ম্যাচের যোগ করা সময়ের শেষ মুহূর্তে বার্নলি বক্সের ভেতর ঢুকতে গিয়ে দলটির ডিফেন্ডার হার্টম্যান ও উইঙ্গার জেডন অ্যান্থনির বাধায় পড়ে যান আমাদ দিয়েলো। ভিএআর যাচাইয়ে পেনাল্টি পায় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।
‘ভাগ্যগুণে’ পাওয়া পেনাল্টিতে বল জালে জড়িয়ে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন ব্রুনো ফের্নান্দেস। শুধু পর্তুগিজ মিডফিল্ডারই নন, উল্লাসে মেতে ওঠেন ম্যান ইউনাইটেডের খেলোয়াড় থেকে শুরু করে ওল্ড ট্রাফোর্ডে উপস্থিত দলটির সমর্থকেরা।
রেড ডেভিলদের বাধভাঙা উদযাপনে যথেষ্ট কারণও আছে। বার্নলির বিপক্ষে দুবার এগিয়ে গিয়েও লিড ধরে রাখতে পারেনি রুবেন আমোরিমের শিষ্যরা। শেষ মুহূর্তে স্পটকিক থেকে ফের্নান্দেসের ওই গোলেই স্বস্তির ৩-২ ব্যবধানের জয় পেয়েছে ম্যান ইউনাইটেড। চলতি মৌসুমে এটাই প্রথম জয় আমোরিমের দলের।
প্রিমিয়ার লিগে আর্সেনালের বিপক্ষে হার দিয়ে মৌসুম শুরু করা ইউনাইটেড নিজেদের পরবর্তী লিগ ম্যাচে ফুলহামের মাঠে গিয়ে ড্র করেছে। এরপর লিগ কাপে চতুর্থ স্তরের দল গ্রিমসবি টাউনের কাছে টাইব্রেকারে হেরে বাদ পড়েছে টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় রাউন্ড থেকেই।
বাজে সময়ের বৃত্তে ঘুরপাক খাওয়া ম্যান ইউনাইটেড জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ল অবশেষে। সে কারণেই কি না ফের্নান্দেসের ওই জয়সূচক গোলের সময়ও আমোরিমকে উল্লাস করতে দেখা যায়নি! প্রতিপক্ষ কোচ স্কট পার্কারের সঙ্গে হাত মিলিয়ে একা একাই টানেল দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন ড্রেসিংরুমের দিকে। চোখে মুখে উচ্ছ্বাসের ছিটে ফোটা না থাকলেও আমোরিম যে অবশেষে স্বস্তির দেখা পেয়েছেন, সেটা বোধহয় না বললেও চলে। কারণ, পরিসংখ্যানে ইউনাইটেড ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে কোচকে ছাঁটাইয়ের গুঞ্জন ভালোমতোই শুরু হয়েছিল ম্যাচের আগে।
ম্যান ইউনাইটেডের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের গ্রাফ এতটাই নীচে নেমেছিল যে, কয়েকদিন আগে সংবাদ সম্মেলনে আমোরিম জানিয়েছিলেন, ইউরোপে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করার মতো অবস্থাতেও নেই তার দল। ম্যান ইউনাইটেডের সমস্যাটা আসলে কোথায়, সেটার ব্যাখ্যায় আমোরিম বলেছিলেন, ‘আমরা এমন একটা পরিস্থিতিতে আছি, প্রতিপক্ষ আমাদের বক্সের আশ-পাশে বল পেলেই মনে হবে গোল করে ফেলবে!’
আমোরিমের এ মন্তব্যেই ইউনাইটেড ডিফেন্ডারদের দুর্বলতা ও প্রতিনিয়ত গোলকিপারের ভুলের মাসুলের বিষয়টি উঠে আসে। গতকালও গোলপোস্টের নীচে ভুল করেছেন বায়েনদির।
২৭ মিনিটে মাঠের বাঁ প্রান্ত থেকে ব্রুনো ফের্নান্দেসের ফ্রি কিকে কাসেমিরোর হেড বারে লেগে ফেরত আসে। ফিরতি বল বার্নলি মিডফিল্ডার জস কুলেনের গায়ে লেগে আবার গোলের দিকেই যায়। তড়িঘড়ি করে মার্টিন দুব্রাভকা বল ফেরালেও ততক্ষণে গোললাইন পেরিয়ে যায়। এতে লিড (১-০) পায় ইউনাইটেড।
বিরতির পর ম্যাচে ফেরে বার্নলি। ৫৫ মিনিটে ডানপ্রান্ত থেকে ডেনিস রাইট উইঙ্গার জ্যাকব ব্রায়ান লারসেনের ক্রসে পারফেক্ট স্ট্রাইকারের মতো পায়ের সাইডের অংশ দিয়ে ফিনিশিং দেন সাউথ আফ্রিকান লাইল ফস্টার।
দু মিনিট পরেই আবারও এগিয়ে যায় ইউনাইটেড। এবার দিয়েগো দালোতের কাট ইনে স্কোরলাইন ২-১ করেন ব্রায়ান এমবুয়েমো। তবে সে লিডও বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি আমোরিমের দল। ৬৬ মিনিটে গোলকিপার বায়েনদিরের ভুলে গোল হজম করে ইউনাইটেড।
বক্সের জটলার মধ্যে থেকে নেওয়া লুম চউনার নেওয়া শট অবিশ্বাস্যভাবে নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেননি ইউনাইটেড গোলকিপার। বায়েনদিরের হাত ফসকে বল বেরিয়ে যায়। সুযোগ পেয়ে সামনে থাকা অ্যান্থনি স্কোরলাইন ২-২ করেন।
শেষ দিকে আক্রমণ-প্রতিআক্রমণ চললেও জালের দেখা পাচ্ছিল না কোনো দল। ৫ মিনিট যোগ করা সময়ের শেষ মুহূর্তে আমাদ দিয়েলোকে ফাউলের সুবাদে ওই পেনাল্টি। তাতে মৌসুমে প্রথমবার পূর্ণাঙ্গ তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে আমোরিমের দল।
গোলকিপারের ভুল হলেও তাঁর একার কাঁধে দায় দিতে চান না এ পর্তুগিজ কোচ। আমোরিমের ভাষায়, ‘ওরাও মানুষ। আর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে সবকিছুই নিয়েই সংবাদ হয়। সবাই গোলকিপার নিয়ে কথা বলছে। আমি গোলকিপার বদলাতে পারি। কিন্তু এমন ঘটনা তবুও ঘটে। আমরা এখন সেই পরিস্থিতিতে আছি।’
ইউনাইটেড কোচ যোগ করেন, ‘ক্লাবকে ঘিরে যা হচ্ছে, এটার ফলে খেলোয়াড়রা কিছুটা ভুগছে। এটাই হওয়ার কথা। আমার মনে নয়, শুধু গোলকিপার নয়, সবারই উন্নতি করতে হবে।’
ওদিকে শেষ মুহূর্তে পেনাল্টিতে গোল হজম করে হার মানতে পারছেন না বার্নলি কোচ পার্কার। ৪৪ বছর বয়সী এ ইংলিশ কোচ দায় দিয়েছেন ভিএআরের ওপর। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির সঙ্গে আলাপকালে পার্কার বলেছেন, ‘খেলাটা এখন এভাবেই চলছে। প্রতি মিনিটে চারবার করে সবকিছু যাচাই করা হচ্ছে। মাঠে রেফারি ফাউল (আমাদ দিয়েলোর ঘটনা) দেননি। তারপর আমরা সেটাকে আবার রেফারিং করছি। এটা আসলে রেফারির দোষ নয়। এটা এমন একজন লোকের কাজ, যিনি ২০০ মাইল দূরে বসে বসে আছেন।’