চড়া দামে টিকিট কিনেও মেসিকে দেখতে না পেয়ে ক্ষুব্ধ সমর্থকদের স্টেডিয়াম ভাঙচুর

১৪ বছর পর ভারতে পা রেখেছেন লিওনেল মেসি। কলকাতা থেকে শুরু হয়েছে আর্জেন্টাইন কিংবদন্তির তিন দিনের ভারত সফর। মেসির আগমন ঘিরে কয়েকদিন ধরেই রীতিমতো উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছিল কলকাতা। বাড়তি আমেজ কাজ করছিল সমর্থকদের মধ্যে। মেসিকে একনজর দেখতে চেষ্টার কমতি রাখছিলেন না তারা।

মেসি যখন শুক্রবার গভীর রাতে কলকাতায় পা রাখেন, বিমানবন্দরের বাইরে হাজারো সমর্থকের অপেক্ষা সেটারই প্রমাণ। আর্জেন্টাইন কিংবদন্তিকে আরও কাছে থেকে ভালোভাবে দেখতে যুবভারতী স্টেডিয়ামে চড়া দামে টিকিট কেটেছিলেন অনেকে। সকাল সাড়ে ১১টা থেকে সল্ট লেকের এ স্টেডিয়ামে মেসির উপস্থিত থাকার কথা ছিল। মেসি ঠিক সময়ে স্টেডিয়ামে হাজির হলেও উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কিছুসময় পরই মাঠ থেকে বেরিয়ে যান।

মেসিকে ঠিকঠাক দেখতে না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন সমর্থকেরা। ক্ষোভের মাত্রা এতটাই বেড়ে যায় যে, একপর্যায়ে স্টেডিয়ামে ভাঙচুর চালাতে থাকেন তারা। চেয়ার ভেঙে ফেলা, মাঠে বোতল নিক্ষেপ, ব্যানার-ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলা, নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে মাঠে ঢুকে পড়া- রীতিমতো রণক্ষেত্রে পরিণত হয় স্টেডিয়ামের পরিবেশ।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুসারে, নিরাপত্তা কর্মীরা লাঠি চার্জ করেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছিলেন না। অবশ্য সমর্থকের ক্ষোভ মেসিকে নিয়ে নয়, বরং আয়োজক কমিটির ওপর ক্ষোভ ঝেড়েছেন তারা বলে উল্লেখ করেছে সংবাদমাধ্যমগুলো।

দেশটির বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, সকাল সাড়ে ১১টায় মেসির গাড়ি স্টেডিয়ামে প্রবেশ করে। এ সময় মেসির সঙ্গেই ছিলেন লুইস সুয়ারেস ও রদ্রিগো দে পল। মেসির আগমনে গগনবিদারী আওয়াজ শুরু হয় গ্যালারি থেকে। সমর্থকের অধিকাংশই ভোর থেকে অপেক্ষা করছেন মেসিকে একনজর দেখতে!

কিন্তু তাদের সে অপেক্ষা আর আমেজ মুহূর্তেই ক্ষোভে পরিণত হয়। মেসি গাড়ি থেকে নামতেই অনেকে ঘিরে ধরেন তাঁকে। ফলে গ্যালারি থেকে মেসিকে কার্যত দেখাই যায়নি! ক্ষুব্ধ সমর্থকেরা তখন ‘উই ওয়ান্ট মেসি’ স্লোগান দিতে থাকেন।

ভারতীয় একাধিক সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, মেসিকে ঘিরে থাকা মানুষদের অনেকেই ছিলেন মন্ত্রী বা শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা। তারা মেসির সঙ্গে সেলফি নেওয়া, অটোগ্রাফ নিতে ব্যস্ত হওয়ায় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মেসিকে ঘিরে রাখেন নিরাপত্তাকর্মীরাও। আয়োজক কমিটি থেকে মাইকে বারবার ভিড় সরানোর অনুরোধ করা হচ্ছিল। কারণ গ্যালারি থেকে মেসিকে দেখা যাচ্ছিল না। কিন্তু আয়োজক কমিটির অনুরোধ সত্ত্বেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। এর মধ্যে ১১টা ৫০ মিনিটের কিছু পরে মেসিকে মাঠ থেকে বের করে নেওয়া যায়। এতেই মাঠের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রাগে-ক্ষোভে সমর্থকেরা স্টেডিয়ামে ভাঙচুর চালাতে থাকেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে সমর্থকদের ক্ষোভের মাত্রা বর্ণনা করেছে। সংবাদমাধ্যমটিতে অনেক সমর্থকই অভিযোগ করেন, মেসির সফরটি মূলত সেলিব্রেটিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, সাধারণ দর্শকেরা উপেক্ষিত হয়েছেন। অনেকেই জানান, তারা মাসের পর মাস অপেক্ষা করেও শুধু আয়োজকদের অব্যবস্থাপনার কারণে মেসিকে দেখার অভিজ্ঞতা নিতে পারলেন না! আর এ কারণে মেসিকে ঘিরে এ আয়োজনকে অনেকেই প্রতারণা বলেও আখ্যা দিয়েছেন।

সল্ট লেক স্টেডিয়াম থেকে বের হয়ে এক ক্ষুব্ধ সমর্থক ইন্ডিয়া টুডেকে বলেছেন, ‘মেসির চারপাশে শুধু নেতা ও অভিনেতারাই ছিল। তাহলে আমাদের কেন ডাকা হয়েছিল। আমরা ১২ হাজার রুপি দিয়ে টিকিট কেটেছি, অথচ মেসির মুখটাই ঠিকমতো দেখতে পাইনি।’