ইরানে যুদ্ধ চললেও দেশটির মেয়েদের ফুটবল দল এখন অস্ট্রেলিয়ায়। এশিয়ান কাপের মঞ্চে ইতোমধ্যে দুটি ম্যাচ খেলেছে ইরানের মেয়েরা। নিজ দেশের এমন কঠিন সময়ে মাঠের খেলায় মেয়েরা মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করলেও তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ইরান জাতীয় নারী ফুটবল দলের খেলোয়াড়দের ‘যুদ্ধকালীন বিশ্বাসঘাতক’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, আর তাতেই তাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত ইরানের নারী জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড়দের দেশে ফেরত না পাঠিয়ে তাদের সেখানে থাকার অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। ইরানের সরকার ঘনিষ্ঠ এক কট্টরপন্থী ধারাভাষ্যকার দলটির খেলোয়াড়দের ‘যুদ্ধকালীন বিশ্বাসঘাতক’ আখ্যা দিয়েছেন, এরপরই তাদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এশিয়ান কাপের পর দেশে ফিরে গেলে বড় ধরনের শাস্তির মুখে পড়তে পারে ফুটবলাররা-খবর দ্য গার্ডিয়ানের।
মূলত ঘটনার সূত্রপাত ইরানের প্রথম ম্যাচকে কেন্দ্র করে। সাউথ কোরিয়ার বিপক্ষে (৩-০ গোলে হার) নিজেদের প্রথম ম্যাচে ইরানের মেয়েদের জাতীয় সংগীত না গাওয়ার অভিযোগ উঠে। এরপর আজ শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের উপস্থাপক মোহাম্মদ রেজা শাহবাজি অভিযোগ করেন, দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে সোমবারের প্রথম ম্যাচের আগে জাতীয় সংগীত না গাওয়ার মাধ্যমে খেলোয়াড়রা দেশের সম্মান ক্ষুণ্ন করেছেন।
তবে বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে(৪-০ গোলে হার) ম্যাচের আগে দৃশ্যপট ছিল ভিন্ন। সেই ম্যাচে ইরানের খেলোয়াড়রা জাতীয় সংগীত গেয়েছেন এবং স্যালুটও দিয়েছেন, যা আগের ম্যাচের ঘটনার ঠিক উল্টো চিত্র।
এমন ঘটনার পর রিফিউজি কাউন্সিল অব অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী পল পাওয়ার বলেন, ‘যে তথ্য আমরা পেয়েছি তা দেখে মনে হচ্ছে, খেলোয়াড়রা দেশে ফিরলে ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইরানে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের মতো সাধারণ কর্মকাণ্ডেও অনেক সময় মানুষকে কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হয়েছে।
জার্মানিভিত্তিক ইরানি সাংবাদিক আলি বোরনায়ি এক্সে একটি পোস্টে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওংকে ট্যাগ করে ইরানের মেয়েদের দলটিকে সুরক্ষা দেওয়ার আহ্বান জানান।
সেই পোস্টে তিনি লেখেন, ‘ইরানের নারী জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড়দের জীবন বড় ধরনের বিপদের মুখে রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় তাদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের পর ইরানের সরকার ঘনিষ্ঠ গণমাধ্যম আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের ‘যুদ্ধকালীন বিশ্বাসঘাতক’ বলে আখ্যা দিয়েছে। ইরানে ‘রাষ্ট্রদ্রোহ’ একটি মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ। যদি এসব খেলোয়াড়কে জোর করে দেশে ফেরত পাঠানো হয়, তাহলে তারা ইচ্ছামতো আটক, এমনকি মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকির মুখেও পড়তে পারেন।’
এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওয়ং বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া নিপীড়নের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করা সাহসী ইরানি জনগণের পাশে রয়েছে।’
রিফিউজি কাউন্সিল অব অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী পল পাওয়ার অবশ্য ইরানি ফুটবলারদের আশার বাণী শুনিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, শরণার্থী কনভেনশন এমন পরিস্থিতিতে মানুষকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্যই তৈরি করা হয়েছে। তবে কোনো ব্যক্তি যদি আনুষ্ঠানিকভাবে আশ্রয়ের আবেদন না করেন, তাহলে কোনো দেশ বাধ্যতামূলকভাবে ব্যবস্থা নিতে বাধ্য নয়।
আগামী ৮ মার্চ রোববার গোল্ড কোস্টে ফিলিপাইনের বিপক্ষে ইরানের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ। সেখানে বড় জয় পেলে ইরানের এশিয়ান কাপের তিনটি গ্রুপের মধ্যে সেরা তৃতীয় দল হিসেবে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা থাকবে।