প্রিমিয়ার লিগে এবার চেলসির শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি। ঘরের মাঠে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ক্রিস্টাল প্যালেসের সঙ্গে গোল শূন্য ড্র করেছিল এনসো মারেসকার শিষ্যরা। তবে পরের ম্যাচেই ঘুরে দাঁড়িয়েছে চেলসি। লিগে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে গতকাল ওয়েস্ট হাম ইউনাইটেডের মাঠে গিয়ে শুরুতে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত ম্যাচটাকে একপেশে বানিয়ে ৫-১ ব্যবধানের জয় তুলে নিয়েছে মারেসকার দল।
চেলসির বড় জয়ের মুল কারিগর দলটির লাতিন আমেরিকার ফুটবলাররা। সেটা গোলদাতাদের নামের দিকে তাকালে সহজেই বোঝা যাবে। জোয়াও পেদ্রো, পেদ্রো নেতো, এনসো ফের্নান্দেস, ময়েসিস কাইসেদো ও চালোবাহ- চেলসির ৫ গোলের তিনটিই করেছেন লাতিন অঞ্চলের ফুটবলাররা। আর অন্য দুটি গোলের অ্যাসিস্টসহ তিনটি গোল বানিয়ে দিয়েছেন তারা।
স্বস্তির জয়ে মাঠ ছাড়লেও ম্যাচের আগেই দুঃসংবাদ পেয়েছিল চেলসি। ওয়ার্মআপের সময় চোট পেয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যান কোল পালমার। ইংলিশ তারকার পরিবর্তে একাদশে সুযোগ পান এস্তেভাও। আর এস্তেভাওয়ের ভুলে শুরুতে পিছিয়ে পড়ে চেলসি।
ম্যাচের ৬ মিনিটে বলের দখল হারান এস্তেভাও। সেখান থেকে বল পেয়ে কিছুটা এগিয়ে দূর পাল্লার শটে ওয়েস্ট হামকে এগিয়ে দেন লুকাস পাকেতা।
ওয়েস্ট হাম বেশিক্ষণ লিড ধরে রাখতে পারেনি। ৯ মিনিট পর কর্নার থেকে মার্ক কুকুরেয়ার হেড ফ্লিকে দ্বিতীয় হেড করেন জোয়াও পেদ্রো। ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডারের হেড আশ্রয় নেয় ওয়েস্ট হামের জালে। তাতে ম্যাচে ফেরে চেলসি।
পরের মিনিটে চেলসি সমর্থকদের স্তব্ধ করে আবারও জালে বল জড়িয়েছিল ওয়েস্টহাম। কিন্তু বিল্ড আপের সময় জ্যঁ ক্লেয়ার তোদিবো অফসাইডে থাকায় নিকোলাস ফুলক্রুগের গোলটি বৈধতা পায়নি।
এরপর থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় চেলসি। একের পর এক আক্রমণে ব্যস্ত রাখে ওয়েস্ট হাম রক্ষণ। এর ফলও পায় দ্রুতই। ২৩ মিনিটে জোয়াও পেদ্রোর মাপা অ্যাসিস্টে পা লাগিয়ে চেলসিকে এগিয়ে (২-১) দেন পেদ্রো নেতো।
১১ মিনিট পর ব্যবধান আরও বাড়ান (৩-১) এনসো ফের্নাদেস। অবশ্য এ গোলে আর্জেন্টাইন বিশ্বকাপজয়ী মিডফিল্ডারকে তেমন কষ্ট করতে হয়নি। বক্সের অনেকটা বাইরে বল পেয়ে দারুণ ক্ষিপ্রতায় বক্সে ঢুকে পড়েন এস্তেভাও। এরপর ডানপ্রান্ত থেকে ক্রস করেন ব্রাজিলিয়ান রাইটউইঙ্গার। সেটা শুধু সময়মতো পা লাগিয়ে জালে বল জড়ান ফের্নান্দেস।
৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় চেলসি। ৫৪ মিনিটে আবারও গোল উদযাপন করে মারেসকার দল। এবার গোলের খাতায় নাম লেখান কাইসেদো। অবশ্য চেলসির ইকুয়েডর মিডফিল্ডারের গোলে ওয়েস্ট হাম গোলকিপার ম্যাডস হারম্যানসেনের অবদানও কম নয়। কর্নার থেকে আসা বল ঠিকঠাক ঠেকাতে পারেননি হারম্যানসেন। ওয়েস্ট হাম গোলকিপারের হাতে লেগে বল যায় কাইসেদোর সামনে। সেখান থেকে জোরালো শটে গোল করেন ২৩ বছর বয়সী মিডফিল্ডার।
৪ মিনিট পরেই স্কোরলাইন ৫-১ করেন চালোবাহ। এবারও কর্নার থেকে আসা বলে ওয়েস্ট হাম বক্সে জটলার তৈরি হয়। সেখানে কয়েকজনের মাথা ঘুরে বল যায় চালোবাহর সামনে। ওয়েস্টহাম গোলকিপার ধরার আগেই পা লাগিয়ে সেটা জালে পাঠান ইংলিশ সেন্টারব্যাক।