ক্লাব বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে পরপর দুদিনে দুটি ব্রাজিলিয়ান ক্লাব বিদায় নিলেও পরদিন আবার চমকে দিয়েছে আরেক ব্রাজিলিয়ান ক্লাব। টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে গতকাল নর্থ ক্যারোলাইনার শার্লটে ইন্তের মিলানোকে ২-০ গোলে হারিয়েছে ফ্লুমিনেন্স। এতে পালমেইরাসের পর দ্বিতীয় ব্রাজিলিয়ান দল হিসেবে এবারের টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠল রেনাতো গাউচোর শিষ্যরা।
ম্যাচের শুরুতে দারুণ এক আক্রমণ থেকে হেরমান কানোর হেডে এগিয়ে যায় ফ্লুমিনেন্স। আর যোগ করা সময়ে স্কোরলাইন ২-০ করেন হারকিউলিস।
ব্রাজিলের ফুটবলের জন্য আরেক বড় বিজ্ঞাপনই হয়ে থাকবে এই জয়। এর আগে গ্রুপ পর্বে এবারের উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ী পিএসজিকে হারিয়েছে বোতাফোগো, এবার চ্যাম্পিয়নস লিগে রানার্সআপ ইন্তেরকে বাড়িই পাঠিয়ে দিয়েছে ফ্লুমিনেন্স!
ইন্তের মিলানো অবশ্য চেষ্টার কমতি রাখেনি। তবে ভাগ্য সহায় ছিল না সর্বশেষ চ্যাম্পিয়নস লিগ রানার্স আপদের। দুটি শট পোস্টে লেগে ফেরত এসেছে ইন্তেরের। এছাড়া ফ্লুমিনেন্সের গোলপোস্টের নিচে ফাবিও ছিলেন দুর্দান্ত। লওতারো মার্তিনেসের শট ঠেকানোসহ আরও কয়েকটি দুর্দান্ত সেভ করেন ৪৪ বছর বয়সী এ ব্রাজিলিয়ান গোলকিপার।
অন্যদিকে গোল না পেলেও পুরো ম্যাচে দুর্দান্ত ছিলেন ফ্লুমিনেন্স স্ট্রাইকার জন আরিয়াস। অ্যাসিস্টে নাম না থাকলেও ব্রাজিলিয়ান ক্লাবটির প্রথম গোলে অবদান আছে ২৭ বছর বয়সী এ কলম্বিয়ান তারকার।
ম্যাচের তৃতীয় মিনিটে দারুণ এক দলীয় আক্রমণে বল পেয়ে ডান প্রান্ত থেকে ক্রস করেন আরিয়াস। ইন্তের ডিফেন্ডার বাস্তোনির পায়ে লেগে কিছুটা দিক বদলে বক্সে গেলে হেডে সেটি জালে পাঠান কানো। এছাড়া বক্সের বাইরে থেকে দুবার জোরাল শট নিয়েছিলেন আরিয়াস। দুবারই ঠেকিয়েছেন ইন্তের গোলকিপার ইয়ান সমার।
গতকাল ইন্তেরের ৩-৫-২ ফর্মেশনের বিপরীতে ফ্লুমিনেন্সকে ৩-৪-১-২ ফর্মেশনে খেলিয়েছেন গাউচো। তিন ডিফেন্ডার নিয়ে খেলার এ কৌশল যে কাজে দিয়েছে, সেটাতে খুশি ফ্লুমিনেন্স কোচ। ম্যাচ শেষে গাউচো বলেছেন, ‘আমি ওদের মাথায় ঢুকিয়ে দিয়েছিলাম, এটা কাজ করবে। ইন্তের দুর্দান্ত দল। ওদের আমাদের চেয়ে অনেক বেশি টাকা আছে। কিন্তু মাঠে তো ১১ জনের বিপরীতে ১১ জনই খেলে। দল বিশ্বাস রেখে লড়েছে এবং পুরো ৯০ মিনিট মনোযোগ ধরে রেখে খেলেছে।’
কোচের কৌশলের প্রতি আস্থা ছিল শিষ্যদের, সেটা উঠে এসেছে যোগ করা সময়ে গোল করা হারকিউলিসের কথাতেই, ‘কোচ আমাদের বলেছিলেন, ম্যাচটা কঠিন হতে যাচ্ছে। আমরাও সেটা জানতাম। কিন্তু আমরা ম্যাচে মনোযোগী ছিলাম। সেটাই কাজে দিয়েছে। আর এটার ফল তো চোখের সামনেই।’
শেষ আটে ফ্লুমিনেন্সের প্রতিপক্ষ হবে ম্যানসিটি-আল হিলাল ম্যাচের জয়ী দল।