সর্বশেষ গ্রীষ্মকালীন দলবদলের বাজারে লিভারপুল ছেড়ে রেয়াল মাদ্রিদে নাম লেখান ট্রেন্ট আলেক্সান্ডার আরনল্ড। লিভারপুলে জন্ম, লিভারপুলেই বেড়ে ওঠা এ ইংলিশ রাইটব্যাকের ক্লাব ছাড়াকে ভালোভাবে নেয়নি অল রেড সমর্থকেরা। ইংলিশ ক্লাব ছাড়ার পর গতকাল মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো অ্যানফিল্ডে ফেরেন ট্রেন্ট। তবে এবার নতুন ক্লাব রেয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে।
চ্যাম্পিয়নস লিগে লিভারপুল-মাদ্রিদের ম্যাচের আগে তাই আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন ট্রেন্ট। লিভারপুল সমর্থকেরা যে ট্রেন্টের ওপর এখনও ক্ষুব্ধ, সেটা গতকাল দিনের শুরুতে তাঁর দেয়ালচিত্র নষ্ট করা কিংবা পোস্টার ছিঁড়েই বুঝিয়েছেন। ম্যাচের নির্ধারিত সময়ের ৯ মিনিট আগে যখন ট্রেন্ট বদলি হিসেবে মাঠে নামলেন, দর্শক গ্যালারি থেকে দুয়োধ্বনির শিকার হয়েছেন ইংলিশ ডিফেন্ডার।
ম্যাচের আগে ট্রেন্ট আলোচনার কেন্দ্রে থাকলেও ম্যাচের লাইমলাইট কেড়ে নিয়েছেন এক আর্জেন্টাইন- আলেক্সিস মাকআলিস্তার। ২৬ বছর বয়সী এ মিডফিল্ডারের দুর্দান্ত এক হেডেই শেষ পর্যন্ত লিভারপুল-রেয়াল মাদ্রিদ ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়েছে। তাতে লিভারপুল ম্যাচটা জিতেছে ১-০ ব্যবধানে।
উত্তাপ ছড়ানোর এ ম্যাচের আগে যে আলোচনা ছিল ‘অ্যানফিল্ডে কে ফিরছে’, ম্যাচের পর সেটা কার্যত রূপ নিয়েছে ‘অ্যানফিল্ডে কী ফিরেছে।’
প্রশ্নের জায়গাটা এমন ‘কে’ থেকে ‘কী’ হলো কেন? এর উত্তর পেতে খুব বেশি দূরে যেতে হবে না। আর্নে স্লট দায়িত্ব নেওয়ার পর গত নভেম্বরে এই অ্যানফিল্ডে রেয়াল মাদ্রিদকে আতিথ্য দিয়েছিল লিভারপুল। ওই ম্যাচে স্প্যানিশ জায়ান্টদের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে জিতেছিল অল রেড। আর লিভারপুলের হয়ে প্রথম গোলটা করেছিলেন মাকআলিস্তার। ঠিক এক বছর আগের স্মৃতি ফিরিয়ে এবারও লিভারপুলের হাসি মুখে মাঠ ছাড়ার কারণ সেই আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডারই।
পরিসংখ্যান বলছে, গতকালের ম্যাচে শুধু দুটো জায়গায় এগিয়ে ছিল রেয়াল মাদ্রিদ- বল দখলে, আর ফাউল করায়! কিন্তু বল বেশি সময় নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখলেও কিলিয়ান এমবাপ্পে, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, জুড বেলিংহামরা স্রেফ নিজেদের ছায়া হয়ে ছিলেন। অন্যদিকে ম্যাচে ছড়ি ঘুরিয়েছে লিভারপুল। ইংলিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, লিভারপুলের বিপক্ষে থিবো কোর্তোয়া অতিমানব হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন বলেই স্প্যানিশ ক্লাবটি বড় ব্যবধানে হারের হাত থেকে বেঁচে গেছে।
অ্যানফিল্ডে গতকালের ম্যাচটা লিভারপুল বনাম রেয়াল মাদ্রিদের হলেও লড়াইটা আসলে জমে উঠেছিল লিভারপুল বনাম কোর্তোয়ার। একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করে বলতে গেলে স্লটের দলকে ম্যাচের প্রথম দুই তৃতীয়াংশ সময় পর্যন্ত গোলবঞ্চিত রাখার রাখার কাজটা সামলে গেলেন বেলজিয়ামের এ তারকা গোলকিপার।
ম্যাচের ২৭ মিনিটে গোলের খুব কাছে চলে গিয়েছিল লিভারপুর। ডানপ্রান্ত থেকে ফ্লোঘিয়ান ভির্তশয়ের ক্রস বক্সের ভেতর ফাঁকায় পেয়েছিলেন দমিনিক সোবোসলাই। সামনে শুধু কোর্তোয়া। প্রথম স্পর্শেই জালের দিকেই শট নিয়েছিলেন সোবোসলাই। কিন্তু গোলপোস্ট থেকে বেরিয়ে দুর্দান্ত দক্ষতায় পা দিয়ে বলটি রুখে দেন কোর্তোয়া।
তিন মিনিট পর সোবোসলাইয়ের আরেকটি শট বক্সের ঠিক লাইনের কাছে অঁরিলিয়ে চুয়ামেনির হাতে লাগলে পেনাল্টির দাবি জানায় লিভারপুল। ভিএআর যাচাই অবশ্য পেনাল্টির সে দাবি নাকচ করে দেয়। এরপর বিরতির আগ পর্যন্ত সোবোসলাই আরও দুটি শট নিয়েছিলেন। দুটিই ঠেকিয়েছেন কোর্তোয়া। এর মধ্যে ৪৩ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া সোবোসলাইয়ের বুলেটগতির শট কোর্তোয়া যেভাবে ডানদিকে ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়েছেন, সেটা মাদ্রিদ সমর্থকদের বড় স্বস্তি দেওয়ার কথা!
কোর্তোয়ার কল্যাণে গোল হজম ছাড়াই বিরতিতে যাওয়া মাদ্রিদ দ্বিতীয়ার্ধেও লিভারপুলের টানা আক্রমণের মুখে পড়ে। প্রথমার্ধের মতো এবারও মাদ্রিদের ঢাল হয়ে লড়তে থাকেন বেলজিয়াম গোলকিপার। ৪৭ মিনিটে কর্নার থেকে পাওয়া বলে বক্সের ভেতর থেকে নেওয়া ভার্জিল ফন ডাইকের হেডও অবিশ্বাস্য দক্ষতায় বারের ওপর দিয়ে পাঠিয়ে দেন কোর্তোয়া। পরের মিনিটে বঞ্চিত করেন উগো একিতিকেকে।
তবে বেশিক্ষণ আর গোলপোস্ট আগলে রাখতে পারেননি কোর্তোয়া। ৬০ মিনিটে বক্সের ডানপ্রান্তের কিছুটা বাইরে রায়ান গ্রাভেনবার্চকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন বেলিংহাম। ফ্রি-কিক পায় লিভারপুল। সেখান থেকে নেওয়া সোবোসলাইয়ের জোরাল শটে হেডে কোর্তোয়াকে পরাস্ত করে মাদ্রিদের জালে বল জড়ান মাকআলিস্তার। শেষ পর্যন্ত এ গোলটাই ম্যাচের ফল নির্ধারণ করে দেয়।
গতকালের জয়ে ৪ ম্যাচে ৯ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের ছয়ে উঠেছে লিভারপুল। সমান ম্যাচে লিভারপুলের সমান ৯ পয়েন্ট নিয়েও গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় পাঁচে মাদ্রিদে।