২০২৬ বিশ্বকাপ শুরু হতে এখনো প্রায় আট মাস বাকি। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে হতে যাওয়া ৪৮ দলের এ বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখতে গত সেপ্টেম্বরে ৪৫ লাখের বেশি মানুষ প্রাথমিকভাবে আবেদন করেছিল। সেখান থেকে লটারির মাধ্যমে টিকিট কেনার সুযোগ পান নির্বাচিত ক্রেতারা।
এরই মধ্যে প্রথম ধাপের টিকিট কেনার সময় শেষ হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে ফিফা জানিয়েছে, প্রথম ধাপে ১০ লাখেরও বেশি টিকিট বিক্রি হয়েছে। অক্টোবরের শুরুতে আনুষ্ঠানিকভাবে টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ার পর এই প্রথমবার সংখ্যা জানাল বৈশ্বিক ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
ফিফা জানিয়েছে, বিশ্বের ২১২টি দেশ ও অঞ্চলের মানুষ টিকিট কিনেছে। অনুমিতভাবেই টিকিটের সবচেয়ে বেশি চাহিদা ছিল আয়োজক তিন দেশ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো থেকে।
ফিফার তথ্যানুযায়ী, আয়োজক দেশের বাইরে টিকিট কেনার দিক থেকে শীর্ষ দশে থাকা অন্যান্য দেশগুলো হলো ইংল্যান্ড, জার্মানি, ব্রাজিল, স্পেন, কলম্বিয়া, আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্স।
টিকিটের চাহিদা প্রসঙ্গে ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেছেন, ‘বিশ্বজুড়ে জাতীয় দলগুলো যখন ঐতিহাসিক ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে জায়গা পাওয়ার জন্য লড়াই করছে, সেই অবস্থায় এত ফুটবলপ্রেমী উত্তর আমেরিকার বিশেষ আয়োজনে অংশ নিতে আগ্রহী- এটা সত্যিই রোমাঞ্চকর। সাড়াটা অবিশ্বাস্য। ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বিশ্বকাপ যে বিশ্বজুড়ে সমর্থকদের কল্পনার হৃদয় ছুঁয়েছে, এটা সেটারই ইঙ্গিত।’
প্রথম ধাপে ১০ লাখের বেশি টিকিট বিক্রি হলেও নির্দিষ্ট ম্যাচ বা আয়োজক শহরভিত্তিক টিকিট বিক্রির কোনো ধরনের সংখ্যা জানায়নি ফিফা। দ্বিতীয় ধাপের টিকিট কেনার আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে আগামী ২৭ অক্টোবর। এ ধাপে বিশ্বকাপের ১০৪ ম্যাচের একক টিকিট থেকে শুরু করে নির্দিষ্ট ভেন্যু বা দলভিত্তিক টিকিট বিক্রি হবে।’
ক্রীড়া বিষয়ক সংবাদমাধ্যম ইএসপিএন এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, উত্তর আমেরিকায় আয়োজিত এ বিশ্বকাপে সব মিলিয়ে ১০৪টি ম্যাচে ৭১ লাখ দর্শক সরাসরি মাঠে বসে খেলা দেখতে পারবেন। তবে এর মধ্যে ঠিক কতগুলো আসন সাধারণ দর্শকদের বিক্রির জন্য উন্মুক্ত থাকবে, সেটা এখনো জানা যায়নি।
প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, সবচেয়ে কম মূল্যের টিকিটের দাম ছিল ৬০ ডলার। এ টিকিট ৪০টি ম্যাচের জন্য প্রযোজ্য ছিল। তবে অধিকাংশ ম্যাচের টিকিটের দামই বেশি। উদাহরণস্বরূপ, যুক্তরাষ্ট্রে উদ্বোধনী ম্যাচটি হবে ক্যালিফোর্নিয়ার সোফি স্টেডিয়ামে। এ স্টেডিয়ামে টিকিটের মূল্য ৫৬০ ডলার থেকে শুরু করে ২৭৩৫ পর্যন্ত।
দর্শকেরা চারটি ক্যাটাগরি থেকে পছন্দমতো শ্রেণির আসন বেছে নিতে পারেন। যেখানে সবচেয়ে ভালো আসনগুলো ক্যাটাগরি-১ এ এবং গ্যালারির ওপরের দিকের আসনগুলো ক্যাটাগরি-৪ এ রাখা হয়েছে। প্রথমবারের মতো ফিফা ডাইনামিক প্রাইসিং সিস্টেম চালু করেছে। ফলে টিকিটের দাম সময়ভেদে পরিবর্তিত হবে।
আগামী ২৭ অক্টোবর থেকে দ্বিতীয় ধাপের টিকিটের জন্য আবেদন শুরু হলেও লটারির মাধ্যমে টিকিট কেনার সুযোগপ্রাপ্তরা নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত টিকিট কেনার সুযোগ পাবেন। ৫ ডিসেম্বর বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দলগুলোর চূড়ান্ত ড্র অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তৃতীয় ও শেষ ধাপের টিকিট বিক্রি শুরু হবে।
ফিফা জানিয়েছে, বিশ্বকাপের সময় ঘনিয়ে এলে ‘আগে আসলে আগে পাবেন’ ভিত্তিতে টিকিট বিক্রি করা হবে। এছাড়া আনুষ্ঠানিকভাবে টিকিট পুনঃবিক্রয় প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে বলে জানিয়েছে বৈশ্বিক ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।