অবসরের কথা ভাবছেন নেইমার

ডিসেম্বরেই সব ছেড়ে-ছুঁড়ে দিতে পারেন তিনি

২০২৬ বিশ্বকাপ শুরু হতে চার মাসও বাকি নেই। বৈশ্বিক এ টুর্নামেন্টে সর্বাধিক পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল যাবে হেক্সা মিশনে। বিশ্বকাপে দুই যুগের শিরোপা খরা ঘোচানোর এ প্রশ্নে নেইমার দলে থাকবেন নাকি থাকবেন না, সেটা বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে ব্রাজিল ফুটবলে।

তবে নেইমার নিজেই জানিয়েছেন, বিশ্বকাপে খেলার ব্যাপারে আশাবাদী তিনি। পাশাপাশি এটাও জানিয়েছেন, চলতি বছরের ডিসেম্বরেই ফুটবল থেকে অবসরে নিতে পারেন ৩৪ বছর বয়সী এ তারকা।

বয়স মাত্র ৩৪, এখনই কেন অবসরের কথা ভাবছেন নেইমার? এটার কারণ খুঁজতে খুব বেশি কষ্ট হওয়ার কথা নয়। কয়েকবছর ধরেই একের পর এক চোটের সঙ্গে লড়তে হচ্ছে নেইমারকে। মাঝে সৌদি ক্লাব আল হিলালে নাম লিখিয়েছিলেন, কিন্তু চোটের কারণে দেড় বছরে হিলালের জার্সিতে মোটে ৭টি ম্যাচ খেলতে পেরেছেন নেইমার।

একপর্যায়ে চুক্তির মেয়াদ বাকি থাকতেই হিলাল থেকে ফেরত যান শৈশবের ক্লাব সান্তোসে। সেখানেও কয়েকদফা চোটে পড়েন নেইমার। এর মধ্যে সর্বশেষ ডিসেম্বরে হাঁটুতে অস্ত্রোপচার করেছিলেন। সফল অস্ত্রোপচারের পর পুনর্বাসন শেষে গত রোববার মাঠে ফেরেন নেইমার। এখন নিজেকে পুরোপুরি ফিরে পাওয়ার লড়াই চলছে।

এমন অবস্থায় নেইমার ইঙ্গিত দিয়েছেন, এ বছর শেষেই ফুটবলকে বিদায় বলতে পারেন তিনি। এ প্রসঙ্গে ব্রাজিলের টিভি চ্যানেল কাসের সঙ্গে আলাপকালে নেইমার বলেছেন, ‘এরপর কী হবে, আমি জানি না। আগামী বছর নিয়েও নিশ্চিত নই। ডিসেম্বর এলে হয়তো অবসর নিতে চাইব। এখন আমি বছর ধরে বছর এগোচ্ছি।’

চোটজর্জর শরীর শেষ পর্যন্ত খেলতে সায় দেবে কিনা, সেক্ষেত্রে মনের কথা শুনেই সিদ্ধান্ত নেবেন নেইমার, এমনটাই জানিয়েছেন, ‘দেখি আমার মন কী বলে। বছরের শেষের দিকে আমার মন কেমন সিদ্ধান্ত দেয়, সেটার ওপরই সব নির্ভর করছে।’

ডিসেম্বর আসতে এখনো অনেক দেরি। মাঝে জুন-জুলাইয়ে ফুটবল বিশ্বকাপ। ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর থেকে জাতীয় দলের বাইরে নেইমার। আনচেলত্তি কোচ হওয়ার পর থেকে এখনো নেইমারকে স্কোয়াডে ডাকেননি। অবশ্য ব্রাজিল কোচ জানিয়েছেন, ফিট থাকলে নেইমারকে বিশ্বকাপ দলে রাখতে সমস্যা নেই তাঁর।

অন্যদিকে নেইমারও আরেকটা বিশ্বকাপ খেলার আশা করছেন, ‘এ বছরটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ— শুধু সান্তোসের জন্য নয়, ব্রাজিল জাতীয় দলের জন্যও। কারণ এটা বিশ্বকাপের বছর। আমার নিজের জন্যও বছরটি গুরুত্বপূর্ণ। আমি চাই এই মৌসুমে শতভাগ ফিট থেকে খেলতে।’