এশিয়ান কাপে টানা তৃতীয় হার

বাংলাদেশ স্বপ্নই দেখেছিল অল্প কিছু পাওয়ার, উল্টো সেটাও দুঃস্বপ্ন হয়ে দেখা দিল

এশিয়ান কাপে টিকে থাকতে হলে জয়ের কোনো বিকল্প ছিল না বাংলাদেশের মেয়েদের। তবে এমন বাঁচা-মরার লড়াইয়ে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে নিজেদের সেরাটা তো দিতে পারেনইনি, তার ধারের কাছেও যেতে পারেননি ঋতুপর্ণা চাকমারা। নিজেদের থেকে ৬৩ ধাপ এগিয়ে থাকা উজবেকিস্তানের (র‍্যাঙ্কিং-৪৯) কাছে ৪-০ গোলে হেরেছে পিটার বাটলারের শিষ্যরা। আর তাতেই এশিয়ান কাপ থেকে বাংলাদেশের বিদায় নিশ্চিত করে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে উজবেকিস্তান।

 টুর্নামেন্টের আগে বাংলাদেশের দিক থেকে এই ম্যাচকেই ‘টার্গেট’ করার কথা বলা হয়েছিল। তৃতীয় হওয়া দলগুলোর মধ্যে সেরা দুটি যাবে কোয়ার্টার ফাইনালে, উজবেকিস্তানকে হারিয়ে এই দুই দলের মধ্যে একটি হওয়ার ক্ষীণ আশা বাংলাদেশ দেখেছিল। কিন্তু চীনের সঙ্গে দারুণ লড়াইয়ের (২-০ গোলে হার) নর্থ কোরিয়ার বিপক্ষে পাঁচ গোল খেয়ে যাওয়া বাংলাদেশের মেয়েদের কোনো লক্ষ্যই পূর্ণ হলো না। উল্টো যাদের হারানোর স্বপ্ন দেখেছিল, তাদের কাছেই খেয়ে গেল এক হালি গোল। 

অথচ ম্যাচের শুরুটা বাংলাদেশ করেছিল আগের দুই ম্যাচ থেকে আলাদা ঢংয়ে। চীন ও নর্থ কোরিয়ার বিপক্ষে শুরুতে আক্রমণ করতে না পারলেও উজবেকিস্তানের বিপক্ষে তা পেরেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু প্রথম দিকে আফঈদা খন্দকাররা ইতিবাচক ফুটবল খেললেও সফলতার দেখা পায় উজবেকিস্তান। 
 
ম্যাচের ১০ মিনিটে বাংলাদেশের ডিফেন্ডারদের মার্কিং ব্যর্থতায় ফরোয়ার্ড খাবিবুল্লায়েভার দুর্দান্ত শটে এগিয়ে যায় উজবেকিস্তান। শুরুর দিকে পিছিয়ে পড়লেও ঋতুপর্ণারা দমে যাননি।
 
৩০তম মিনিটেই বাংলাদেশ গোলের দেখা পেতে পারত। তবে ঋতুপর্ণা চাকমার বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া শক্তিশালী শট চমৎকার দক্ষতায় রুখে দেন উজবেক গোলরক্ষক মাফতুনা জনিমকুলোভা।

এরপর ফের ৪২তম মিনিটে সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। তহুরা খাতুন বক্সের মধ্যে বল পেয়ে শট নেন। সেই শট ফিরে এলে কোহাতি কিসকু বল পান। গোলরক্ষক বক্সের মাঝামাঝি এবং পোস্ট অরক্ষিত ছিল তখন। কিন্তু গোলের সুযোগ থাকলেও কোহাতি শট পোস্টেই রাখতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। 

দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে উঠে আফঈদারা। আক্রমণে ধার বাড়ালেও কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়নি ঋতুপর্ণারা। উল্টো ৬২তম মিনিটে ব্যবধান দিগুণ করে উজবেকিস্তান। মাঝমাঠ থেকে বক্সের ভেতর বল পেয়ে উমিদা জোইরোভা বল পাঠান দিলদোরার নোজিমোভা উদ্দশ্যে। এরপর সহজেই মিলি আক্তারকে পরাস্ত করেন দিলদোরা।

বাংলাদেশ এরপর ম্যাচে ফিরবে কী, উল্টো চার মিনিট পর আরেক গোল খেয়ে যায়। ৬৬ মিনিটে বাংলাদেশ আক্রমণে উঠে শেষ পাসটা ঠিকঠাক দিতে পারেনি, পাল্টা আক্রমণে ওঠে উজবেক মেয়েরা। কয়েক সেকেন্ড পরই বল বাংলাদেশের জালে! 

৩ গোল করা উজবেকিস্তান তখন কোয়ার্টার ফাইনালের সমীকরণের সামনে দাঁড়িয়ে। আর এক গোল করতে পারলেই তৃতীয় স্থানে থাকা সেরা দ্বিতীয় দল হিসেবে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেবে তারা – হিসেব তখন এমন। 

৭০ মিনিটেই সেই সমীকরণ নিজেদের পক্ষে প্রায় নিয়েই গিয়েছিল উজবেকিস্তান। ডি বক্সের ভেতরে বাংলাদেশের গোলকিপার মিলি লো জাম্প দিয়ে বল ধরছিলেন, এমন সময় তার হাত থেকে বল কেড়ে নিয়ে গোল করে বসেন উজবেকিস্তানের আসালকন আমিনজোনোভা। সঙ্গে সঙ্গে উল্লাসে মাতলেও তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ভিএআর যাচাইয়ের পর রেফারি বাতিল করেন গোলটি।

৩ গোলে পিছিয়ে পড়া বাংলাদেশ আক্রমণের চেষ্টা করলেও উজবেকিস্তানের ডিফেন্ডারদেরে ফাঁকি দিতে পারেনি। উল্টো কোয়ার্টার ফাইনাল যাওয়ার জন্য উজবেকিস্তানের সেই কাঙ্ক্ষিত গোলটি আসে ৮৮ মিনিটে। বক্সের ভেতর নিলুফার কুদ্রাতোভার শট চেষ্টা করেও ঠেকাতে পারেননি বাংলাদেশের গোলরক্ষক মিলি।