আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ দল কেমন হলো

দলটার নাম যখন আর্জেন্টিনা, তার ওপর বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন- সেই দলের বিশ্বকাপ স্কোয়াড নিয়ে সমর্থকদের আগ্রহ থাকাটাই স্বাভাবিক। এ কারণেই হয়ত আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ দল ঘোষণায় বিলম্ব নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছিল।

সেই আলোচনার মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছেন লিওনেল স্কালোনি। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ২৬ সদস্যের আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছেন তিনি। এতে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে, কেমন হলো আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ দল, এই স্কোয়াড নিয়ে কি শিরোপা শিরোপা ধরে রাখতে পারবে আর্জেন্টিনা?

দল দেওয়ার ক্ষেত্রে স্কালোনি সবচেয়ে বেশি ভরসা করেছেন কাতারে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ এনে দেওয়ার কারিগরদেরই। ২০২২ বিশ্বকাপের দলটা থেকে ১৭ জনকে আসন্ন বিশ্বকাপের দলে রেখেছেন স্কালোনি।

গোলকিপার পজিশনে অনুমিতভাবেই আছেন এমিলিয়ানো মার্তিনেস। অবশ্য অ্যাস্টন ভিলায় খেলা ৩৩ বছর বয়সী মার্তিনেস এখন আঙুলের চোটের সঙ্গে লড়ছেন। বিকল্প হিসেবে আতলেতিকো মাদ্রিদে দুর্দান্ত মৌসুম পার করা হুয়ান মুসোকে রেখেছেন স্কালোনি। সঙ্গে আছেন হেরোনিমো রুইয়ি।

সেন্টার ব্যাক হিসেবে স্কালোনি ভরসা রেখেছেন ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, নিকোলাস ওতামেন্দি, লিসান্দ্রো মার্তিনেস, ফাকুন্দো মেদিনা, লিওনোর্দো বালেরদির ওপর। এ পজিশনে আলোচিতদের মধ্যে জায়গা হয়নি মার্কোস সেনেসির।

রাইট ব্যাক পজিশনে নাহুয়েল মলিনার সঙ্গে গনসালো মন্তিয়েলকে রেখেছেন স্কালোনি। আর লেফট ব্যাকে জায়গা পেয়েছেন শুধু নিকোলাস তাগলিয়াফিকো। অবশ্য প্রয়োজনে মেদিনা এই পজিশনে খেলতে পারেন। এমনকি লেফট উইঙ্গার নিকোলাস গনসালেসকেও নিচে নামিয়ে খেলাতে পারেন স্কালোনি। এছাড়া মিডফিল্ডে খেলা ভালেন্তিন বার্কোকেও প্রয়োজনে লেফট ব্যাকে খেলাতে পারবেন আর্জেন্টিনা কোচ।

এরপরও আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ নিয়ে সমর্থকদের মাথাব্যথা হতে পারে। একদিকে রোমেরো চোট কাটিয়ে ওঠার লড়াইয়ে আছেন। সুস্থ হয়ে ফিরলেও পুরোপুরি ফর্ম ফিরে পাবেক কি না, সেটা নিয়ে সংশয় থেকে যায়। অন্যদিকে ওতামেন্দির অভিজ্ঞতা থাকলেও বয়সের কারণে গতি কিছুটা কমে গেছে। বিশ্বকাপের তরুণ গতিসম্পন্ন ডিফেন্ডারদের সামনে ৩৮ বছর ওতামেন্দি কতটা কার্যকরী হতে পারবেন, সেটা নিয়েও প্রশ্নের জায়গা আছে।

আর্জেন্টিনার মিডফিল্ড অবশ্য পরীক্ষিত। অনুমিতভাবে আছেন এনসো ফের্নান্দেস, আলেক্সিস মাকআলিস্তার, লেয়ান্দ্রো পারেদেস কিংবা রদ্রিগো দে পলের মতো তারকারা। মিডফিল্ডে আলোচিতদের মধ্যে জায়গা হয়নি অ্যাস্টন ভিলায় দুর্দান্ত একটা মৌসুম কাটানো এমিলিয়ানো বুয়েন্দিরার। তাঁর পরিবর্তে লো সেলসোর অভিজ্ঞতায় ভরসা রেখেছেন স্কালোনি। তবে এমন পরীক্ষিত মিডফিল্ডারদেরও চলতি মৌসুমের ক্লাবের জার্সির পাফরম্যান্স ওঠানামা করেছে। বিশ্বকাপে যেন সেটা না হয়, তেমনটাই হয়ত চাওয়া থাকবে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের।

আক্রমণভাগেও চমক রেখেছেন আর্জেন্টিনা কোচ। রেয়াল মাদ্রিদে খেলা তরুণ সেনসেশন ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়োনোকে ডাকেননি। চমক হিসেবে রেখেছেন পালমেইরাসে খেলা হোসে মানুয়েল লোপেসকে। লাওতারো মার্তিনেস ও হুলিয়ান আলভারেসের সঙ্গে সেন্টার ফরোয়ার্ড হিসেবে পাস হতে পারে এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ট্রাম্পকার্ড।

এছাড়া প্রথমবার বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট খেলতে যাওয়া নিকো পাস, তিয়াগো আলমাদা কিংবা জিউলিয়ানো সিমেওনের মতো তরুণরাও হতে পারেন প্রতিপক্ষ ডিফেন্সের দুঃস্বপ্নের কারণ। তারকা কিংবা প্রতিভায় ঠাসা আক্রমণভাগের নেতৃত্ব নেবেন মেসি।

অবশ্য ২০২২ বিশ্বকাপ জয়ের পরপরই ইউরোপ অধ্যায় শেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) নাম লিখিয়েছেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি। বয়সটাও বাড়তে বাড়তে ৩৯ ছুঁইছুঁই। আগের মতো গতিও নেই। দু-তিন জনকে ড্রিবল করে দৌড়ও আর দেখা যায় না নিয়মিত।

এরপরও ফুটবলারটার নাম যখন মেসি, মুহূর্তের ম্যাজিকেই ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে পারেন। আর সে কারণেই আরেকবার বিশ্বকাপের স্বপ্নে বিভোর আর্জেন্টাইন সমর্থকেরা। দেখার বিষয়, এই দল নিয়ে সেই স্বপ্ন পূরণ করতে পারে কি না স্কালোনির দল।