বিশ্বকাপে দুর্দান্ত শুরু স্বাগতিকদের, ৪-১ ব্যবধানে হার প্যারাগুয়ের

শক্তিমত্তা ও পরিসংখ্যানের বিচারে আগে থেকেই এগিয়ে ছিল যুক্তরাষ্ট্র। মাঠের খেলাতেও তার প্রতিফলন দেখা গেল স্পষ্টভাবে। বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘ডি’-এর ম্যাচে প্যারাগুয়েকে ৪-১ গোলে হারিয়ে দারুণ সূচনা করেছে স্বাগতিকরা। লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে জোড়া গোল করেন ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুন।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে এটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় ম্যাচ। ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপে ৩-০ গোলে জয়ের পর এবারও জয় তুলে নিয়ে প্রতিপক্ষের বিপক্ষে শতভাগ সাফল্যের রেকর্ড ধরে রাখল তারা।

শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে স্বাগতিকরা। ম্যাচের সপ্তম মিনিটেই এগিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র। ওয়েস্টন ম্যাককেনি ও ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিকের দারুণ সমন্বয়ের পর বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালেই পাঠিয়ে দেন প্যারাগুয়ের মিডফিল্ডার ডামিয়ান বোবাদিয়া। আত্মঘাতী গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র।

এরপর কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে প্যারাগুয়ে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণ ও মাঝমাঠের দৃঢ়তায় তারা বড় কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। ২৮ মিনিটে বালোগুন গোল করলেও অফসাইডের কারণে সেটি বাতিল হয়।

তবে তিন মিনিট পর আর ভুল হয়নি। ৩১তম মিনিটে পুলিসিকের নিখুঁত পাস থেকে বক্সের ভেতরে বল পেয়ে ডান পায়ের জোরালো শটে ব্যবধান ২-০ করেন বালোগুন।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে আবারও আঘাত হানেন এই ফরোয়ার্ড। ৪৫+৫ মিনিটে মালিক টিলম্যানের পাস ধরে ডিফেন্স ভেঙে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের তৃতীয় গোল করেন তিনি। প্রথমার্ধে প্রায় ৭০ শতাংশ বলের দখল ছিল যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে।

বিরতির পর গোল শোধে মরিয়া হয়ে ওঠে প্যারাগুয়ে। অবশেষে ৭৩তম মিনিটে মাওরিচিওর গোলে ব্যবধান ৩-১ করে দলটি। তবে এরপর আবারও আক্রমণের গতি বাড়ায় স্বাগতিকরা।

ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত বাঁকানো শটে লক্ষ্যভেদ করেন গিওভ্যানি রেইনা। তার সেই গোলে ৪-১ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত হয় যুক্তরাষ্ট্রের।

দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে জোড়া গোল করে ম্যাচসেরা হওয়ার দাবিও জোরালো করেন ফোলারিন বালোগুন। বিশ্বকাপ মিশনে এমন উড়ন্ত সূচনা স্বাগতিকদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিল।