ফিফা র্যাঙ্কিং-ই বলে দিচ্ছিল, আর্জেন্টিনা-পুয়ের্তো রিকোর মধ্যকার প্রীতি ম্যাচের লড়াইটা হবে অসম। একদিকে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, অন্যদিকে নামে-ভারে-শক্তিতে যোজন যোজন পিছিয়ে র্যাঙ্কিংয়ের ১৫৫ নম্বরে থাকা পুয়ের্তো রিকো।
ম্যাচে যে আর্জেন্টিনার কাছে পাত্তা পাবেনা দলটি, সেটা তো অনুমিতই ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের চেজ স্টেডিয়ামে হয়েছে সেটাই। পুঁচকে পুয়ের্তো রিকোকে নিয়ে রীতিমতো ছেলে খেলা করে আর্জেন্টিনা ম্যাচটা জিতেছে ৬-০ ব্যবধানে।
আর্জেন্টিনার বড় জয়ে জোড়া গোল করেছেন আলেক্সিস মাকআলিস্তার ও লওতারো মার্তিনেস। একটি গোল করেছেন গনসালো মন্তিয়েল। অন্য গোলটি পুয়ের্তো রিকো নিজেরাই নিজেদের জালে জড়িয়েছে।
ম্যাচে আর্জেন্টিনার আক্ষেপ বলতে, লিওনেল মেসির গোল না পাওয়া। এমএলএসে ইন্টার মায়ামির ম্যাচকে প্রাধান্য দিয়ে আর্জেন্টিনার সর্বশেষ ম্যাচে খেলেননি মেসি। ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে মেসিহীন আর্জেন্টিনা ১-০ ব্যবধানে জয় পেলেও ঘাম ঝরাতে হয়েছে বেশ। আজ মেসি ফিরলেও গোল পাননি। তবে দুটি গোলে অ্যাসিস্ট করেছেন।
তাতে একটা রেকর্ডেও উঠেছে আর্জেন্টাইন অধিনায়কের নাম। জাতীয় দলের হয়ে সবচেয়ে বেশি ৬০ অ্যাসিস্ট এখন মেসির। ছাড়িয়ে গেছেন ব্রাজিলের জার্সিতে নেইমারের অ্যাসিস্টের রেকর্ডকে। সরাসরি দুই অ্যাসিস্টের বাইরে আর্জেন্টিনার আরও দুটি গোলে পরোক্ষ অবদান রেখেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
চেজ স্টেডিয়ামে অবশ্য বলতে গেলে আজকের পুরো ম্যাচটাই হয়েছে একপাক্ষিক। বলের দখল থেকে আক্রমণ, সবদিকেই একচেটিয়া দাপট দেখিয়েছে লিওনেল স্কালোনির দল। ৬৮ শতাংশ বলের দখল রাখা আর্জেন্টিনা ম্যাচে ২৫ শট নিয়েছে, যার ১১টি ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে পুয়ের্তো রিকোর ৫ শটের ৩টি লক্ষ্যে থাকলেও গোলপোস্টের নিচে এমিলিয়ানো মার্তিনেসের দৃঢ়তায় কোনো বিপদ হয়নি আর্জেন্টিনার।
একপেশে ম্যাচে প্রথম গোলের জন্য আর্জেন্টিনাকে অপেক্ষা করতে হয়েছে ১৪ মিনিট পর্যন্ত। মেসির শট ক্রসবারে লেগে ফেরত এলে ফিরতি বলে দারুণ ভলি করেছিলেন নিকো গনসালেস। সেই ভলি দূরের পোস্টের দিকে যাচ্ছিল। মাঝপথে হেডে দিক বদলিয়ে সেটা জালে পাঠান মাকআলিস্তার।
৮ মিনিট পর দ্বিতীয় গোলের দেখা পায় আর্জেন্টিনা। এবার বক্সের বাইরে থেকে বুটের সামনের অংশ দিয়ে ডানদিকে বল তুলে দিয়েছিলেন মেসি। সেই বল মাটিতে পড়ার আগেই দারুণ ভলিতে স্কোরলাইন ২-০ করেন গনসালো মন্তিয়েল।
আর্জেন্টিনার তৃতীয় গোলটাতে সরাসরি না হলেও পরোক্ষ অবদান আছে মেসি-নিকো গনসালেসের। ৩৬ মিনিটে ডানপ্রান্ত থেকে লম্বা করে বাঁপ্রান্তে বাড়ানো মেসির ক্রস খুঁজে নেয় গনসালেসকে। সেই ক্রসে আলতো হেডে বক্সের ভেতর থাকা হোসে লোপেসকে বল দেন গনসালেস। কিন্তু লোপেসের গায়ে আঠার মতো লেগে ছিলেন পুয়ের্তো রিকোর এক ডিফেন্ডার। সুবিধা করতে না পেরে শরীরটা ঘুরিয়ে পেছনে থাকা মাকআলিস্তারের দিকে বল দেন লোপেস। বক্সের ভেতর সুবিধাজনক জায়গায় বল পেয়ে জোরালো শটে ব্যবধান বাড়ান (৩-০) মাকআলিস্তার।
বিরতির পর একই গতিতে খেলতে থাকা আর্জেন্টিনা চতুর্থ গোলের দেখা পায় ৬৫ মিনিটে। এবার নিকো গনসালেসের শট পুয়ের্তো রিকোর লেফট ব্যাক স্টিভেন এচেভারিয়ার পায়ে লেগে দিক বদলে আশ্রয় নেয় জালে। ব্যস, ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা।
নির্ধারিত সময়ের ১১ মিনিট আগে আবারও গোল উদযাপন করে আর্জেন্টিনা। লওতারো মার্তিনেসের এ গোলের অ্যাসিস্টে মেসির নাম না থাকলেও বল বানিয়ে দিতে বড় অবদান রেখেছেন মেসি। বক্সের বাইরে থেকে বুটের সামনের অংশ দিয়ে বল তুলে দিয়েছিলেন মেসি। সেটি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বক্সের ভেতর তুলনামূলক ফাঁকায় থাকা লওতারোকে বল দেন নিকো গনসালেস। সেটি জালে জড়াতে কোনো ভুল করেননি ইন্তের মিলান তারকা।
৫ মিনিট পর আবারও গোল করেন লওতারো। এবার সরাসরি মেসির অ্যাসিস্টে। বক্সের ভেতর ঢুকতে গিয়ে ব্যাকহিলে লওতারোকে বল বানিয়ে দেন মেসি। সেখান থেকে ডান পায়ের মাটি কামড়ানো শটে স্কোরলাইন ৬-০ করেন লওতারো।