মেক্সিকোর পর কানাডাতে হলো বিশ্বকাপের জমকালো উদ্বোধন

মেক্সিকোর পর কানাডার টরন্টো স্টেডিয়ামে হয়ে গেল ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। কানাডার নিজস্ব সংস্কৃতি, আদিবাসী ঐতিহ্য ও বৈচিত্র্যের মেলবন্ধনে সাজানো এই অনুষ্ঠানে পারফর্ম করেছেন একঝাঁক বিশ্বখ্যাত দেশি-বিদেশি তারকা। 

গ্যালারি ভরা দর্শকদের উন্মাদনা আর চোখ ধাঁধানো আলোকরশ্মির ঝলকানিতে টরন্টো স্টেডিয়ামে শুরু হয় ফিফা বিশ্বকাপে কানাডা পর্বের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। পুরো আয়োজনটির মূল থিম ছিল কানাডার বহুত্ববাদ ও 'সাংস্কৃতিক মোজাইক'। অনুষ্ঠানের শুরুতেই দেশটির আদিবাসী ঐতিহ্য ফুটিয়ে তোলা হয়।

আদিবাসী পারফরম্যান্স শেষে, মঞ্চে আসেন কানাডিয়ান পপ তারকা অ্যালেসিয়া কারা। কানাডার বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতির ডামি পুতুলের আবহ তৈরি করে, সুরের জাদুতে দর্শকদের মুগ্ধ করেন তিনি। 

এরপরই টরন্টোর মঞ্চে লাগে এশিয়ান ও ফ্রেঞ্চ হিপহপ মিউজিকের দোলা। গ্লোবাল স্টার নোরা ফাতেহি, ফরাসি গায়ক ভেজেড্রিম এবং বাংলাদেশি-আমেরিকান ডিজে সঞ্জয় একসঙ্গে মঞ্চে এসে পরিবেশন করেন তাদের জনপ্রিয় ট্র্যাক “সির সির”। তাদের এই হাই-এনার্জি পারফরম্যান্সে নেচে ওঠে পুরো স্টেডিয়াম। 

উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে দিতে মঞ্চে আসেন টরন্টোর নিজস্ব শিল্পী জেসি রেয়েজ এবং ফিলিস্তিনি গায়িকা এলিয়ানা। ২০২৬ বিশ্বকাপের অফিশিয়াল অ্যালবামের অন্যতম জনপ্রিয় গান ‘ইলুমিনেট’ লাইভ গেয়ে শোনান এ দুই তারকা । প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সুরের এক অনন্য ফিউশন তৈরি করে তারা প্রথম পর্বের সমাপ্তি টানেন।

এরপর মাঠে প্রবেশ করে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর পতাকাবাহী দল। জমকালো ‘প্যারেড অব নেশনস’ শেষে মঞ্চে হাজির হন কানাডার চারবারের গ্র্যামিজয়ী কিংবদন্তি মিউজিশিয়ান মাইকেল বুবলে। তার ভরাট কণ্ঠে ‘ব্রিং ইট অন হোম টু মি’ গানটি পুরো স্টেডিয়ামে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি করে। 

অনুষ্ঠানের একেবারে শেষভাগে আসেন বিখ্যাত রক তারকা অ্যালানিস মরিসেট। তার শক্তিশালী কণ্ঠে কানাডার জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে শেষ হয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। এই সুরের মূর্ছনা শেষ হতেই মাঠের লড়াইয়ে নামে স্বাগতিক কানাডা ও বসনিয়া-হার্জেগোভিনা। 

সুর আর ফুটবলের এই মেলবন্ধন মনে করিয়ে দিল, মাঠের লড়াইয়ের বাইরেও বিশ্বকাপ মানেই বিশ্ব সংস্কৃতির এক মহা মিলনমেলা।