ইরান কি শেষ পর্যন্ত ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে অংশ নেবে? প্রশ্নটা তো ওঠারই কথা ছিল না। যেখানে বাছাইপর্ব পেরিয়ে টানা চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছে ইরান, সেখানে এমন প্রশ্ন ওঠাই বরং অমূলক। তবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের সাম্প্রতিক সংঘাতময় পরিস্থিতিই এমন প্রশ্ন তুলতে বাধ্য করেছে।
সম্প্রতি ইরানে যৌথ হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত দেশগুলোতে পাল্টা হামলা চালায় ইরান। এতে মধ্যপ্রাচ্য জুড়েই অস্থির অবস্থা বিরাজ করছে।
এদিকে ফিফা বিশ্বকাপ শুরুরও তিন মাসের মতো বাকি। বৈশ্বিক ওই টুর্নামেন্টে ইরানের ম্যাচ আবার যুক্তরাষ্ট্রে। তা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেখানে সংঘাতময় অবস্থা, সেখানে ইরান কি বিশ্বকাপ খেলতে যাবে? সংশয় থাকলেও ইরান এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি বলে সম্প্রতি জানিয়েছেন ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজ। এ নিয়ে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। তিনি জানিয়েছেন, ইরান বিশ্বকাপে খেলবে কি খেলবে না, সেটা নিয়ে তাঁর কোনো মাথাব্যথা নেই।
পলিটিকোতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছেন, ‘এসব (ইরানের বিশ্বকাপ খেলা) আমি মোটেও পাত্তা দিই না। ইরান খুব বাজেভাবে পরাজিত একটা দেশ। ওরা এখন টিকে থাকার শেষ পর্যায়ে আছে।’
যুক্তরাষ্ট্র অবশ্য গত বছরও ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল। তখন ইরান বিশ্বকাপ থেকে সরে না দাঁড়ালেও এবারের পরিস্থিতি পুরো আলাদা। এবারের হামলা ব্যাপক আকারে শুরু হয়েছে এবং এ সংঘাতে কয়েকটি দেশ জড়িয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতি জটিল হওয়া নিয়ে ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজ সম্প্রতি দেশটির এক টেলিভিশনে বলেছেন, ‘এই পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপকে আশার চোখে দেখার মতো অবস্থায় আমরা নেই।’ তিনি আরও জানান, প্রয়োজন হলে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে সিদ্ধান্ত নেবেন দেশটির ক্রীড়া কর্মকর্তারা।
এদিকে ফিফার সাধারণ সম্পাদক মাতিয়াস গ্রাফস্ট্রম কয়েকদিন আগে বলেছেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য সবাইকে নিয়ে নিরাপদে একটি বিশ্বকাপ আয়োজন করা।’
কিন্তু যেভাবে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে, তাতে ইরান শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপে অংশ নেবে কি না, সেটা নিয়ে শঙ্কা থেকেই যায়।