প্রতিযোগিতার ইতিহাসে সফলতম দল তারা। এবারের মেয়েদের কোপা আমেরিকাতেও রীতিমতো উড়ছিল ব্রাজিল। তবু কলম্বিয়ার বিপক্ষে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচটা যে সহজ হবে না, সে ধারণা মিলেছিল গ্রুপ পর্বে। ফাইনালের আগ পর্যন্ত ৫ ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে ১৭ বার বল জড়ানো ব্রাজিল গ্রুপ ম্যাচে কলম্বিয়ার বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করেছিল।
গতকাল শনিবারের ফাইনালেও ব্রাজিলকে ছেড়ে কথা বলেনি কলম্বিয়া। ইকুয়েডরের স্তাদিও রদ্রিগো পাস দেলগাতোতে নির্ধারিত সময়ে ৩-৩ সমতায় শেষ হওয়ার পর অতিরিক্ত সময়েও সমতায় (৪-৪) ছিল দুদলের লড়াই। এতে ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানেও নাটকের কমতি ছিল না। পেনাল্টি শুটআউটে দুদলের ৭টি করে শটের পর শেষ পর্যন্ত কলম্বিয়াকে ৫-৪ ব্যবধানে হারিয়ে শিরোপা ঘরে তোলে ব্রাজিল।
টুর্নামেন্টে এটি ব্রাজিলের নবম শিরোপা। প্রতিযোগিতার ১০ মৌসুমের ইতিহাসে শুধু একবারই শিরোপা জিততে পারেনি ব্রাজিল। অন্যদিকে ছেলেদের সর্বশেষ কোপা আমেরিকার ফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে যাওয়ার পর এবার মেয়েদের কোপায় ব্রাজিলের কাছে স্বপ্নভঙ্গ হলো কলম্বিয়ার।
গতকালের ফাইনালে শুরুতে এগিয়ে গিয়েছিল কলম্বিয়া। ২৫ মিনিটে মাইরা রামিরেসের অ্যাসিস্টে স্কোরলাইন ১-০ করেন লিন্ডা কাইসেদো। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে অ্যাঞ্জেলিনার পেনাল্টি গোলে সমতায় ফেরে ব্রাজিল।
৬৯ মিনিটে তারিআন্তের আত্মঘাতী গোলে আবার পিছিয়ে (২-১) পড়ে ব্রাজিল। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার ১০ মিনিট আগে আমান্দা গুতিয়ারেস স্কোরলাইন ২-২ করেন। তবে ব্রাজিলকে স্বস্তিতে থাকতে দেয়নি কলম্বিয়া। ৮৮ মিনিটে মারিয়ানা রামিরেসের গোলে আরেকদফা এগিয়ে যায় (৩-২) মার্সিগিয়া অলিভারেসের শিষ্যরা।
কলম্বিয়ার শিরোপা জয় তখন সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে হয়েছিল। কিন্তু যোগ করা সময়ের একদম শেষ মুহূর্তে ব্রাজিলকে সমতায় (৩-৩) ফিরিয়ে ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যান বদলি নামা মার্তা।
অতিরিক্ত সময়ের খেলায় ১০৫ মিনিটে আবারও গোল করেন মার্তা। ব্রাজিল এগিয়ে যায় ৪-৩ ব্যবধানে। ১০ মিনিট পর লেসি সান্তোসের গোলে ম্যাচে ফেরে কলম্বিয়া। ৪-৪ সমতায় শেষ হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে।
সেখানে প্রথম ৫ শটে দুদলই দুটি করে শট মিস করে। ব্রাজিল পরের দুটি শটে গোল করলেও কলম্বিয়ার হয়ে সপ্তম শট নিতে যাওয়া জোরেলিন কারাবালি লক্ষ্যভেদ করতে ব্যর্থ হতেই শিরোপা উদযাপনে মেতে ওঠে ব্রাজিল।