বিশ্বকাপ ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ চারবারের চ্যাম্পিয়ন তারা- অথচ সর্বশেষ দুই বিশ্বকাপেই (২০১৮ ও ২০২২) খেলার সুযোগ পায়নি ইতালি। দুবারই আজ্জুরিরা কাটা পড়েছে প্লে-অফে। আগের দুই বারের ধারাবাহিকতায় আরও একটা বিশ্বকাপে ইতালিকে না দেখার শঙ্কা জেগেছে!
গতকাল ইউরোপীয় অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচে নরওয়ের মুখোমুখি হয়েছিল ইতালি। আর্লিং হলান্ডদের বিপক্ষে এর আগের বারের দেখায় ৩-০ ব্যবধানে হারা ইতালির মূল পর্বে জায়গা পেতে গতকাল অন্তত ৯ গোলের ব্যবধানে জিততে হতো। কিন্তু জয় তো দূরের কথা। ইতালি ম্যাচটা হেরেছে ৪-১ ব্যবধানে।
এতে ২০২৬ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার পথ বন্ধ হয়ে গেল ইতালির। অবশ্য যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা-মেক্সিকো বিশ্বকাপে খেলার পথ একেবারে বন্ধ হয়ে যায়নি ইতালির। বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের টিকিট পেতে প্লে-অফ বাধা পেরোতে হবে আজ্জুরিদের। এর আগে ২০১৮ বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্লে অফে সুইডেনের কাছে হেরে বাদ পড়া ইতালি পরের বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ হাতছাড়া করেছিল উত্তর মেসিডোনিয়ার কাছে হেরে।
ইতালির শঙ্কা জাগানোর দিনে ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরার আনন্দে মাতোয়ারা হয়েছে নরওয়ে। এর আগে ১৯৯৮ বিশ্বকাপে শেষবার খেলেছিল দলটি। দীর্ঘ দুই যুগের বেশি সময় সময় পর হলান্ড-আলেক্সান্ডার সরলথদের হাত ধরে বিশ্বকাপে উঠল দলটি।
অনুমিতভাবে নরওয়ের গতকালের জয়ের নায়ক হলান্ড। মাত্র ১ মিনিটের ব্যবধানে জোড়া গোল করেছেন ম্যানচেস্টার সিটি তারকা।
গতকাল আগে গোল পেয়েছিল ইতালিই। ম্যাচের ১১ মিনিটে ফ্রান্সেসকো পিও এস্পোসিতোর গোল এগিয়ে যায় আজ্জুরিরা। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যাওয়া ইতালি লিড ধরে রেখেছিল ম্যাচের দুই তৃতীয়াংশ সময় পর্যন্ত। ৬৩ মিনিটে আন্তোনিও নুসার গোলে সমতায় (১-১) ফেরে নরওয়ে।
এরপর হলান্ড শো- ৭৮ ও ৭৯ মিনিটে দুই গোল করে নরওয়ের জয় প্রায় নিশ্চিত করেন ২৫ বছর বয়সী গোলমেশিন। আর যোগ করা সময়ের শেষ দিকে ইতালির কফিনে শেষ পেরেকটি মারেন ইয়র্গেন স্ত্রান্দ লারসেন।
গতকালের জোড়া গোলে এবারের বাছাইপর্বে ১৬ গোল হয়ে গেল হলান্ডের, যা যৌথভাবে এক বাছাইপর্বে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড। এর আগে রবের্ত লেভানদফস্কি বাছাইপর্বে ১৬টি গোল করেছিলেন।
এদিকে সরাসরি বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ হাতছাড়া করে ফিফার নিয়মের সমালোচনা করেছেন ইতালি কোচ জেন্নারো গাত্তুসো। এবারের বাছাইপর্বে ৮ ম্যাচের সবগুলো জিতে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে আই গ্রুপের সেরা দল নরওয়ে সরাসরি বিশ্বকাপের মূলপর্বে খেলবে। সমান ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট পাওয়া ইতালিকে লড়তে হবে প্লে-অফে।
এ নিয়মের পরিবর্তন চান গাত্তুসো, ‘আমাদের (খেলোয়াড়ি) সময়ে সেরা রানার্স-আপ দলগুলো বিশ্বকাপে জায়গা পেত। এখন নিয়ম বদলে গেছে।’
ইতালি কোচ আরও বলেছেন, ‘নিয়ম বদলাতে হলে আয়োজকদের সেটা জানাতে হবে। গ্রুপ পর্বে ইতালি ছয়টা ম্যাচ জিতেছে। (এরপরও মূলপর্বে খেলার সুযোগ না পাওয়া প্রসঙ্গে) সেটা গ্রুপ ও নিয়ম যারা বানায়, তাদেরকে কাছেই জানতে পারেন।’
ইউরোপের প্রতিযোগিতা বোঝাতে অন্যান্য মহাদেশের প্রসঙ্গও টেনেছেন ইতালি কোচ, ‘১৯৯০ ও ১৯৯৪ বিশ্বকাপে আফ্রিকার দুটো দল ছিল (১৯৯৪ এ মূলত ৩টি দল খেলেছে), এখন সেখান থেকে ৯টি দল খেলে। এটা কোনো বিতর্ক নয়। কিন্তু এর মধ্যে জটিলতা আছে। আমরা সেটা ভালো করেই জানি। যদি সাউথ আমেরিকার দিকেও তাকাই, সেখানে ১০ দলের মধ্যে ৬টি সরাসরি বিশ্বকাপে যায়, আর সাত নম্বর দলটা প্লে-অফ খেলে। এটা (এসব বিবেচনায় ইউরোপের নিয়ম) অবশ্যই হতাশার জন্ম দেয়, কিছুটা কষ্টও লাগে। ইউরোপের এই ব্যবস্থা বদলানো দরকার।’