গাজায় ইসরায়েলি হামলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ গার্দিওলার

২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের আক্রমণের জের ধরে ফিলিস্তিনের গাজায় প্রতিনিয়ত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। ২০ মাসের বেশি সময় ধরে চলা ইসরায়েলি নির্বিচার হামলায় নারী ও শিশুসহ এ পর্যন্ত ৫৪ হাজার ৮৮০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও ১ লাখ ২৬ হাজারের বেশি।

মাঝে যুদ্ধ বিরতি চুক্তি হলেও চুক্তির শর্ত ভেঙে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। তাতে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা। ইসরায়েলের এমন নির্বিচার হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে মুখ খুলেছেন পেপ গার্দিওলা। পাশাপাশি গভীর উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন তিনি।

সম্প্রতি ইউনিভার্সিটি অব ম্যানচেস্টারে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি পেয়েছেন গার্দিওলা। গত সোমবার সেই মঞ্চে বক্তব্য দিতে গিয়ে গার্দিওলা বলেছেন, ‘গাজায় যা হচ্ছে, সেটা সত্যিই অনেক বেশি কষ্টদায়ক। এটা আমাকে ব্যথিত করে।’

গার্দিওলা যোগ করেন, ‘একটা বিষয় স্পষ্ট করছি, এটা মতাদর্শের কোনো বিষয় নয়। আমি সঠিক নাকি ভুল, সেটার বিষয়ও নয়। এটা স্রেফ জীবনের প্রতি ভালোবাসা, প্রতিবেশীদের দেখভালের ব্যাপার।’

ইসরায়েলের ক্রমাগত হামলায় এরই মধ্যে গাজার প্রায় সব হাসপাতালে ধ্বংস হয়ে গেছে। চার-পাঁচ বছরের ছেলে মেয়েরা বোমা হামলায় হতাহত হচ্ছে। এটাকে শুধু গাজার সমস্যা না ভাবার অনুরোধ করেছেন ম্যান সিটি কোচ।

গার্দিওলার ভাষায়, ‘হয়তো আমরা ভাবছি, সেখানে বোমা হামলায় চার-পাঁচ বছরের ছেলে মেয়েরা মারা যাচ্ছে, কিংবা হাসপাতালে ওদের মৃত্যু হচ্ছে, কারণ সেগুলোকে আর হাসপাতাল বলার উপায় নেই। (হয়তো ভাবছি) এটা আমাদের সমস্যা নয়। আমাদের সেটা নিয়ে ভাবতে হবে।’

গার্দিওলা যোগ করেন, ‘মনে হতে পারে, এটা আমাদের সমস্যা না। কিন্তু সাবধান। পরের (হামলার শিকার) বাচ্চাটিই কিন্তু আমাদের হতে পারে। পরের চার-পাঁচ বছরের বাচ্চাটাই আমাদের হতে পারে। দুঃখিত। কিন্তু গাজায় এ দুঃস্বপ্নটা শুরু হওয়ার পর থেকেই প্রতিদিন সকালে যখন আমি আমার সন্তান মারিয়া, মারিউস ও ভ্যালেন্তিনাকে দেখি, আমি খুবই ভয় পাই।’