চলতি সপ্তাহেই পবিত্র রমজান মাস শুরু হচ্ছে। মাসব্যাপী রোজা পালনের সময় সূর্যাস্ত থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থাকেন ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা। যুক্তরাজ্যে এবারের সূর্যাস্তের সময় বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে।
কিন্তু দেশটির ঘরোয়া ফুটবল প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচের সূচি অনুযায়ী, স্থানীয় সময় শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টা ও রবিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় ম্যাচ আছে। ফলে ওই দুই সময়ে শুরু হওয়া ম্যাচগুলোর মাঝেই কোনো এক সময়ে ইফতারের সময় পড়ে যাবে।
তাহলে প্রিমিয়ার লিগে খেলা মোহামেদ সালাহ, আমাদ দিয়েলো, উইলিয়াম সালিবার মতো মুসলিম খেলোয়াড়রা ম্যাচ থাকলে কি নির্ধারিত সময়ে ইফতার করতে পারবেন না? এর উত্তর দিয়েছে প্রিমিয়ার লিগ ও ইংলিশ ফুটবল লিগ। আগের মতো এবারের রমজানেও ইফতার উপলক্ষ্যে বিশেষ ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে তারা। মুসলিম খেলোয়াড়রা যাতে ইফতার করতে পারেন, সে জন্য ম্যাচ চলাকালে সংক্ষিপ্ত বিরতি দেওয়া হবে। দেশটির সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগের বছরগুলোর মতোই দলের অধিনায়ক ও ম্যাচ কর্মকর্তারা ম্যাচে স্বাভাবিক কোনো মুহূর্তে বিরতি দিয়ে খেলা থামাবেন, যাতে মুসলিম খেলোয়াড় বা কর্মকর্তারা রোজা ভাঙতে পারেন। ম্যাচের আগেই দুই দল ও ম্যাচ কর্মকর্তারা আলোচনা করে ঠিক করবেন, রমজানের বিরতি প্রয়োজন কি না, আর প্রয়োজন হলে খেলা আনুমানিক কখন থামানো হবে।
এই বিরতিকে দলীয় পানি বিরতি বা কৌশলগত টাইম-আউট হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। খেলা চলমান অবস্থায় থামানো যাবে না। বরং গোল-কিক, ফ্রি-কিক বা থ্রো-ইনের মতো সুবিধাজনক স্বাভাবিক মুহূর্তে রোজা ভাঙার সংক্ষিপ্ত বিরতি দেওয়া হবে।
প্রিমিয়ার লিগে এই নিয়মটি প্রথমবার চালু হয় ২০২১ সালের। ওই বছরের এপ্রিলে লেস্টার সিটি ও ক্রিস্টাল প্যালেসের মধ্যকার ম্যাচে প্রথমার্ধের আধাঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার পর এক গোল-কিকের সময় খেলা থামানো হয়, যাতে লেস্টারের ওয়েসলি ফোফানা ও প্যালেসের শেইখু কুয়াতে তরল পানীয় ও এনার্জি জেল দিয়ে ইফতার সেরে নিতে পারেন।
বর্তমানে প্রিমিয়ার লিগে খেলা মুসলিম ফুটবলারদের মধ্যে আছেন সালাহ, সালিবা, রায়ান আইত-নৌরি ও আমাদ দিয়েলোর মতো তারকারা।
ম্যাচের মাঝে ইফতারের বিরতি প্রসঙ্গে এর আগে ২০২৩ সালে এভারটন মিফিল্ডার আবদুলায়ে দুকুরে বিবিসিকে বলেছিলেন, ‘প্রিমিয়ার লিগে আপনি নিজের মতো করে সব করতে পারেন। তারা কখনও আপনার ধর্মবিশ্বাসের বিরুদ্ধে কিছু করবে না। এটা দারুণ বিষয়।’
তিনি আরও বলেছিলেন, ‘আমি প্রতিদিন রোজা রাখি, একদিনও বাদ দিই না। এটা এখন আমার জন্য স্বাভাবিক ও খুব সহজ হয়ে গেছে। রমজানেও অনুশীলন আগের মতোই থাকে। তবে বাইরে ম্যাচ খেলতে গেলে কখনো কখনো আমাদের অন্যদের চেয়ে একটু দেরিতে খেতে হয়। তখন রাঁধুনি আমাদের জন্য আলাদা করে খাবার প্রস্তুত করেন, যেন ঘরের মতোই সবকিছু ঠিক থাকে। আমরা হালাল খাবার পাই, তাই কোনো সমস্যা হয় না।’
২০২২ সালে লিভারপুলের সাবেক তারকা ফরোয়ার্ড সাদিও মানে জানান, রমজানে মুসলিম খেলোয়াড়দের সহায়তায় ক্লাবটি তাদের অনুশীলনের সময়সূচিতে পরিবর্তন এনেছিল।