শ্রীলঙ্কার জালে ৯ গোল মেয়েদের

বাংলাদেশেরই দাপট দেখানোর কথা ছিল, তাই বলে এতটা!

সিনিয়র মেয়েদের সাফেই সর্বশেষ দুবারের চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ, মেয়েদের বয়সভিত্তিক সাফে দাপট তো আরও বেশি। গত বছর অনূর্ধ্ব-২০ সাফেই ভারতের সঙ্গে শিরোপা ভাগাভাগি করতে হওয়া বাংলাদেশ আগের পাঁচটি বয়সভিত্তিক সাফের চারটিতেই শিরোপা জিতেছে।

তারওপর এবার বাংলাদেশে আয়োজিত এই সাফে ভারত তাদের দল পাঠায়নি। পাঁচ দলের সাফ হয়ে গেছে চার দলের।

বাংলাদেশের বয়সভিত্তিক এই সাফের দলে আবার আটজন আছেন, যাঁরা বাংলাদেশের সিনিয়র দলের হয়ে কদিন আগে এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে খেলেছেন। সেই বাছাইপর্বে বাংলাদেশের ইতিহাস গড়ার কথা নিশ্চয়ই আর আলাদা করে মনে করিয়ে দিতে হবে না!

সব মিলিয়ে তাই বসুন্ধরার কিংস অ্যারেনায় আজ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সাফের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ দাপুটে জয় পাবে, সেটা ধারণা করে নেওয়াই যাচ্ছিল।

তাই বলে এতটা দাপুটে!

শ্রীলঙ্কাকে ৯-১ গোলে গুঁড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ! প্রথমার্ধে ৩ গোল করা বাংলাদেশের মেয়েরা দ্বিতীয়ার্ধে করেছেন ছয় গোল! বাংলাদেশের হয়ে হ্যাটট্রিক করেছেন সাগরিকা, দুই গোল মুনকি আক্তারের। বাকি চার গোল স্বপ্না রানী, সিনহা জাহান শিখা, রূপা আক্তার ও শান্তি মার্ডির।

বাংলাদেশ আর শ্রীলঙ্কার ম্যাচটা দেখে যে কারও মনে হতে পারে, যেন ‘অ্যাটাক ভার্সেস ডিফেন্স’ অনুশীলন চলেছে ম্যাচজুড়ে। ফিটনেসে, গতিতে আর সেসবের চেয়েও বেশি করে দলীয় সমন্বয় আর ব্যক্তিগত স্কিলে বাংলাদেশের মেয়েরা এতটাই এগিয়ে ছিল যে, শ্রীলঙ্কা যে একটা গোল করেছে - এটাকেই তাদের বড় অর্জন বলে মনে হবে। গোলটার পর লঙ্কান ডাগআউটের উচ্ছ্বাসও ছিল চোখ কচলে দেখার মতো! অথচ ওই গোলে স্কোরলাইন হয়েছিল ৮-১!

দ্বিতীয় মিনিটে ফ্রি-কিকে স্বপ্নার গোলে বাংলাদেশের উৎসবের শুরু। তিন মিনিট পর লঙ্কান রক্ষণকে ঘোল খাইয়ে বাংলাদেশের দ্বিতীয় গোলটি মুনকির। এরপর ৩৭ মিনিটের আগে যে বাংলাদেশ গোল পায়নি, সেটা লঙ্কানদের সৌভাগ্য। মাঝের আধা ঘণ্টায় যে সাগরিকার একটা শট গোলপোস্টে লেগেছে, মুনকি একবার পোস্টের সামনে থেকে বল জালে জড়াতে ব্যর্থ হয়েছেন।

৩৭ মিনিটে অবশেষে সাগরিকা আক্রমণকে গোলে পূর্ণতা দিলেন। সিনহা জাহানের ক্রস থেকে সাগরিকা যখন আলতো শটে বল জালে জড়াচ্ছেন, লঙ্কান বক্সে লঙ্কান ডিফেন্ডারদের চেয়েও বাংলাদেশের খেলোয়াড় বেশি! বিরতির আগে আরও দুবার অফসাইডে গোল বাতিল হওয়ায় প্রথমার্ধেই স্কোরলাইনে আধা ডজন গোল হয়ে যায়নি!

বিরতির পর ঠিক তা-ই হলো। ৪৮ মিনিটে সাগরিকার পাস থেকে মুনকির গোল, পরের মিনিটে শান্তির ক্রসে পা ছুঁইয়ে গোল সিনহার। ৫২ মিনিটে বন্যার পাস ধরে দারুণ স্কিল দেখিয়ে বক্সে ঢোকার পর নিজের দ্বিতীয় ও দলের ষষ্ঠ গোল সাগরিকার। ম্যাচের অবস্থা তখন এমন যে, বাংলাদেশ আক্রমণে ওঠে আর রেফারিকে ব্যস্ত হয়ে পড়তে হয় গোলের রেকর্ড টুকে রাখতে রাখতে!

এর ছয় মিনিট পর হলো সাগরিকার হ্যাটট্রিক। ডান দিক থেকে পুজা দাসের ক্রসে ফিনিশিং এনে দিয়ে হ্যাটট্রিকটা পূরণ করে ফেললেন সাগরিকা। এরপর আবার কিছুক্ষণ বিরতি বাংলাদেশের, সাত গোল হয়ে যাওয়ার পর দলটার আক্রমণে তেজও কিছু কমেছে বটে। কমারই কথা! তবে ৮৫ মিনিটে আবার গোল! বন্যার নেওয়া কর্নার থেকে গোল রূপার। এরপর ম্যাচে প্রথমবারের মতো প্রাসঙ্গিক হয়ে গেল শ্রীলঙ্কা। ৯০ মিনিটে বাংলাদেশের রক্ষণের দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে গোলটার পথে লাইয়ানশিকার ফিনিশিং অবশ্য হয়েছে দারুণ।

কিন্তু নিজেরা এত গোল করলেও ম্যাচে শেষ গোলটা শ্রীলঙ্কার হবে, এটা মানতে বোধ হয় আপত্তি ছিল বাংলাদেশের মেয়েদের। যোগ করা সময়ে শান্তির গোল তাদের সেই ‘শান্তি’টুকুও এনে দিল।

ভারত নাম প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর চার দলের হয়ে যাওয়া টুর্নামেন্টের ফরম্যাটও বদলে ফেলা হয়েছে। এখন একটি দল অন্য সব দলের সঙ্গে দুবার করে খেলবে। সব ম্যাচ শেষে শীর্ষে থাকা দল হবে চ্যাম্পিয়ন। বাংলাদেশের পরের ম্যাচ ১৩ জুলাই, নেপালের বিপক্ষে।