লিওনেল মেসি তো ফুটবলের সর্বোচ্চ ট্রফিটাও জিতে নিজের গল্পটা অমর করে ফেলেছেন। কিন্তু ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো? ৪১ বছর বয়সে এসেও যে মানুষটা থামেননি, এবারে রেকর্ড ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপে খেলতে নামবেন তিনি। কিন্তু রোনালদো কি পারবেন মেসির মতো শেষ হাসি হাসতে? নাকি এবারও ভাঙবে কোটি ভক্তের মন? আজ রাতে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে সিআর সেভেনের শেষ বিশ্বকাপ মিশন। আজকের ভিডিওতে আমরা জানব পর্তুগাল দলের ভেতরের সেই বিস্ময়কর সত্য, যা হয়তো রোনালদো ভক্তদের জন্য মোটেও সুখকর নয়!
যেখান থেকে শুরু
পর্তুগালের জাতীয় দলে রোনালদোর গল্পটা শুরু হয়েছিল ২৩ বছর আগে, কাজাখস্তানের বিরুদ্ধে একটা অতি সাধারণ প্রীতি ম্যাচ দিয়ে। মাত্র ৮ হাজার দর্শকের সামনে, ভাঙাচোরা এক মাঠে, যেখানে ঘাস কম থাকায় সবুজ রং দিয়ে মাঠ সাজাতে হয়েছিল! সেদিন কেউ ভাবেনি মাদেইরা দ্বীপ থেকে আসা এই রোগা ছেলেটাই একদিন ফুটবলের ইতিহাস নতুন করে লিখবে। ১৪৩টি আন্তর্জাতিক গোল করে আজ তিনি বিশ্বের সর্বকালের सर्वोच्च গোলদাতা। পর্তুগালের সাবেক কোচ জোয়াও আরোসো ঠিকই বলেছেন—রোনালদো একটা ছোট দেশকে পুরো পৃথিবীর কাছে চেনাচ্ছেন শুধু তাঁর অবিশ্বাস্য মানসিকতা দিয়ে।
রোনালদো কি এখন দলের বোঝা?
কিন্তু অতীত দিয়ে তো আর বর্তমান চলে না! এবারের বিশ্বকাপে রোনালদোকে ঘিরে পর্তুগালের ভেতরেই শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। ১৯৬৬ সালের কিংবদন্তি পর্তুগিজ তারকা আন্তোনিও সিমোয়েস রীতিমতো বোমা ফাটিয়েছেন। বলেছেন, ‘রোনালদো এখন দলের জয়ের জন্য খেলেন না, তিনি খেলেন নিজে নায়ক হওয়ার জন্য!’ ফুটবল পণ্ডিত সোফিয়া অলিভেইরা তো আরও এক ধাপ এগিয়ে বলেছেন, রোনালদোর এখন আর সেই ধার নেই যা দিয়ে বিশ্বকাপজয়ী দলের মূল একাদশে থাকা যায়। কিন্তু সত্যটা হলো পর্তুগাল তাঁর বিকল্প তৈরি করতেই পারেনি!
মার্তিনেসের বাজি
তবে সমালোচকদের এই কথাকে স্রেফ উড়িয়ে দিয়েছেন পর্তুগালের হেড কোচ রবার্তো মার্তিনেস। তাঁর কাছে যুক্তি একটাই, পরিসংখ্যান। মার্তিনেসের অধীনে রোনালদো ৩১ ম্যাচে ২৫টি গোল করেছেন! কিন্তু এখানেই রয়েছে টুইস্ট! বিতর্কটা আরও একটু উসকে ওঠে যখন দেখা যায়, পর্তুগাল তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয়টি পেয়েছে রোনালদোকে ছাড়াই, লুক্সেমবার্গকে ৯-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে। এমনকি গত নভেম্বরে আর্মেনিয়াকেও তারা ৯-১ গোলে হারায় রোনালদোর অনুপস্থিতিতে। তাই প্রশ্ন উঠছে, পর্তুগাল কি আসলে রোনালদোকে ছাড়াই বেশি ভয়ংকর?
ক্ষমতার দাপট?
পর্তুগালে রোনালদোর ক্ষমতা এখন আকাশচুম্বী। ২০২২ বিশ্বকাপে তাঁকে বেঞ্চে বসানোর সাহস দেখিয়েছিলেন তৎকালীন কোচ ফার্নান্দো সান্তোস। ফলাফল? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় তোলপাড় এবং টুর্নামেন্ট শেষেই তাঁর চাকরি চলে যায়। এমনকি সম্প্রতি পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশন খোদ রোনালদোর নিজস্ব কোম্পানির সাথে স্পনসরশিপ চুক্তি করেছে, যা নিয়ে স্বার্থের সংঘাত বা ‘কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট’-এর প্রশ্নও উঠেছে। যদিও ফেডারেশন এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট পেড্রো প্রোয়েনকা মেনেই নিয়েছেন, রোনালদো চলে গেলে স্পনসরশিপ বা রাজস্বের বাজারে বড় ধাক্কা লাগবে, তবে তারা ভেতরে ভেতরে রোনালদো-পরবর্তী যুগের জন্য প্রস্তুতিও নিচ্ছেন।
শেষ সুযোগ, শেষ লড়াই
রোনালদোর গতি হয়তো ২০০ কিলোমিটার থেকে কমে ১৯৫ কিলোমিটারে নেমেছে, কিন্তু সাবেক গোলরক্ষক রিকার্দো এবং তারকা অ্যাবেল শাভিয়েরের মতে, রোনালদোর মানসিক শক্তি এখনও প্রতিপক্ষের জন্য ধ্বংসাত্মক। পর্তুগালের হয়ে ইউসেবিওর ৯টি বিশ্বকাপ গোলের রেকর্ড ভাঙতে রোনালদোর আর মাত্র ১টি গোল দরকার।
canকিন্তু রোনালদোর লক্ষ্য রেকর্ড নয়, লক্ষ্য সেই সোনালী ট্রফি, যা তাঁর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মেসির ক্যাবিনেটে অলরেডি শোভা পাচ্ছে। প্রশ্ন হলো, নিজের শেষ বিশ্বকাপে এসে রোনালদো কি পারবেন মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে সব সমালোচনার জবাব দিতে? আইকনিক সিআর৭ কি পারবেন বহুল আরাধ্য সেই সোনালী ট্রফিটা হাতে নিতে?