বাংলাদেশের মেয়েদের হার 

চীনকে অল্পে থামানো গেলেও নর্থ কোরিয়াকে পারা গেল না

প্রথম ম্যাচে চীনের বিপক্ষে আশা জাগালেও আজ নর্থ কোরিয়ার বিপক্ষে একেবারেই সুবিধা করতে পারেনি বাংলাদেশের মেয়েরা। এশিয়ান কাপের দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ থেকে ১০৩ ধাপ এগিয়ে থাকা নর্থ কোরিয়া স্বাভাবিকভাবেই জয়ের দেখা পেয়েছে। ৯ নম্বর র‍্যাঙ্কিংয়ে থাকা কোরিয়া আফঈদা খন্দকারদের ৫-০ গোলের ব্যবধানে হারিয়েছে।  

ফলাফলটা অবশ্য আরও খারাপ হতে পারত, তবে ভিএআরের কারণে নর্থ কোরিয়ার তিনটি গোল প্রথমার্ধেই বাতিল হয়ে যায়। এছাড়াও গোলরক্ষক মিলি অন্তত আরও ৫টি গোল সেইভ করেছেন। চীনের বিপক্ষে হারলেও পারফরম্যান্সে সবার প্রশংসা কুড়িয়েছিল বাংলাদেশ। 

তবে আজ তা ধরে রাখতে পারেননি আফঈদা খন্দকাররা। ম্যাচে নর্থ কোরিয়ার দখলে বল ছিল ৬৫.৩ শতাংশ, আর বাংলাদেশের দখলে বল ছিল ৩৪.৭ শতাংশ। বল দখলের লড়াইয়ে পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশ পুরো ৯০ মিনিট ধরে লক্ষ্যে শট নেওয়া দূরে থাক, কোনো আক্রমণেই যেতে পারেনি।

প্রথমার্ধে ১৪তম মিনিটে কোরিয়া প্রথম গোলের দেখা পেলেও ভিএআরের কারণে হ্যান্ডবলে গোলটি বাতিল হয়ে যায়। ২৬ মিনিটেও গোলের দেখা পেয়ে গিয়েছিল কোরিয়া। এবারও সেই ভিএআর দৃশ্যপটে হাজির। কর্নার থেকে হ্যান ঝিং হংয়ের হেড ঠেকিয়ে দেন বাংলাদেশের গোলরক্ষক মিলি। কিন্তু মিলির ধরে রাখা বলে শট দিয়ে গোল করেন মিয়ং ইয়ো–ঝং। পরে ভিএআরে দেখার পর গোল বাতিল করেন রেফারি।

৩১ মিনিটের মাথায় আবারও বাংলাদেশের জালে বল জড়ায় নর্থ কোরিয়া। কিন্তু এবার অফসাইডের কারণে বাতিল হয় গোল। 

প্রথম ৪৫ মিনিটে কোরিয়াকে কোনো গোলই করতে দেয়নি পিটার বাটলারের শিষ্যরা। তবে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়েই কপাল পুড়ে বাংলাদেশের।  

ইনজুরি সময়ের ছয় মিনিট এলেমেলো ফুটবল খেলে ঋতুপর্ণা চাকমারা। অধিনায়ক আফিদা খন্দকার ডি বক্সের মধ্যে কোরিয়ান ফুটবলারকে জার্সি ধরে টেনে ফেলে দেন। রেফারি সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির নির্দেশ দেন। যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে বাংলাদেশের জালে প্রথম গোলটি করেন মিয়ং ইউ–ঝং।

এর দুই মিনিট পর ফের ডিফেন্সের ভুলে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। এবার ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ২৪ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড কিম কিয়ং–ইয়ং। প্রথমার্ধে নর্থ কোরিয়া ১৬টি শট নিয়ে ৪টি লক্ষ্যে রাখে। বিপরীতে বাংলাদেশ কোনো শটই নিতে পারেনি। ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে নর্থ কোরিয়া বিরতিতে যায়।

প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে রাখে নর্থ কোরিয়া। শুরুতে গোলের ব্যবধান বাড়াতে না পারলেও ম্যাচের ৬০ মিনিট পর ফের জোড়া গোলের দেখা পায় কোরিয়া।

৬২তম মিনিটে গোলরক্ষক মিলি আক্তার বল ধরার জন্য ডি বক্সের মধ্যে দৌড়ে এলেও তা আটকাতে পারেননি। এগিয়ে আসার সুযোগ কাজে লাগিয়ে ফাঁকা পোস্টে গোল করেন চা উন–ইয়ং। এরপর ৬৪ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় ও দলের চতুর্থ গোল করেন কিম কিয়ং–ইয়ং।

৬৪ মিনিটেই ৪ গোলে এগিয়ে থাকা কোরিয়া বেঞ্চের শক্তি পরীক্ষা করতে ভুলেনি। একে একে চার পরিবর্তন আনেন কোরিয়ার কোচ রি হ সং। শেষ দিকে ৯০ তম মিনিটে ব্যবধান ৫-০ করেন কিম ইয়ং হ্যা। 

নিজেদের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে আগামী ৯ মার্চ মাঠে নামবে বাংলাদেশ।