পয়েন্ট টেবিলে আবারও শীর্ষে ওঠার সুযোগ ছিল বার্সেলোনার সামনে। সেজন্য লা লিগার ম্যাচে জিরোনার বিপক্ষে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে হতো হানসি ফ্লিকের দলকে। কিন্তু সুযোগটা কাজে লাগাতে পারেনি বার্সা। জিরোনার মাঠে হেরেছে ২-১ ব্যবধানে।
তাতে ২৪ ম্যাচে ৫৮ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দুইয়েই থাকল বার্সা। সমান ম্যাচে ৬০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রেয়াল মাদ্রিদ। আর বার্সাকে হারিয়ে দেওয়া জিরোনা ২৯ পয়েন্ট নিয়ে ১২ নম্বরে উঠেছে।
গতকালের ম্যাচে যেন কোনোকিছুই বার্সার পক্ষে যাচ্ছিল না। লামিন ইয়ামাল-রবের্ত লেভানদফিস্ক একের পর এক শট নিয়েছেন। কিন্তু ভাগ্যকে আর পাশে পেলেন কোথায়? ২৭ শট নিয়েও প্রতিপক্ষের জালে মোটে একবার বল জড়াতে পেরেছে বার্সা।
এর মধ্যে লামিন ইয়ামাল একটা পেনাল্টি পেয়েও গোল করতে পারেননি! তাতে একটা রেকর্ডও হয়েছে বার্সার - রেকর্ডটা সুযোগ কাজে লাগাতে না পারার। এই মৌসুমে লা লিগায় ৭টি পেনাল্টির মধ্যে ৩টিতেই গোল করতে ব্যর্থ হলো বার্সা - যা লিগে যৌথভাবে সর্বোচ্চ। ৩টি পেনাল্টিতে ব্যর্থ হয়েছে ভালেন্সিয়াও।
কাল শুধু কি আক্রমণভাগই ব্যর্থ ছিল বার্সার? ম্যাচে এলোমেলো ছিল বার্সার মিডফিল্ডও। ডিফেন্সও যেন লক্ষ্মীনদরের বাসরঘর! এটা ম্যাচ শেষে স্বীকার করেছেন ফ্লিকও। বাকি থাকে রেফারিং। সেটা নিয়েও ‘অভিযোগ’ তুলেছেন বার্সা কোচ। ফ্লিকের দাবি, জিরোনার দ্বিতীয় গোলের আগে ফাউল করা হয়েছিল জুলস কুন্দেকে।
টানা আক্রমণেও গোলের দেখা না পাওয়া বার্সা প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের শেষ মুহূর্তে এগিয়ে যাওয়ার সহজ সুযোগ পেয়েছিল। অলমোকে ফাউল করা হলে পেনাল্টি পেয়েছিল বার্সা। কিন্তু ইয়ামালের নেওয়া স্পটকিক পোস্টে লেগে ফেরত আসে।
এরপরও প্রথম লিগের দেখা পায় বার্সাই। ৫৯ মিনিটে কুন্দের ক্রসে কুবার্সির দারুণ এক হেডে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় বার্সা। তবে ফ্লিকের দল লিড ধরে রাখতে পারে মোটে দুমিনিট। ৬১ মিনিটেই তমাস লেমারের গোলে সমতায় (১-১) ফেরে জিরোনা।
গোল হজম করেই যেন নিজেদের স্বাভাবিক খেলা ভুলে যায় বার্সা। বরং বেশি আক্রমণাত্মক মেজাজে দেখা যায় জিরোনাকেই। এর মধ্যে ৭২ মিনিটে আক্রমণে উঠে হোয়ান গার্সিয়া বাধা পেরিয়ে চারবারের প্রচেষ্টায় জালে বল জড়িয়েছিল জিরোনা। তবে শেষ প্রচেষ্টার আগে বার্সা গোলকিপারকে ধাক্কা দিয়েছিলেন হোয়েল রোকা, সে কারণে গোলটি বৈধতা পায়নি ফাউলে।
সে আক্ষেপ বেশিক্ষণ বয়ে বেড়াতে হয়নি জিরোনাকে। নির্ধারিত সময়ের ৪ মিনিট আগে ঠিকই জয়সূচক গোলের দেখা পায় মিচেলের শিষ্যরা। জিরোনাকে পূর্ণাঙ্গ তিন পয়েন্ট এনে দেওয়া গোলটা করেন ফ্রান বেলত্রান। ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে ইয়ামালকে ফাউল করে জিরোনার স্প্যানিশ উইঙ্গার রোকা লাল কার্ড দেখলেও সেটা ম্যাচে খুব একটা প্রভাব ফেলেনি।
ম্যাচ শেষে জিরোনার জয়সূচক গোলটা নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন ফ্লিক। বার্সা কোচের দাবি, বেলত্রানের গোলের আক্রমণের শুরুতে কুন্দেকে ফাউল করেছিলেন এচেভেরি, কিন্তু সেটা রেফারি দেননি।
গোলটা তাহলে বাতিল করা উচিত ছিল কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ফ্লিক বলেছেন, ‘আমি এটা নিয়ে কথা বলতে চাই না। দ্বিতীয় গোলের আগের পরিস্থিতি সবাই দেখেছে, কিন্তু জিরোনা জয়ের যোগ্য ছিল।’
নিজেদের বাজে পারফরম্যান্স নিয়ে বার্সা কোচ বলেছেন, ‘আমরা খুব হতশ্রীভাবে ডিফেন্ড করেছি, বিশেষ করে ট্রানজিশনে। আমরা অনেক বেশি ছড়ানো ছিলাম, মিডফিল্ড ঠিক জায়গায় ছিল না।’
ফ্লিক আরও বলেছেন, ‘ওটা অবশ্যই পরিষ্কার ফাউল ছিল। কিন্তু ব্যাপারটা এমনই। আমরা যদি ভালো খেলতাম, তাহলে হয়তো এ নিয়ে আরও বলতাম। কিন্তু আমরা ভালো খেলিনি। অভিযোগ করাটাকে এখন অজুহাতের মতো শোনায়। আমি সেটা চাই না। আমাদের আরও ভালো খেলতে হবে। সেরা মানদণ্ডে ফিরতে হবে।’
অবশ্য রেফারিং নিয়ে বার্সার অভিযোগ নতুন নয়। আগের সপ্তাহেও আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে কোপা দেল রের বিপক্ষে ৪-০ ব্যবধানে হারা ম্যাচে কুবার্সির গোল বাতিল হওয়া নিয়ে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন (আরএফইএফ) ও রেফারিং কমিটির (সিটিএ) কাছে চিঠি দিয়েছে বার্সা।
গতকালের ম্যাচের পর তাই রেফারিদের বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা করতে চাননি বলে জানিয়ে রসিকতার ঢঙে ফ্লিক বলেছেন, ‘কোনো অভিযোগ নয়, কোনো অজুহাতও নয়। তারা (রেফারি) তাদের কাজ করেন। কখনও সেটা ভালো হয় না। কিন্তু আজ তারা (রেফারি) যে মানে ছিল, আমরাও সেই মানেই খেলেছি—হয়তো খুব একটা ভালো মানদণ্ড নয়।’