিতে যাওয়া মায়ামি চতুর্থ গোলের দেখা পায় ৬৪ মিনিটে। এর আগে অবশ্য ৫৮ মিনিটে একটা গোল শোধ দিয়েছে কলম্বাস। দাইলান চামবোস্টের কর্নারে হেড করে স্কোরলাইন ৩-১ করেন সিজার রুভালকাভা।
৬ মিনিট পর মায়ামির হয়ে ব্যবধান আবারও বাড়িয়ে দেন সুয়ারেস। এ গোলে অবশ্য অবদান আছে মেসির। মধ্যমাঠের কিছুটা সামনে বল পেয়ে সতীর্থদের সঙ্গে বল দেওয়া নেওয়া করে বক্সের কাছাকাছি গিয়ে সেগোভিয়ার দিকে বল বাড়ান মেসি। সেগোভিয়া বল দেন বক্সের বাঁ দিকে অনেকটা ফাঁকায় থাকা সুয়ারেসের দিকে। সুযোগটা নষ্ট করেননি উরুগুয়ের তারকা। দারুণ এক শটে স্কোরলাইন ৪-১ করেন সুয়ারেস। আর নির্ধারিত সময়ের ১ মিনিট আগে মেসির সহায়তায় জালে বল জড়ান ফ্যাব্রিকে পিকল্ট।
এ জয়ে পয়েন্ট টেবিলেও ওপরের দিকে উঠেছে মায়ামি। ১৬ ম্যাচে ২৯ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে এখন মেসিরা। ১৭ ম্যাচে ২৮ পয়েন্ট নিয়ে পাঁচে কলম্বাস। আর শীর্ষে থাকা ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের পয়েন্ট ৩৪ (১৭ ম্যাচে)।