রোনালদো দেখালেন, এভাবেও ফিরে আসা যায়

এভাবেও ফিরে আসা যায়। এভাবেই ফিরে আসতে হয়। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করে রোনালদো আরেকবার দেখিয়ে দিলেন, চারদিকে ধেয়ে আসা সমালোচনার জবাব কীভাবে দিতে হয়।

বিশ্বকাপ আর ইউরোর মতো বড় মঞ্চে টানা দশ ম্যাচ ধরে কোনো গোল ছিল না রোনালদোর। যে মানুষার নাম শুনলেই সবার আগে মাথায় আসে গোলের কথা, যে মানুষটা ফুটবল দুনিয়ায় সবচেয়ে বেশি গোল করেছেন, সেই মানুষটাকেই শুনতে হয়েছিল একের পর এক প্রশ্ন। রোনালদো কি শেষ? বড় ম্যাচে কি আর পারেন না? সময় কি ফুরিয়ে গেছে?

প্রতিটি ম্যাচের পর প্রশ্ন বেড়েছে। প্রতিটি মিসের পর সমালোচনা বেড়েছে। আর প্রতিটি দিন রোনালদোর কাঁধে একটু একটু করে যোগ হয়েছে নিত্য নতুন চাপ।

কিন্তু পৃথিবীর সবচেয়ে বড় খেলোয়াড়রা একটা জায়গায় আলাদা। তারা সমালোচনার জবাব মুখে দেয় না। তারা অপেক্ষা করে। সঠিক সময়ের জন্য। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে সেই সময়টা এল। একটা গোল। তারপর আরেকটা। শুধু জোড়া গোল নয়। মনে হলো, যেন বুকের ভেতরে জমে থাকা হাজারটা কথা একসঙ্গে বেরিয়ে এলো।

গোল করার পর রোনালদোর উদযাপনটা দেখুন। ওটা শুধু উদযাপন ছিল না। ওটা ছিল স্বস্তি। ওটা ছিল মুক্তি। ওটা ছিল একটা বার্তা। যারা বলেছিল, তিনি শেষ— তাদের জন্য। যারা বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছিল— তাদের জন্য। আর সবচেয়ে বেশি, নিজের জন্য। কারণ কিছু যুদ্ধ প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে হয় না। কিছু যুদ্ধ হয় নিজের ভেতরে। সন্দেহের বিরুদ্ধে। চাপের বিরুদ্ধে। সময় নামের নিষ্ঠুর সত্যের বিরুদ্ধে।

৩১, ৩২ কিংবা ৩৩ বছর বয়সে গোল করা হয়তো সহজ। কিন্তু ৪১ পেরিয়ে যাওয়ার পর, পুরো বিশ্বের চোখ যখন রোনালদোর দিকে, তখন উঠে দাঁড়ানো অন্যরকম ব্যাপার। সেটা সবাই পারে না। রোনালদো পেরেছেন। তাই এই দুই গোলের মূল্য শুধু তিন পয়েন্ট বা একটা জয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এই দুই গোল প্রমাণ করেছে—মহান খেলোয়াড়রা হারিয়ে যান না। হয়তো তারা কিছু সময়ের জন্য নীরব হয়ে যান। কিন্তু যখন ফিরে আসেন, তখন পুরো পৃথিবী সেটা টের পায়।

উজবেকিস্তানের বিপক্ষে গতকালের রাতটা ছিল ঠিক তেমনই। যে রাতে রোনালদো জোড়া গোল করেছেন। কিন্তু তার চেয়েও বড় কথা— তিনি আবার বিশ্বাস ফিরিয়ে দিয়েছেন। প্রমাণ করেছেন, সমালোচনা যত বড়ই হোক, একটা মুহূর্তই সব বদলে দিতে পারে।

সে কারণেই হয়তো ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজতেই ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে চিৎকার করে রোনালদো বললেন- I'm back। রোনালদো দেখিয়ে দিলেন, এভাবেও ফিরে আসা যায়।