একদিকে কলোরাডো র্যাপিডসের ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন, অন্যদিকে ম্যাচটি আবার লিওনেল মেসির ইন্টার মায়ামির বিপক্ষে। অনুমিতাবেই মাঠে বিপুল দর্শক সমাগম হওয়ার কথা। সে কারণে নিয়মিত ভেন্যু ডিকস স্পোর্টিং গুডস পার্ক থেকে সরিয়ে ম্যাচটা নেওয়া হয় মাইল হাইয়ের এমপাওয়ার ফিল্ডে।
মায়ামির বিপক্ষে কলোরাডোর ম্যাচটি দেখতে গ্যালারিতে উপস্থিত হন ৭৫ হাজার ৮২৪ জন। মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ইতিহাসে এক ম্যাচে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দর্শক উপস্থিতির রেকর্ড এটি। এমন বিপুল দর্শকের সামনে ম্যাচের সব আলো কেড়ে নেওয়ার পাশাপাশি ম্যাচের ভাগ্যও গড়ে দিয়েছেন মেসি। আর্জেন্টাইন মহাতারকার জোড়া গোলেই ম্যাচটা ৩-২ ব্যবধানে জিতেছে মায়ামি।
মায়ামির জন্য এ জয়টা ছিল ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। লিগে আগের চার ম্যাচের তিনটিতেই ড্রয়ের পর হঠাৎই মায়ামির প্রধান কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ান হাভিয়ের মাচেরানো। আর্জেন্টাইন এ কোচের আকস্মিক পদত্যাগে পদত্যাগের পর এটাই ছিল মায়ামির প্রথম ম্যাচ। আর এ ম্যাচে মায়ামির ডাগআউটে ছিলেন গিয়ের্মো হয়োস। অবশ্য মায়ামির নতুন কোচও একজন আর্জেন্টাইন। তিনি আবার বার্সায় ইয়ুথ একাডেমিতে মেসির কোচদের একজন ছিলেন। তাঁর অধীনে মায়ামির শুরুটা হলো জয় দিয়েই।
ম্যাচের ১৮ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে মায়ামিকে এগিয়ে দেন মেসি। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে মাতেও সিলভেত্তির পাসে হেডে গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন হেরমান বেরতেরামে। ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েও স্বস্তিতে ছিল না মায়ামি। দ্বিতীয়ার্ধের ৫৮ থেকে ৬২- এই চার মিনিটে ব্যবধানে দুই গোল করে ২-২ সমতায় ফেরে কলোরাডো।
ম্যাচের ফল ড্র হবে বলেই মনে করা হচ্ছিল। এমন সময় মেসি ম্যাজিক। মধ্যমাঠ থেকে দেওয়া রদ্রিগো দে পলের পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডানপ্রান্ত দিয়ে কিছুটা এগিয়ে কাটইন করে বক্সে ঢোকেন মেসি। এরপর সামনে থাকা দুই ডিফেন্ডারের মধ্য দিয়ে দারুণ এক কোনাকুনি শটে জালে বল জড়ান আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি। মেসির জয়সূচক এ গোলেই পূর্ণাঙ্গ তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে মায়ামি।
অবশ্য শেষদিকে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছেড়েছেন মায়ামির ইয়ানিক ব্রাইট। ৮৭ মিনিটে গিয়ে ১০ জনে পরিণত হলেও খুব একটা সমস্যা হয়নি মায়ামির।
গতকালের জয়ে ৮ ম্যাচে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে এমএলএসের পয়েন্ট তালিকার দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে মায়ামি। সমান ম্যাচে ১৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে ন্যাশভিলে।