প্রিমিয়ার লিগের উদ্বোধনী ম্যাচে গতকাল শুক্রবার রাতে বোর্নমাউথকে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়েছে লিভারপুল। ঘরের মাঠ অ্যানফিল্ডে উগো একিতিকে ও কোদি খাপপোর দুই অর্ধে দুই গোলে ২-০ এগিয়ে গিয়েছিল অল রেড। ম্যাচের ৬৪ ও ৭৬ মিনিটে দুটি গোল করে বোর্নমাউথকে সমতায় ফিরিয়ে ম্যাচের উত্তেজনার পারদ শীর্ষে তোলেন অ্যান্টোয়ান সেমেনিও।
ম্যাচের ফল যখন ড্র বলেই মনে হচ্ছিল, ৮৮ মিনিটে দারুণ এক ভলিতে বোর্নমাউথের জালে বল জড়িয়ে ম্যাচের ভাগ্যরেখা বদলে দেন ফেদেরিকো চিয়েসা। যোগ করা সময়ে মোহামেদ সালাহর দৃষ্টিনন্দন গোল লিভারপুলের বড় জয় নিশ্চিত করে। আর এ গোলেই দুটি কীর্তিতে উঠেছে মিশরের তারকার ফরোয়ার্ডের নাম।
যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে নিজেদের অর্ধ থেকে উঁচু করে বল বাড়িয়েছিলেন লিভারপুলের জাপানি মিডফিল্ডার ওতারু এন্দো। সে বল যাচ্ছিল লেফট উইংয়ের দিকে। সালাহ ছিলেন রাইট উইংয়ে। সেখান থেকেই দারুণ ক্ষিপ্রতায় লেফট উইংয়ের দিকে দৌড় দেন সালাহ।
দৌড়ে বোর্নমাউথ ডিফেন্ডার বাফোদে দিয়াকিতে ও জেমস হিলকে পরাস্ত করে বলের নিয়ন্ত্রণ নেন। লেফট উইংদিয়েই ঢুকে পড়েন বক্সে। ততক্ষণে সামনে গিয়ে সালাহকে শট না দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন দিয়াকিতে ও হিল। তাঁদের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন আরও এক ডিফেন্ডার- মার্কোস সেনেসি। কিন্তু সালাহকে ঠেকাতে পারেননি। দূরের পোস্ট দিয়ে মাটি কামড়ানো শটে জালে বল জড়ান সালাহ। সঙ্গে নিজের নামটাও তোলেন অনন্য এক মাইলফলকে।
প্রিমিয়ার লিগের উদ্বোধনী দিনে এটি সালাহর ১০ম গোল। লিগ শুরুর দিনে রেকর্ডটা আগে থেকেই সালাহর দখলে ছিল। তবে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে গোলের সংখ্যাটা দুই অঙ্কে নিয়ে গেলেন ৩৩ বছর বয়সী এ রাইট উইঙ্গার। ৮ গোল নিয়ে এ তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে আছেন চারজন – জেমি ভার্ডি, ওয়েইন রুনি, অ্যালান শিয়েরার ও ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ড।
বোর্নমাউথের বিপক্ষে গোলে এ গোলে প্রিমিয়ার লিগের আরেকটা কীর্তিতে একধাপ এগিয়ে গেলেন সালাহ। ইংল্যান্ডের শীর্ষ লিগে এটি ছিল সালাহর ১৮৭তম গোল। এ গোলে প্রিমিয়ার লিগ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলের তালিকায় যৌথভাবে চতুর্থ স্থানে উঠে গেছেন সালাহ। মিশরীয় তারকা ভাগ বসিয়েছেন এতদিন তৃতীয় স্থানে একা থাকা সাবেক ইংলিশ ফরোয়ার্ড অ্যান্ডি কোলের।
লিগ শুরুর দিনে শিয়েরার রুনিদের ছাড়িয়ে গেলেও লিগে সর্বোচ্চ গোলের তালিকায় সালাহর ওপরই আছেন তাঁরা। ২৬০ গোল নিয়ে সবার ওপরে শিয়েরার, ২০৮ গোল করা রুনি আছেন তৃতীয় স্থানে। আর ২১৩ গোল করে দ্বিতীয় স্থানে বসে আছেন হ্যারি কেইন।