ম্যাচটা এলচের ঘরের মাঠ স্তাদিও মানুয়েল মার্তিনেস ভালেরোতে। এরপরও কি লা লিগায় বার্সেলোনার বিপক্ষে ম্যাচের আগে খুব বেশি আশাবাদী ছিলেন এলচের সমর্থকেরা? অবশ্য আশাবাদী হবেনই বা কীভাবে? ১৯৭৪ সালের পর থেকে যে এ মাঠে বার্সেলোনাকে কখনো হারাতে পারেনি এলচে!
গত ৫ দশকের বেশি সময়ে যা হয়নি, এবারও সেটা হতে দেয়নি বার্সেলোনা। আক্রমণের ঝড় বইয়ে দিয়ে এলচেকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে হানসি ফ্লিকের দল। একই সঙ্গে পয়েন্ট টেবিলে দ্বিতীয় স্থানে থাকা রেয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে পয়েন্ট ব্যবধান বাড়িয়ে ৪ করেছে বার্সা।
২২ ম্যাচে ৫৫ পয়েন্ট কাতালান ক্লাবটির। ৫১ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে থাকা মাদ্রিদ অবশ্য একটা ম্যাচ কম খেলেছে। আজ সন্ধ্যায় ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বের্নাবাউয়ে রায়ো ভায়েকানোর বিপক্ষে ম্যাচটা জিতলে ব্যবধান আবারও ১-এ নামাতে পারবে আলভারো আরবেলোয়ার দল।
বার্সা গতকাল কতটা আক্রমণাত্মক খেলেছে, সেটা ম্যাচের পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট। ৬১ শতাংশ বলের দখল রাখা ফ্লিকের দল শট নিয়েছিল ৩০টি, এর ৭টিই ছিল গোলমুখে। অন্যদিকে ৯টি শট নিয়ে বার্সার গোলমুখে ৩টি শট রাখতে পেরেছে এলচে।
বার্সা প্রথম গোলের দেখা পেয়েছে ম্যাচের ৬ষ্ঠ মিনিটেই। মধ্যমাঠ থেকে দানি অলমোর ডিফেন্সচেরা পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এগিয়ে আসা এলচে গোলকিপারকে ড্রিবল করে বার্সাকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন ইয়ামাল। একই সঙ্গে কিলিয়ান এমবাপ্পের একটা কীর্তিতে ভাগ বসান স্প্যানিশ উইঙ্গার।
এ গোলটি ছিল লা লিগায় ইয়ামালের ২৩তম গোল (৯১ ম্যাচ)। ১৯ বছর হওয়ার আগে ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে এর আগে এত সংখ্যক গোল করতে পেরেছেন শুধু এমবাপ্পে (৫৪ ম্যাচে ২৩ গোল)। ১৯ বছর পূর্ণ হতে এখনো ৬ মাসের বেশি বাকি ইয়ামালের। রেকর্ডটা দ্রুতই একার করে নেওয়া ইয়ামালের জন্য সময়ের ব্যাপার মাত্র!
গতকালের ম্যাচে ফেরা যাক। ইয়ামালের গোলের পর ব্যবধান বাড়াতে মরিয়া বার্সা এলচে রক্ষণে আক্রমণের ঝড় বইয়ে দিলেও গোলের দেখা পাচ্ছিল না। উল্টো ২৯ মিনিটে স্কোরলাইন ১-১ করেন আলভারো রদ্রিগেস।
তবে সেটা বেশি বিপদ বয়ে আনতে পারেনি বার্সার জন্য। বিরতির ৫ মিনিট আগেই ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ংয়ের দুর্দান্ত এক পাসে বার্সাকে এগিয়ে (২-১) দেন ফেরান তোরেস। আর দ্বিতীয়ার্ধে ৭২ মিনিটে স্কোরলাইন ৩-১ করেন বদলি নামা রাশফোর্ড।
তাতে বড় জয়ের পাশাপাশি একটা মাইলফলকেও উঠেছে বার্সার নাম। চলতি মৌসুমে বার্সাই প্রথম দল, সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে যাদের ৬ জন খেলোয়াড় অন্তত ১০টি করে গোল করেছেন- তোরেস (১৬), রাফিনিয়া (১৩), ইয়ামাল (১৩), লেভানদফস্কি (১২), লোপেস (১০) ও রাশফোর্ড (১০)।
বার্সার যেখানে ৬ জন খেলোয়াড় অন্তত ১০টি করে গোল করেছেন, ইউরোপের শীর্ষ ৫ লিগে আর কোনো দলে ৩ জনের বেশি ১০টি করে গোল করতে পারেনি এ মৌসুমে!
দলগত পারফরম্যান্সে সফল, তবে বার্সা কোচ খুশি পূর্ণাঙ্গ তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়তে পেরেই। এ নিয়ে ম্যাচ শেষে ফ্লিক বলেছেন, ‘তিন পয়েন্ট পাওয়া আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। শেষ কয়েকটা মিনিট বাদ দিলে, আমরা দুর্দান্ত একটা ম্যাচ খেলেছি। কখনো কখনো আমাদের আরও ভালো সিদ্ধান্ত নিতে হয়। প্রতি তিন বা চার দিন পরপরই আমাদের ম্যাচ থাকে, তাই কিছু সময় আমাদের আরও একটু ভালো করতে হয়। এটা সত্য যে আমরা কিছু সুযোগ নষ্ট করেছি—এটাই নেতিবাচক দিক। তবে সামগ্রিকভাবে তিন পয়েন্ট পেয়ে আমি খুশি এবং দল যেভাবে খেলেছে, সেজন্য সবাইকে ধন্যবাদ।’