ছোট বেলায় জার্সি কেনার টাকা ছিল না। বাজার থেকে নকল জার্সি কিনে, জার্সির পেছনে ‘প্রিয় তারকা’ ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর নাম মার্কার দিয়ে হাতে লিখতেন ইয়ান দিওমান্দে। এতটাই অর্থকষ্টের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে দিওমান্দেকে।
সেই দিওমান্দেকে ক্লাব ইতিহাসে সর্বোচ্চ দামে কিনতে যাচ্ছে রেয়াল মাদ্রিদ! ক্রীড়া বিষয়ক সংবাদমাধ্যম ইএসপিএন এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে। ইএসপিএন জানিয়েছে, দুয়েকদিনের মধ্যেই এই চুক্তি সম্পন্ন হবে।
ক্লাব সূত্রের বরাতে ইএসপিএন জানিয়েছে, লাইপজিগে খেলা ১৯ বছর বয়সী রাইট উইঙ্গারকে পেতে ১৩ কোটি ৫০ লাখ ইউরো পর্যন্ত পর্যন্ত খরচ হতে পারে রেয়াল মাদ্রিদের। বাংলাদেশি অর্থমূল্যে যা প্রায় ১৯০০ কোটি টাকা!
তবে এর মধ্যে মূল ট্রান্সফার ফি হবে ১১ কোটি ৫০ লাখ ইউরো থেকে ১২ কোটি ইউরোর মধ্যে। চুক্তির বাকি অর্থ আসবে বিভিন্ন শর্তপূরণের ওপর ভিত্তি করে। যদি চুক্তির সব শর্ত পূরণ হয়, তাহলে দিওমান্দে হবেন রেয়াল মাদ্রিদ ইতিহাসে সবচেয়ে দামি ফুটবলার। পেছনে ফেলবেন জুড বেলিংহাম ও ইডেন হ্যাজার্ডকে!
দিওমান্দের যে এমন দাম উঠতে পারে, সেটা অনুমিতই ছিল। বর্তমানে তরুণ প্রতিভাদের মধ্যে দিওমান্দে নিজেকে আলাদা করে চিনিয়েছেন। সর্বশেষ মৌসুমে বুন্দেসলিগায় দুর্দান্ত পারফর্ম করেছেন তিনি। নিজে ১২ গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে আরও ৮ গোল করিয়েছেন দিওমান্দে। বিশ্বকাপেও আইভরিকোস্টের জার্সিতে নজর কাড়েন তিনি।
অবশ্য তাঁর উত্থানকে অবিশ্বাস্য ঠেকছে অনেকের চোখেই। মাত্র দুই বছর আগেও যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার ডেটোনা বিচের ডিএমই একাডেমিতে খেলতেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে যোগ দেন স্প্যানিশ ক্লাব লেগানেসে। শুরুতে ক্লাবটির রিজার্ভ দলের হয়ে খেললেও দ্রুতই নজর কাড়েন। ছয় মাস পরই তাকে দলে নেয় জার্মান ক্লাব লাইপজিগ।
গত মৌসুমে বুন্দেসলিগার অন্যতম সেরা খেলোয়াড় ছিলেন এই ফরোয়ার্ড। তার পারফরম্যান্সে লাইপজিগ লিগ শেষ করে তৃতীয় স্থানে। বুন্দেসলিগায় দিওমান্দে সর্বশেষ মৌসুমে কতটা দুর্দান্ত ছিলেন, সেটা উঠে আসে ছোট্ট একটা পরিসংখ্যানেও। জার্মান এ লিগে ১১৮টি সফল ড্রিবল করেন দিওমান্দে। যেখানে অন্য আর কেউ ৬৮টির বেশি সফল ড্রিবল করতে পারেননি। সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপেও আইভরি কোস্টের হয়ে চার ম্যাচে ১১টি গোলের সুযোগ তৈরি করেন দিওমান্দে। তবে তাঁর দলের বিশ্বকাপ যাত্রা থামে শেষ ৩২-এ, নরওয়ের কাছে হেরে।
দিওমান্দের পারফরম্যান্সের জেরে তাঁর ওপর নজর দেয় পিএসজিসহ আরও বেশ কয়েকটি বড় ক্লাব। তবে সবাইকে পেছনে ফেলে শেষ পর্যন্ত স্প্যানিশ জায়ান্টরাই তাঁকে দলে ভেড়াতে যাচ্ছে।
যে দিওমান্দে রেয়াল মাদ্রিদ ইতিহাসে সবচেয়ে দামি খেলোয়াড় হতে যাচ্ছেন, একসময় তাঁর আসল জার্সি কেনার সামর্থ্য ছিল না। সেই সময়কার স্মৃতি স্মরণ করে দিওমান্দে বলেছেন, ‘আমি নকল জার্সিতে রোনালদোর নাম লিখেছিলাম… আমার প্রথম জন্মদিনের উপহার ছিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের নকল জার্সি। কারণ আসল নাম লেখা জার্সি কেনার সামর্থ্য আমাদের ছিল না। তাই জার্সিটা ছিল একেবারেই সাদামাটা। আমি একটি কালো মার্কার দিয়ে নিজেই পেছনে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর নাম লিখেছিলাম। সঙ্গে N7 যোগ করেছিলাম, কারণ এটা আমাকে অনুপ্রাণিত করত।’
দিওমান্দে যোগ করেন, ‘যখনই ওই জার্সি পরতাম, মনে হতো আমি যেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। আমার শুধু স্বপ্ন ছিল— মাঠে সবাইকে ড্রিবল করে পেছনে ফেলব এবং যত বেশি সম্ভব গোল করব। এটাই ছিল আমার স্বপ্ন।’
সেই স্বপ্নের পরিধি বাড়তে বাড়তে সেখানে যোগ হতে যাচ্ছে রেয়াল মাদ্রিদের নাম।



