গ্রিনল্যান্ড ইস্যু নিয়ে জার্মান রাজনীতিবিদের পরামর্শ

চাপ বাড়াতে ইতিহাসে দ্বিতীয় সফল দলও বিশ্বকাপ বয়কটের কথা ভাবতে পারে

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে আলোচনার যেন শেষ নেই। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বিশ্বকাপ ঘিরে কদিন আগে সমালোচনা শুরু হয়েছিল টিকিটের মূল্য নিয়ে। তবে এবার নতুন এক ইস্যুতে আলোচনায় বিশ্বকাপ। গ্রিনল্যান্ড ইস্যু - যা বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে, সেই ইস্যুতে এবার বিশ্বকাপ বয়কটের প্রসঙ্গ সামনে এসেছে।

জার্মানির খ্রিস্টান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নের (সিডিইউ) জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ ইউর্গেন হার্ট বলেছেন, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর অবস্থান পরিবর্তন না করলে জার্মানির ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর ব্যাপারটি নিয়ে ভাবা উচিত। যুক্তরাষ্ট্র ও ট্রাম্পের ওপর চাপ প্রয়োগের মাধ্যম হিসেবে জার্মানির এই পদক্ষেপের কথা ভাবা উচিত বলে মনে করেন তিনি।

জার্মান এই রাজনীতিবিদের এমন মন্তব্য আলোচনার জন্ম দিয়েছে। জার্মান সংবাদমাধ্যম বিল্ড-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইউর্গেন হার্ট বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে তাঁর অবস্থান পুনর্বিবেচনায় বাধ্য করার জন্য এটি শেষ উপায় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।’ তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত নয়।

হার্ট আরও জানান, গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা নিয়ে ন্যাটোর সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা রয়েছে। এ নিয়ে তাঁর ভাষ্য, ‘ন্যাটোর কাঠামোর মধ্যেই আমরা গ্রিনল্যান্ড বিষয়ে একটি যৌথ নিরাপত্তা সমাধানে পৌঁছাতে পারব বলে আশাবাদী।’

বিশ্বকাপ ইতিহাসে জার্মানি অন্যতম সফল দল। দেশটির ছেলেদের ফুটবল দল চারবার বিশ্বকাপ জিতেছে — ১৯৫৪, ১৯৭৪, ১৯৯০ ও ২০১৪ সালে। ব্রাজিলের পর যৌথভাবে বিশ্বকাপ ইতিহাসে দ্বিতীয় সফল দল জার্মানি। ইতালির জাতীয় দলেরও রয়েছে চারটি শিরোপা।
 
সাম্প্রতিক সময়ে গ্রিনল্যান্ড ইস্যু ঘিরে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে উত্তেজনা বেড়েছে। ট্রাম্প যেকোনো উপায়ে গ্রিনল্যান্ড চান, এ নিয়ে ন্যাটোতে সঙ্গী দেশগুলোর সঙ্গে লেগে গেছে যুক্তরাষ্ট্রের। যদিও এখন পর্যন্ত এর প্রভাব সরাসরি ক্রীড়াঙ্গনে পড়েনি। তবে জার্মানির সম্ভাব্য বিশ্বকাপ বয়কটের আলোচনা এ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।