সাফ অনূর্ধ্ব-২০

পাকিস্তান দৌড়েই গেল, বাংলাদেশ তাদের নাচিয়ে ছাড়ল

এত কিছুর মধ্যেও পাকিস্তান একবার বল কীভাবে জালে জড়াল, সে নিয়ে ম্যাচ শেষে নিজের খেলোয়াড়দের বকুনি দিতে পারেন বাংলাদেশ কোচ মার্ক কক্স। রেফারির বদান্যতায় সেটা গোল দেওয়া হয়নি, হেড করার পথে পাকিস্তানের খেলোয়াড় বাংলাদেশ গোলকিপারের ওপর ফাউল করেছেন বলে রায় দিয়েছেন রেফারি। তবে ভিডিওতে দেখা গেছে, গোলটা বৈধই ছিল।

গোলটা হলে সে সময় ম্যাচ ১-১ সমতায় এসে যেত, বাংলাদেশ পড়ে যেত চাপে। তবে এটা যদি বাংলাদেশের স্বস্তি হয়ে থাকে, তাহলে পাকিস্তানের স্বস্তি এটাই যে, তারা আধডজন গোল খায়নি! বাংলাদেশ যে সব করেও গোলটা ঠিকঠাক বের করতে পারেনি। পারলে কী আর পাকিস্তান মাত্র দুই গোল খেয়ে হোটেলে ফেরে!

তবে গোল ঠিকঠাকমতো না হলেও যেটা করার দরকার ছিল, সেটা ঠিকই করে এসেছে বাংলাদেশ দল। ছেলেদের অনূর্ধ্ব-২০ সাফে গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আজ পাকিস্তানকে ২-০ গোলে হারিয়েছেন বাংলাদেশের তরুণরা। গ্রুপের তিন দলের মধ্যে যেহেতু দুটিই সেমিফাইনালে উঠবে, সে ক্ষেত্রে সেমিফাইনালের পথে এগিয়ে যেতে আজ পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়ের বিকল্প ছিল না বাংলাদেশের। আগামী ২৮ মার্চ গ্রুপের শেষ ম্যাচে ভারতের সামনে এখন অনেকটা নির্ভার হয়েই নামতে পারবেন বাংলাদেশের ফুটবলাররা।

তা ম্যাচে কেমন খেলেছে বাংলাদেশ? এক কথায় বললে, পাকিস্তান পুরো ম্যাচে দৌড়ে বেড়িয়েছে, আর বাংলাদেশ তাদের ৯০ মিনিটজুড়ে নাচিয়ে ছেড়েছে। আর এ জয়ের বিশেষত্ব হয়ে উঠবে এটি যে, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী দুই ভাই রোনান সুলিভান আর ডেকলান সুলিভানের মধ্যে স্ট্রাইকার রোনান সুলিভান বুঝিয়ে দিয়েছেন, কেন তাঁকে নিয়ে এত মাতামাতি! বাংলাদেশের দুই গোলের দুটিই রোনানের। প্রথমটি তো চোখধাঁধানো!

বিরতির আগে হাজারো আক্রমণ করেও শেষ পাস বা ক্রসটা ঠিকঠাক দিতে না পারার ব্যর্থতায় গোলশূন্য ড্র নিয়েই ড্রেসিংরুমে ফেরা বাংলাদেশ দল দ্বিতীয়ার্ধে বক্সে বল পাঠানোর ক্ষেত্রে আরও কৌশলী হয়েছে, আর তাতে দ্বিতীয়ার্ধে আসল রূপে দেখা দিয়েছেন রোনান। তবে ৫৪ মিনিটে বাংলাদেশের প্রথম গোলটা শুধুই তাঁর ব্যক্তিগত দক্ষতার গল্প।

প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে ফ্রি-কিক পেয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ঝাঁকড়া চুলের রোনান ডান পায়ের এমনই বাঁকানো শট নিলেন যে, সামনে থাকা পাকিস্তানি মানবদেয়াল কিংবা তার পেছনে ঝাঁপিয়ে পড়া গোলকিপার সবই দর্শক। বল জড়িয়ে গেল ডান পোস্ট ঘেঁষে জালে। মালের স্টেডিয়াম মাতিয়ে রাখা হাজারো দর্শকের প্রায় সবাই-ই ছিলেন বাংলাদেশি সমর্থক, গোলটার পর আওয়াজ কেমন গগনবিদারী হয়েছে সেটা তাই সহজেই অনুমান করে নেওয়া যায়।

গোলের পর বাংলাদেশ আরও গোছানো আক্রমণ শুরু করল, সেটা হয়তো পাকিস্তান গোল ফেরত দেওয়ার তাড়ণায় একটু বক্স ছেড়ে এগোনোর সাহস করার কারণেই। তবে এ সময়েই বাংলাদেশের সব আক্রমণের শেষবিন্দু হয়ে উঠছিলেন রোনান। ৭২ মিনিটে বাঁ দিক থেকে ক্রস এল, অনায়াস হেডে সেটিকে জালে জড়িয়ে দিলেন রোনান।

তবে পুরো ম্যাচে বাংলাদেশের ‘জার্সি নাম্বার টেন’ নাজমুল, মিডফিল্ডার চন্দন, কিংবা রাইট উইঙ্গার মুরশেদ আলী নজর কেড়েছেন বেশ।