সাউথ আফ্রিকাকে ১-০ গোলে হারিয়ে প্রথমবার ফুটবল বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে কানাডা। ম্যাচের যোগ করা সময়ে গোল করে, কানাডার ঐতিহাসিক জয়ের নায়ক অধিনায়ক স্টিভেন এস্টাকিও। শেষ ষোলোতে নেদারল্যান্ডস অথবা মরক্কোকে প্রতিপক্ষ হিসেবে পাবে কানাডা।
শেষ বত্রিশের লড়াইয়ে মাঠে নেমেই নতুন ইতিহাস লিখেছে সাউথ আফ্রিকা ও কানাডা। ফুটবল বিশ্বকাপে এটাই যে এ দুই দেশের প্রথমবার নকআউট দর্শন। দু'দলের সামনেই প্রথমবার শেষ ষোলতে জায়গা করে নেয়ার হাতছানি।
পরের রাউন্ডে যেতে মরিয়া কানাডা ম্যাচ জুড়ে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে। সে তুলনায় সাউথ আফ্রিকা আক্রমণে গিয়েছে অনেক কম। বল দখলে রেখেছে বেশি।
প্রথমার্ধের শেষে ডি-বক্সে ফাউলের শিকার হয়ে পেনাল্টি দাবি করেছিল কানাডা। কিন্তু রেফারি পেনাল্টি না দেওয়ায় হতাশ হয় বিশ্বকাপের সহ-আয়োজকেরা। সেই হতাশা কাটিয়ে বিরতির পর আরো আক্রমণাত্মক কানাডিয়ানরা।
একের পর এক আক্রমণ রুখে দিয়ে, ম্যাচ টাইব্রেকারের দিকে নিয়ে যাওয়াই ছিল সাউথ আফ্রিকার লক্ষ্য। তবে কানাডার চেষ্টা বৃথা যায়নি। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে, অধিনায়ক স্টিভেন এস্টাকিওর নিখুঁত এক শটে, গোল আদায় করে নেয় কানাডা।
এই গোলের পর নিশ্চিত হয়ে যায় সহ-আয়োজকদের জয়। ইতিহাস গড়ে, কানাডাকে শেষ ষোলতে নিয়ে গেলেন এস্টাকিও। এর আগে, দুই বিশ্বকাপ খেলে গ্রুপ পর্বই পার হতে পারেনি কানাডা। ছিল না কোনো জয়। এমন ঐতিহাসিক জয়ের নায়ক বিশেষ মুহূর্তে স্মরণ করলেন বাবা-মাকে। বছর তিনেক আগে, প্রায় একই সাথে বাবা-মা দুজনকেই হারান এস্টাকিও।
কানাডার অধিনায়ক স্টিভেন এস্টাকিও বলেন, ‘আমি যা করেছি তা আমার বাবা-মায়ের জন্যই সম্ভব হয়েছে। আমার মেয়ে, ভাই, বন্ধুরা, সবার অবদান রয়েছে এ্ই অর্জনে। আমাদের বিশ্বাস ছিল, আমরা পারবো। শেষ ষোলতে নেদারল্যান্ডস বা মরক্কো, যে দলই আসুক, তাদেরকে হারানোরও বিশ্বাস রয়েছে।’
রেকর্ডের পাতায় জায়গা করে নিলেন স্টিভেন এস্টাকিও। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে যোগ করা মিনিটে জয়সূচক গোল করা দ্বিতীয় ফুটবলার তিনি। ২০১৮ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে জাপানের বিপক্ষে যোগ করা মিনিটে গোল করে বেলজিয়ামকে জিতিয়েছিলেন নাসের শাদলি।