অবশেষে ‘ঘরের মাঠ’ কাম্প ন্যুতে ফেরার অপেক্ষার অবসান হলো বার্সেলোনার। বছরের হিসেবে দুই বছরের বেশি সময়। নির্দিষ্ট করে বললে, সংস্কার কাজের জন্য স্টেডিয়াম বন্ধ করে দেওয়ার পেরিয়ে গেছে ৯০৯ দিন। দীর্ঘ সময় পর অবশেষে গতকাল শনিবার রাতে কাম্প ন্যুতে খেলতে নামে কাতালান ক্লাবটি।
কাম্প ন্যুতে ফেরার উপলক্ষ্যটা দারুণভাবে রাঙিয়েছে বার্সেলোনা। ৪৫ হাজার দর্শকের সামনে লা লিগার ম্যাচে ১০ জনের আথলেতিক বিলবাওকে ৪-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে হানসি ফ্লিকের দল। বার্সেলোনার হয়ে জোড়া গোল করেছেন ফেরান তোরেস। বার্সা অন্য দুটি গোল পেয়েছে রবের্ত লেভানদফস্কি ও ফেরমিন লোপেসের পা থেকে। গোল না পেলেও দারুণ দুটি অ্যাসিস্ট করেছেন লামিন ইয়ামাল।
গতকালের জয়ে সাময়িকভাবে লা লিগার পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষে উঠেছে বার্সেলোনা। স্প্যানিশ লিগে ১৩ ম্যাচ খেলা ফ্লিকের দলের পয়েন্ট ৩১। দুইয়ে থাকা রেয়াল মাদ্রিদের পয়েন্টও সমান ৩১। তবে মাদ্রিদ একটা ম্যাচ কম খেলেছে। আজ অবশ্য ম্যাচ আছে কার্লো আনচেলত্তির দলের। এলচের বিপক্ষে এ ম্যাচে হার এড়ালেই আবারও শীর্ষে উঠে যাবে মাদ্রিদ।
গতকালের ম্যাচে ফেরা যাক। কাম্প ন্যুয়ের সংস্কারকাজ অবশ্য এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। গ্যালারির পুরো অংশ প্রস্তুত হয়নি বলে গতকাল ৪৫ হাজার ১৫৭জন দর্শক মাঠে বসে ম্যাচ দেখার সুযোগ পেয়েছেন। আর কাজ পুরোপুরি শেষ হলে একসঙ্গে ১ লাখ ৫ হাজার দর্শক মাঠে বসে ম্যাচ দেখতে পারবেন।
ঘরের মাঠে ফেরা উপলক্ষ্যে ম্যাচের আগেই উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা যায় কাম্প ন্যুতে। ম্যাচ শুরু হতেই সে উৎসবের আমেজ বাড়িয়ে দেন লেভানদফস্কি। ম্যাচের চতুর্থ মিনিটে নিজেদের বক্সের বাইরে বল হারিয়ে ফেলেছিল বিলবাও। সেটি কেড়ে নিয়ে এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বক্সের ভেতরের বাঁপ্রান্ত থেকে কোনাকুনি শটে স্কোরলাইন ১-০ করেন পোলিশ তারকা। লা লিগায় এ নিয়ে টানা ৩৩ ম্যাচে অন্তত একটি করে গোল করল বার্সেলোনা।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করে বার্সেলোনা। ইয়ামালের ত্রিভেল্লা পাসে অনেকটা দৌড়ে বাঁপায়ের শটে জালে বল জড়ান ফেরান তোরেস। বিলবাও গোলকিপার উনাই সিমোন অবশ্য চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু সে চেষ্টা সফল হয়নি।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আবারও গোলের দেখা পায় বার্সেলোনা। এবার স্কোরশিটে নাম লেখান ফেরমিন লোপেস। বার্সেলোনা এগিয়ে যায় ৩-০ ব্যবধানে। ৫৪ মিনিটে লোপেসকে বিপজ্জনক ট্যাকল করে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ওইহান সানচেত।
১০ জনে পরিণত হওয়া বিলবাও ম্যাচের শেষ দিকে আবারও গোল হজম করে। এবার যোগ করা সময়ে ইয়ামালের দুর্দান্ত অ্যাসিস্টে দারুণ ফিনিশিং দেন তোরেস। এ বছর বার্সেলোনার হয়ে এটি তোরেসের ২২তম গোল। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে স্প্যানিশ ফুটবলারদের মধ্যে এ বছর সবচেয়ে বেশি গোল এখন তোরেসের।