অনূর্ধ্ব-২০ মেয়েদের এশিয়ান কাপ

বাংলাদেশকে আরেক সুখবর এনে দিলেন মেয়েরা

মেয়েদের অনূর্ধ্ব-১৭ দল তিনবার এশিয়ান কাপে খেলেছে। গত মাসে বাছাইপর্বে নিজেদের চেয়ে এগিয়ে থাকা দলকে হারিয়ে এশিয়ান কাপের মূল পর্বে প্রথমবারের মতো জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশের মেয়েদের সিনিয়র দল। অনূর্ধ্ব-২০ মেয়েদের দলও আর পিছিয়ে থাকে কেন! পিটার বাটলারের অধীনে সিনিয়র দলের মতো অনূর্ধ্ব-২০ দলও আজ বাংলাদেশকে সুখবর এনে দিয়েছে, প্রথমবারের মতো জায়গা করে নিয়েছে অনূর্ধ্ব-২০ মেয়েদের এশিয়ান কাপে।

আগামী বছরের এপ্রিলে থাইল্যান্ডে হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টে জায়গা করে নিতে অবশ্য অন্য দলের দিকেও তাকিয়ে থাকতে হয়েছে বাংলাদেশকে। আজ বাছাইপর্বে গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচে সাউথ কোরিয়ার কাছে বাংলাদেশ ৬-১ গোলে হেরে যাওয়ায় বাটলারের অধীন মেয়েদের এশিয়ান কাপের মূল পর্বে যাওয়া নিয়ে সংশয় জাগে। তবে এর কিছুক্ষণ পর গ্রুপ ‘ই’-তে শুরু হওয়া ম্যাচে চীনের কাছে লেবানন ৮-০ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ায় আর কোনো সংশয় থাকেনি, আট গ্রুপে দ্বিতীয় হওয়া আট দলের মধ্যে সেরা তিনে থেকে বাংলাদেশ জায়গা করে নিয়েছে এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বে।

ধারে-ভারে এগিয়ে থাকা সাউথ কোরিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশ আজ ড্র করতে পারলেও আগেই মূল পর্বে যাওয়া নিশ্চিত হয়ে যেত। কিন্তু ম্যাচে শুরুতে এগিয়ে গিয়ে, প্রথমার্ধ শেষে ১-১ সমতায় থেকেও শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ হেরে গেছে ৬-১ গোলে। এর মধ্যে তিনটি গোলই খেয়েছে শেষ দশ মিনিটে!

সাউথ কোরিয়ার মতো দলের কাছে হার তো আর অস্বাভাবিক কিছু নয়, কিন্তু বাংলাদেশ এত গোল খেয়ে যাওয়াতেই এশিয়ান কাপে যাওয়া নিয়ে সংশয় জেগেছিল। কারণ আগামী এপ্রিলে ১২ দল নিতে হতে যাওয়া এশিয়ান কাপে স্বাগতিক থাইল্যান্ডের বাইরে বাছাইপর্বে আট গ্রুপের সেরা আট দল সুযোগ পাবে, এর বাইরে তিন দল হবে আট গ্রুপের রানার্সআপ দলগুলোর মধ্যে সেরা তিনটি দল। বাংলাদেশ হেরেও গ্রুপে দ্বিতীয়ই ছিল, কিন্তু বড় ব্যবধানে হেরে যাওয়ায় শঙ্কা ছিল, আট গ্রুপে দ্বিতীয় হওয়া আট দলের মধ্যে সেরা তিনে থাকতে পারবে কি না।

মজার ব্যাপার, আগের দুই ম্যাচে বড় ব্যবধানে জেতায় আজ ছয় গোল খাওয়ার পরও বাংলাদেশের গোল ব্যবধান ছিল +৫, তাতে হারের পরও রানার্সআপ আট দলের মধ্যে তিন নম্বরেই ছিল বাংলাদেশ। তখন যা শঙ্কা ছিল শুধু লেবাননকে ঘিরে। রানার্সআপ আট দলের তালিকায় বাংলাদেশের নিচে থাকা পাঁচ দলের মধ্যে নেপাল আর মায়ানমার আগেই বাদ পড়েছে তাদের পয়েন্ট (দুই দলেরই ৪) অন্য ছয় দলের (সবারই পয়েন্ট ৬) চেয়ে কম হওয়ায়, বাকি তিন দলের মধ্যে ইরান আর হংকংয়ের তিনটি করে ম্যাচ শেষ হয়ে গিয়েছিল। শুধু তালিকার চার নম্বরে থাকা লেবাননের তখনো গ্রুপে তাদের শেষ ম্যাচটি বাকি ছিল। লেবানন আর বাংলাদেশের পয়েণ্ট সমান, কিন্তু গোল ব্যবধানে লেবানন (+২) পিছিয়ে ছিল। তাই সমীকরণ ছিল, লেবানন যদি গ্রুপের শেষ ম্যাচে চীনের সঙ্গে পয়েণ্ট পেয়ে যায়, তাহলে তারাই যাবে মূল পর্বে, বাংলাদেশ বাদ পড়বে।

কিন্তু ধারে-ভারে অনেক এগিয়ে থাকা চীনের বিপক্ষে লেবাননের পয়েন্ট পাওয়ার বাস্তব সম্ভাবনা বলতে গেলে শূন্যের কোঠায়ই ছিল। পয়েন্ট পাবে কি, লেবানন পাত্তাই পেল না।

ওই ম্যাচে প্রথমার্ধ শেষ হতেই বাংলাদেশের মূল পর্বে যাওয়া নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল, প্রথমার্ধেই যে চীনের কাছে ৬ গোল খেয়ে বসে লেবানন! শুধু বাংলাদেশের মূল পর্বে যাওয়ার আনুষ্ঠানিকতাটুকু বাকি ছিল, সেটা এল চীনের কাছে লেবানন ৮-০ গোলে হেরে ম্যাচ শেষ করার পর।

বাংলাদেশের ফুটবলে ছেলেদের সিনিয়র দল একবারই এশিয়ান কাপে খেলার সুযোগ পেয়েছে, সেটা ১৯৮০ সালে। মেয়েদের অনূর্ধ্ব-১৭ দল ২০০৫ সালের পর ২০১৭ ও ২০১৯ সালে দুবার খেলেছে। সিনিয়র মেয়েদের দল প্রথমবারের মতো এশিয়ান কাপে জায়গা নিশ্চিত করে গত মাসে, এবার জায়গা পেল মেয়েদের অনূর্ধ্ব-২০ দল।

গত ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে মেয়েদের ফুটবল দলের একটা অংশের প্রবল বিদ্রোহের মুখে পড়া কোচ পিটার বাটলারের জন্য আরেক সাফল্যের গল্পই হয়ে থাকছে এটি। বিদ্রোহী মেয়েদের বাদ দিয়ে তরুণ, ফিটনেসে এগিয়ে থাকা মেয়েদের নিয়ে দল গড়ার পর থেকে বাটলারের অধীন বাংলাদেশ একের পর এক অর্জনের গল্প লিখছে। সাফে সিনিয়র দল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, এরপর এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বে র‍্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকা দলকে হারিয়ে মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে। এর বাইরে বাটলারের অধীনেই মেয়েদের অনূর্ধ্ব-২০ দলও সাফ জেতার পর এবার জায়গা করে নিল এশিয়ান কাপের মূল পর্বে। চারে চার বাটলারের!