২০২৬ বিশ্বকাপ শুরু হতে এখনো আট মাসের বেশি বাকি। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে হতে যাওয়া এ বৈশ্বিক টুর্নামেন্টেই হবে লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর মতো মহাতারকার শেষ বিশ্বকাপ। টুর্নামেন্টের সময়সীমা যত ঘনিয়ে আসছে, এ নিয়ে মানুষের আগ্রহের সীমাটাও বাড়ছে।
সেটার প্রমাণ মিলেছে টিকিট কেনার আবেদনেও। পরের বিশ্বকাপের টিকিট কেনার জন্য প্রাথমিকভাবে আবেদন করেছেন ৪৫ লাখের বেশি মানুষ। গতকাল এক বিবৃতিতে বিষয়টি জানিয়েছে ফিফা।
গত ৯ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে গতকাল পর্যন্ত টিকিট কেনার প্রাথমিক আবেদনের সুযোগ দিয়েছিল বৈশ্বিক ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এ পর্যায়ে শুধু ভিসা ক্রেডিটকার্ডধারীরাই আবেদনের সুযোগ পেয়েছিলেন। আবেদনকারীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আবেদন গিয়েছে আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা থেকে।
আবেদনকারীদের মধ্যে কারা টিকিট কেনার সুযোগ পাবেন, সেটা আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে জানানো হবে। সুযোগপ্রাপ্তরা ১ অক্টোবর থেকে নির্ধারিত সময়ে টিকিট কিনতে পারবেন। গতকাল প্রাথমিক আবেদন শেষ হওয়ার কয়েকঘণ্টার মধ্যে এক বিবৃতিতে বিষয়টি জানিয়েছে ফিফা। তবে কোন দেশ থেকে টিকিটের জন্য কত আবেদন পড়েছে, সে সংখ্যাটা প্রকাশ করেনি ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
এক বিবৃতিতে ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেছেন, ‘আবেদনের সংখ্যাটা শুধু অসাধারণ একটা পরিসংখ্যানই নয়, বরং শক্তিশালী বার্তাও বটে। পুরো বিশ্বই ২০২৬ বিশ্বকাপের অংশ হতে চাইছে। যে আয়োজনটা হবে বিশ্বের সবচেয়ে বড়, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও রোমাঞ্চকর। কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে শুরু করে প্রত্যেকটা মহাদেশের ছোট-বড় সব দেশের সমর্থকেরা আবারও প্রমাণ করেছেন, ফুটবলের প্রতি আবেগ বিশ্বকে এক করে দেয়। তিন আয়োজক দেশের প্রতিটি ম্যাচে উপস্থিত থাকতে সমর্থকেরা মুখিয়ে আছেন।’
প্রথমবারের মতো ৪৮ দলের এ বিশ্বকাপে সবমিলিয়ে ১০৪টি ম্যাচ হবে। প্রতিটি ম্যাচের জন্য টিকিট কেনার প্রাথমিক আবেদন করেছেন সমর্থকেরা। তবে ফিফা এটাও জানিয়েছে, যারা টিকিট কেনার জন্য নির্ধারিত সময়সীমা পাবেন, সময়সীমা পাওয়া মানেই টিকিট পাওয়ার নিশ্চয়তা নয়। এছাড়া একজন ব্যক্তি এক ম্যাচে সর্বোচ্চ চারটি টিকিট কিনতে পারবেন। এবং পুরো টুর্নামেন্টে একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ৪০টির বেশি টিকিট কেনার সুযোগ পাবেন না।
প্রাথমিক ধাপে টিকিট কেনার সুযোগ শেষ হওয়া মানেই সব সুযোগ শেষ নয়। পরে আরও দুটি ধাপে টিকিট ছাড়বে ফিফা। এর মধ্যে দ্বিতীয় ধাপের নাম ‘আর্লি টিকিট ড্র’। এটি শুরু হবে ২৭ অক্টোবর থেকে। আর এ পর্যায়ের টিকিট কেনার সময়সীমা নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে ডিসেম্বরের শুরু পর্যন্ত।
সর্বশেষ ধাপের নাম ‘র্যান্ডম সিলেকশন ড্র’। আগামী ৫ ডিসেম্বর ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত ফাইনাল ড্রয়ের পর বিশ্বকাপের সূচি নির্ধারিত হবে। এরপর ওই ধাপের টিকিট বিক্রি শুরু হবে। ফিফা জানিয়েছে, বিশ্বকাপের সময় ঘনিয়ে এলে ‘আগে আসলে আগে পাবেন’ ভিত্তিতে টিকিট বিক্রি করা হবে। এছাড়া আগামী ২ অক্টোবর থেকে টিকিট আনুষ্ঠানিকভাবে পুনবিক্রয় প্ল্যাটফর্ম চালু করবে বলে জানিয়েছে ফিফা।
উত্তর আমেরিকার ১৬টি শহরে অনুষ্ঠিত হবে পরের বিশ্বকাপ। এর মধ্যে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনালসহ আটটি ম্যাচ আয়োজিত হবে।
টিকিটের দামও জানিয়েছে ফিফা। গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোর জন্য ৬০ ডলার থেকে শুরু হয়ে ফাইনালে ৬৭৩০ ডলার পর্যন্ত মূল্য ধরা হয়েছে। তবে প্রথমবারের মতো ডাইনামিক প্রাইসিং ব্যবস্থায় দাম পরিবর্তিত হতে পরে বলে উল্লেখ করা হয়েছে ইএসপিএনের এক প্রতিবেদনে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে শেষবার আয়োজিত হয়েছিল ১৯৯৪ বিশ্বকাপ। সে সময় টিকিটের মূল্য ছিল ২৫ ডলার থেকে শুরু করে ৪৭৫ ডলার পর্যন্ত। আর সর্বশেষ ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের মূল্য ধরা হয়েছিল ৬৯ ডলার থেকে শুরু করে ১৬০৭ ডলার পর্যন্ত।
কয়েকদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রে হওয়া ক্লাব বিশ্বকাপেও ডাইনামিক প্রাইসিং ব্যবস্থা চালু ছিল। তখন মেটলাইফে চেলসি-ফ্লুমিনেন্স সেমিফাইনালের টিকিটের দাম ৪৭৩.৯০ ডলার থেকে কমে ১৩.৪০ ডলারে নেমেছিল।
আয়োজক তিন দেশের বাইরে এবারের টিকিট আবেদনের শীর্ষ দশ দেশের বাকি সাতটির নাম প্রকাশ করেছে ফিফা। সে তালিকায় আছে জার্মানি, ইংল্যান্ড, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, কলম্বিয়া, স্পেন ও ইতালি। ফিফা জানিয়েছে, ২১৬টি দেশ ও অঞ্চল থেকে টিকিটের জন্য প্রাথমিক আবেদন করেছেন সমর্থকেরা।



