এর আগে অনেকবারই লিওনেল মেসির সঙ্গে জড়িয়ে নাম উঠেছে লামিন ইয়ামালের। স্প্যানিশ তরুণ রাইট উইঙ্গার অবশ্য বল পায়ে যা করছেন, তাতে আর্জেন্টাইন কিংবদন্তিকে প্রায়ই মনে করিয়ে দিচ্ছেন।
মেসি বার্সেলোনায় খেলে গেছেন। ইয়ামাল এখন কাতালান ক্লাবটিতে খেলছেন। মেসির মতো ১০ নম্বর জার্সিটাই গায়ে জড়াচ্ছেন ইয়ামাল। মেসি যে পজিশনে খেলতেন, মাঠে ইয়ামালের পজিশনও অনেকটা সেটাই। ডানপ্রান্তে বল পেয়ে প্রতিপক্ষে ডিফেন্ডারকে ড্রিবল করে কাট-ইনে বক্সে ঢুকে বাঁপায়ের বাকানো শট- মেসিকে প্রায়ই মনে করান ১৮ বছরের একই বিস্ময় বালক। এবার মেসির একটা ‘বিশেষণ’ যোগ হয়েছে ইয়ামালের নামের পাশে। সেটাও দিয়েছেন প্রতিপক্ষের কোচ!
গতকাল শনিবার লা লিগার ম্যাচে ওভিয়েদোর মুখোমুখি হয়েছিল বার্সা। ওই ম্যাচে ৩-০ ব্যবধানে জিতে পয়েন্ট টেবিলে আবার শীর্ষস্থান দখল করেছে হানসি ফ্লিকের দল। গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধে দানি অলমো, রাফিনিয়া ইয়ামালের গোলে ৩-০ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত হয় বার্সেলোনার। এর মধ্যে ইয়ামালের গোলটা এতটাই দৃষ্টিনন্দন ছিল যে, ওভিয়েদো কোচ গিলের্মো আলমাদা ইয়ামালকে ‘ভিন্ন গ্যালাক্সির’ ফুটবলার হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
শুরুতে মেসির প্রসঙ্গ কেন আনা হলো? মেসিকে বর্ণনায় ‘ভিন্ন গ্রহের’ বা ‘ভিন্ন গ্যালাক্সি’র খেলোয়াড় বিশেষণটা কম ব্যবহৃত হয়েছে? এবার সেটা আসছে ইয়ামালের দিকে। তা ইয়ামাল কী করেছেন?
ম্যাচের তখন ৭৩ মিনিটের খেলা চলছে। বাঁপ্রান্ত থেকে ডান পায়ের বুটের বাইরের অংশ দিয়ে ত্রিভেল্লা ক্রস করেন অলমো। কিন্তু বলটা যেদিকে যাচ্ছিল, সেখান থেকে ইয়ামাল কিছুটা ভেতরের দিকে ছিলেন। বলের গতিপথ বুঝে শরীরটা ঘুরালেন ইয়ামাল এবার দারুণ এক অ্যাক্রোব্যাটিক শটে দূরের পোস্ট দিলে জালে বল জড়ান।
ইয়মালের ওই গোলের প্রশংসায় ওভিয়েদো কোচ আলমাদা বলেছেন, ‘আমরা এমন একজন খেলোয়াড়কে নিয়ে কথা বলছি, ভিন্ন গ্যালাক্সির। ওর (ইয়ামাল) মধ্যে অনেক গুণ আছে, আর ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সেই পারফরম্যান্সটা দেখায়। বয়স কম হলেও এরইমধ্যে সে এমন একজন তারকা হয়ে উঠেছে, যে ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিতে পারে।’
প্রতিপক্ষ কোচের কাছে ইয়ামালের তৃতীয় গোল পছন্দ হলেও বার্সেলোনা কোচ ফ্লিক জানিয়েছেন, তাঁর কাছে অলমোর গোলের সময় ইয়ামাল যেভাবে প্রতিপক্ষ ডিফেন্সকে প্রেস করেছে, সেটা ভালো লেগেছে।
এ প্রসঙ্গে ফ্লিক বলেছেন, ‘ও যেভাবে প্রেস করেছে এবং বল দখল করে ওই গোলের সুযোগ তৈরি করেছে— আমরা এটাই চাই। এই জায়গাটাতেই ম্যাচটা আমাদের দিকে হেলেছে,আমাদের তিন পয়েন্ট এনে দিয়েছে।’
তাই বলে যে ফ্লিক তৃতীয় গোলটি পছন্দ করেননি, এমন নয়। এ প্রসঙ্গে বার্সা কোচ আরও বলেন, ‘আমার কাছে এটা তৃতীয় গোলের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তবে অবশ্যই, ফুটবলে সবাই গোল দেখতে ভালোবাসে, আর আমি খুশি যে সে এমন একটি গোল করেছে।’
উল্লেখ্য, গতকালের জয়ে আবারও পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান দখল করেছে বার্সা। একদিন আগে ভিয়ারেয়ালকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে ২১ ম্যাচে ৫১ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে উঠেছিল রেয়াল মাদ্রিদ। তবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের ২৪ ঘণ্টাও ওপরে থাকতে দেয়নি বার্সা। গতকালের জয়ে ২১ ম্যাচে ৫২ পয়েন্ট নিয়ে আবারও এক নম্বরে উঠেছে ফ্লিকের দল।