চ্যাম্পিয়নস লিগে রেয়ার মাদ্রিদের জার্সিতে অভিষেকটা সুখকর হয়নি ট্রেন্ট আলেক্সান্ডার আরনল্ডের। ম্যাচ শুরুর ২৮৮ সেকেন্ডের মধ্যে চোটে পড়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন ইংলিশ রাইট ব্যাক। আর্নল্ডের বদলি হিসেবে যে দানি কারভাহাল মাঠে নেমেছেন, দিনটা তাঁরও ছিল না। মার্শেইয়ের আর্জেন্টাইন গোলকিপার হেরোনিমো রুইয়িকে ঢুস মেরে ৭২ মিনিটে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন স্প্যানিশ ডিফেন্ডার।
১০ জনে পরিণত হলেও মাদ্রিদকে বিপদে পড়তে দেননি কিলিয়ান এমবাপ্পে। শুরুতে পিছিয়ে পড়লেও ফরাসি স্ট্রাইকারের দুই অর্ধের দুই পেনাল্টি গোলে শেষ পর্যন্ত মার্শেইকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে শাবি আলোনসোর শিষ্যরা।
১৯৯২ সালে নতুন নামকরণের পর থেকে চ্যাম্পিয়নস লিগে এটি ছিল রেয়াল মাদ্রিদের ২০০তম জয়। প্রথম দল হিসেবে এ কীর্তি গড়ল ১৫ বারের শিরোপাজয়ীরা।
স্কোরলাইন অবশ্য ম্যাচের পুরো চিত্র বোঝাতে পারছে না। পুরো ম্যাচেই দাপুটে ফুটবল খেলা রেয়াল মাদ্রিদ গতকাল শট নিয়েছিল ২৮টি, যার ১৫টিই ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে ১৫টি শট নিয়ে মার্শেই লক্ষ্যে রাখতে পেরেছে ৫টি। সবচেয়ে অবাক করা বিষয়, ম্যাচে রেয়াল মাদ্রিদের গোলের সম্ভাবনা (xG) ছিল ৩.৬৫!
আলোনসোর ৪-২-৩-১ ফর্মেশনে খেলতে নামা মাদ্রিদ বের্নাবাউয়ে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল। ম্যাচের প্রথম দশ মিনিটের মধ্যেই তিনটি বড় সুযোগ তৈরি করে লস ব্ল্যাঙ্কোরা। ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটে বক্সের ভেতর থেকে এমবাপ্পের নেওয়া বাইসাইকেল কিক অল্পের জন্য দূরের পোস্ট ঘেঁষে বেরিয়ে যায়।
মিনিট চারেক পর রাইট উইং দিয়ে বক্সে ঢুকে পড়া ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়োনোর একটি প্রচেষ্টা পোস্টে লেগে ফেরত আসে। দশম মিনিটে এমবাপ্পের আরেকটি শট কোনোমতে ঠেকিয়ে দেন রুইয়ি। মার্শেইয়ের এই আর্জেন্টাইন গোলকিপার শুধু প্রথমার্ধেই ১০টি সেভ করেছেন।
মাদ্রিদের টানা আক্রমণের ভিড়ে প্রথম গোলের দেখা পায় মার্শেই। ম্যাচের ২২তম মিনিটে মধ্যমাঠে আরদা গুলাশের পা থেকে বল কেড়ে নিয়ে আক্রমণে ওঠেন ম্যাসন গ্রিনউড। অনেকটা এগিয়ে বক্সে ঢুকে ছোট করে বল বাড়ান টিমোথি উইয়াহর দিকে। সেখান থেকে বুলেট গতির জোরালো শটে মার্শেইকে এগিয়ে (১-০) দেন যুক্তরাষ্ট্রের লেফট উইঙ্গার।
অবশ্য বেশিক্ষণ পিছিয়ে থাকতে হয়নি মাদ্রিদকে। ২৭ মিনিটে বক্সের ভেতর রদ্রিগোকে ফাউল করেন জিওফ্রে কনদগবিয়া। এতে পেনাল্টি পায় মাদ্রিদ। স্পটকিক থেকে দলকে সমতায় ফেরান এমবাপ্পে।
প্রথমার্ধের বাকিটা জুড়ে টানা আক্রমণ চালিয়ে গেলেও আর গোলের দেখা পায়নি মাদ্রিদ। দ্বিতীয়ার্ধেও একই পরিণতি। এর মধ্যে ৬৯তম মিনিটের এক ঘটনায় লাল কার্ড দেখেন কারভাহাল। কর্নার নেওয়ার আগ মুহূর্তে মার্শেই গোলকিপারকে ঢুস মেরে ফেলে দেন স্প্যানিশ রাইটব্যাক। ভিএআর যাচাই করে কারভাহালকে লাল কার্ড দেখান রেফারি ইরফান পেস্তো।
১০ জনে পরিণত হওয়া মাদ্রিদ কিছুসময় পর লিড পায়। ৭৯ মিনিটে এমবাপ্পের ফ্লিকে বলের নিয়ন্ত্রণ নিতে বক্সের ভেতর দারুণ ক্ষিপ্রতায় ঢুকে পড়েছিলেন ভিনিসিয়ুস। ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গারকে ট্যাকল করতে গিয়ে হাতে বল লাগিয়ে বসেন ফাকুন্দো মেদিনা। ম্যাচে দ্বিতীয় পেনাল্টি পায়। সেটা সফলভাবে জালে পাঠিয়ে মাদ্রিদকে লিড এনে দেন এমবাপ্পে। শেষ পর্যন্ত ফরাসি স্ট্রাইকারের এ গোলটিই ম্যাচের ব্যবধান গড়ে দেয়।
ম্যাচ শুরুর আগে স্টেডিয়ামের বাইরে মার্শেই সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ফরাসি ক্লাবটির সমর্থকদের জন্য বরাদ্দকৃত জায়গা থেকে অন্যদিকে যাওয়ার চেষ্টা চালালে দাঙ্গাপুলিশ ও ঘোড়সওয়ার বাহিনী লাঠিচার্জ করে মার্শেই সমর্থকদের ছত্রভঙ্গ করে। পরিস্থিতি দ্রুতই নিয়ন্ত্রণে এলে কয়েকহাজার মার্শেই সমর্থক মাঠে প্রবেশ করে খেলা উপভোগ করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মাদ্রিদের কাছে হার দেখতে হয়েছে তাদের।